কোরআন এর আয়াত ফুটে উঠছে শিশুর ত্বকে

উত্তর রাশিয়ার দাগিস্তানে একটি মুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া শিশু আলিয়া ইয়াকুব এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ত্বকের নীচে জমাট রক্তের মতো হরফে পবিত্র কোরআন বা হাদিসের একেকটা বাণী লেখা ভেসে ওঠে। ঘটনাটি ২০০৯ সালের। বিশ্বব্যাপি ঘটনাটি বেশ আলোড়ন তুলেছি। সেই সময়ের তোলা ছবি নিয়ে আলিয়া ইয়াকুব এর বাড়ীতেই প্রদর্শনী কেন্দ্র চালু হয়েছে।  যা দেখতে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলমান তার বাড়িতে ভিড় করছে। 

অলৌকিক এই ঘটনার বিষয়টি প্রথম সামনে নিয়ে আসে ব্রিটেনের গার্ডিয়ান পত্রিকা।

গার্ডিয়ান, এবিসিনিউজ, রয়টার্স এ প্রকাশিত তথ্যমতে জানা যায়, দাগিস্তানের ধর্মীয় নেতারা জানান, আলি ইয়াকুবের ডান পায়ে প্রকাশিত আয়াতে লেখাটি হচ্ছে একটি হাদিসের বানী। যার অর্থ, “আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তাহলে হাসতে কম কাঁদতে বেশি।’ একজন বিদেশী সাংবাদিকদের আগমনের সময়, এই আয়াতটি একটি চিঠিতে রূপান্তরিত  হয়েছিল।  শিশুটির পেটে ‘আল্লাহ’ গলায়, পায়ে, ঘাড়ে, পিঠে ও কানে আল্লাহর নাম। 

রাশিয়ার দাগেস্তানে ৯ মাস বয়সী শিশুর শরীরে কোরাআনের আয়াতগুলো দেখা যাচ্ছে। ছবি-সংগৃহিত।

ভেসে উঠা শব্দগুলো কয়েক ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট গোলাপী রঙের জন্ম চিহ্নের মতো। আলীর বাবা-মা প্রথমে সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে তারা আসলে এটিকে জন্মদাগ বা ত্বকের সমস্যা মনে করেছিলেন কিন্তু ডাক্তাররা এটি ব্যাখ্যা করতে পারত না। এরপরেই তার শরীরের বিভিন্ন অংশে কোরআনের আয়াত প্রদর্শিত হতে থাকে এবং একটি নতুন আয়াত উপস্থিত হওয়ার আগে থেকে আলীর শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ১০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে।

ছবি-সংগৃহিত।

তার মা সাংবাদিকদের বলেন, “এসময় তাকে ধরা অসম্ভব হয়ে যায়, সে কাঁদতে থাকে। দেহের যে অংশটিতে এই আয়াতে উপস্থিত হয় সেখানকার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি [সেলসিয়াস] পর্যন্ত বেড়ে যায় এবং সে সারা রাত ঘুমায় না।”

স্থানীয় সেবিকা সাইদা রাসুলভো বলেন, “চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি এটিকে কোনভাবে ব্যাখ্যা করতে পারছি না।”

আরো রহস্যজনক ঘটনা জানান রাসুলভো। তিনি বলেন যে, শিশু আলীর সেরিব্রাল প্যালেসি এবং একটি ইস্কিমিক হার্টের (হার্ট পেশীকে রক্ত ​​সরবরাহ কমিয়ে দেয়) সমস্যা রয়েছে কিন্তু আলী তারপরেও এখনো সুস্থ আছে।

কিজলার শহরে আলীকে দেখতে প্রতিদিন প্রায় ২০০০০ লোক উপস্থিত হয়। সেখানে সবুজ পতাকা দিয়ে পথ (সবুজ ইসলামের রঙ)তৈরি করা হয়। স্থানীয় পুলিশও সেখানে নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে।

চেচনিয়ার সীমান্তে রাশিয়ার উত্তর ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত ডাগিস্তান একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম প্রজাতন্ত্র। 

কিজিয়ার অঞ্চলের প্রধান সগিদ মুর্তজালিয়েভ সাংবাদিকদের বলেন, “এই অলৌকিক ঘটনাটি আমাদের নেতৃত্বের জন্য একটি সিগন্যাল বা বাতা দেয়, যা আমাদের ভাইবোনদের শান্তি খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। আমরা কখনই ভুলে যাব না যে এখানে যুদ্ধ চলছে।

রহস্যউন্মোচন

মদিনার একজন মুসলিম ইমাম ও তার ছেলে যিনি রহস্য উন্মোচনে পারদর্শি, তারা আরো রহস্যজনক ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি লিখিত যে বিশ্বের শেষের দিক থেকে এই ধরণের চিহ্নগুলি মানুষের দেহে প্রদর্শিত হবে।” 

 বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ‘এটি আল্লাহর কুদরত ও মহানবী স-এর মুজিযা। যে কোনও কারণে আল্লাহ তা তার বান্দা অথবা প্রকৃতির মধ্যে প্রকাশ করে থাকেন। যাতে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ ও ঈমান মজবুত করতে পারে।’
অনেকে বলছেন, ‘এটি ইমাম মাহাদির আগমনের অন্যতম নমুনা। কিয়ামতের নিদর্শনও হতে পারে এটি।
টিভিতে বলা হয়, প্রতিদিন আলিয়া ইয়াকুবদের বাড়িতে গড়ে ২ হাজার লোক বিস্ময়কর এ ঘটনা দেখতে আসেন।

শিশুটির চিহ্নগুলি প্রকাশ করে যে মুফতিদের রাশিয়ান কাউন্সিল মুসলমানদেরকে “আল্লাহর পথে, জ্ঞানের দিকে ফিরতে” সতর্ক করছে।

রুশ নিউজ এজেন্সি ইন্টারফ্যাক্সের মতে, [তাদের উচিত] তাদের পাপের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং তাদের দ্বন্দ্ব এবং আজকের দুঃসাহসী সংঘর্ষের অবসান ঘটানো। এ ঘটনা আজকে দাগিস্তান এবং সমগ্র ককেশাসকে সুখী করতে ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় পুলিশ সদস্যের সাথে বিয়ে করা মদিনা যিনি আলীর মা, তিনি বলেন, সন্দেহ নেই যে তার ছেলে্র এই অবস্থা এই অঞ্চলের সমস্যাগুলির সাথে যুক্ত।

তিনি বলেন, “আল্লাহ মহান এবং তিনি আমাদের নিরাপদ রাখার জন্য আমাকে অলৌকিক শিশু পাঠিয়েছেন”।