জেনে নিন সিলিন্ডারের গ্যাস মাপার নিয়ম । জেনে রাখা ভালো

জেনে নিন সিলিন্ডারের গ্যাস কতটুকু আছে। ছবি: সংগৃহীত

হমান সাহেব বেসরকারি একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। চাকরির সুবাধে রহমান সাহেবকে সিলেটে বসবাস করতে হয়। মিসেস রহমান শ্বশুর -শাশুড়ি, সন্তানদের নিয়ে নোয়াখালীর গ্রামে বসবাস করেন। শ্বশুর অসুস্থ থাকায় বাড়ির বাজার রহমান সাহেবকেই করতে হয়। প্রতি সপ্তাহে বৃহস্পতিবার আসেন আবার শনিবার চলে যান।  কোন সপ্তাহে আসতে না পারলে মিসেস রহমানকেই বাজারের থলি হাতে নিতে হয়। মিসেস রহমান লাকড়ির পরিবর্তে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করেন। পরিবারের সদস্য বেশি থাকায় একটি সিলিন্ডার বেশীদিন ব্যবহার করতে পারেন না তিনি। সিলিন্ডার বেশীদিন না যাক, কখন শেষ হবে বুঝতে পারলে তাও সমস্যা ছিল না মিসেস রহমানের। এমনও হয় অর্ধেক রান্নায় শেষ হয়ে গেছে গ্যাস। বাকি অর্ধেক রান্না করতে সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে ছুটতে হয় মিসেস রহমানকে। দোকান থেকে গ্যাস এনে রান্না সম্পূর্ণ করতে হয়। মিসেস রহমানের মত অনেকে এমন সমস্যায় পড়েন। অনেকে আবার গ্যাস কতটুকু আছে বোঝার জন্যে গ্যাসের সিলিন্ডার ঝাঁকিয়ে দেখেন। তাতেও নিশ্চিন্ত হওয়া যায় না। আজকে জানবেন সিলিন্ডারের গ্যাস  কতটুকু আছে তা কিভাবে বের করবেন?

ভারতীয় একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস আছে, একটি ভিজে কাপড়ের সাহায্যে তা সহজেই বোঝা সম্ভব।

মধ্যপ্রদেশের একটি সায়েন্স কলেজের অধ্যাপক বিজেন্দ্র রায়ের দাবি, যেখানে তরল কিছু থাকে, সেখানকার তাপমাত্রা খালি জায়গার তুলনায় কম হয়। ফলে সিলিন্ডারের যে অংশটুকুতে এলপিজি রয়েছে, সেই অংশটি শুকোতেও সময় বেশি লাগে।

গ্যাস কতটা আছে তা বোঝার জন্য প্রথমে ভিজে কাপড় দিয়ে সিলিন্ডারটিকে ভাল করে মুছতে হবে। এমনভাবে মোছা উচিত, যাতে সিলিন্ডারের গায়ে কোনও ধুলোর আস্তরণ থাকলে তাও উঠে যায়।

মোছা শেষ হলে দেখা যাবে সিলিন্ডার শুকোতে শুরু করেছে। দু’-তিন মিনিট পরে খেয়াল করলে দেখা যাবে সিলিন্ডারের কিছুটা অংশ শুকিয়েছে, বাকি অংশ ভিজে রয়েছে। সেই অংশ শুকোতে একটু সময় লাগছে।

অধ্যাপকের মতে, যতটা অংশ ভিজে থাকবে সেই অংশেই গ্যাস রয়েছে বলে ধরে নিতে হবে।

দুশ্চিন্তা দূর করার জন্যে এখনি প্রয়োগ করে দেখতে পারেন।


সিলিন্ডারের গ্যাস খুবই বাজে গন্ধযুক্ত। কোন অংশ লিক হলেই এই বাজে গন্ধ দ্রুত আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এমন উৎকট গন্ধ পেলেই সাবধান হয়ে যান। এই সময় কোন প্রকার আগুন জ্বালানো যাবে না। পাশাপাশি বাসার বিদ্যুৎ লাইনের মেইন সুইচ বন্ধ করে দিন। বাসার সকল দরজা, জানালা খুলে দিন যাতে বাতাস যাতায়াত করতে পারে। সিলিন্ডারের রেগুলেটর বন্ধ করুন এবং সেফটি ক্যাপ লাগান।

বিপদের সময় বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে মাথা ঠান্ডা রাখা। সিলিন্ডারের আগুন লাগলে দ্রুত একটি সুতির কাপড় অথবা পাটের বস্তা দিয়ে দিয়ে পুরো সিলিন্ডারটি ঢেকে দিন। তারপর দ্রুত রেগুলেটর ঘুরিয়ে সিলিন্ডারটি বন্ধ করে ফেলুন। দেখবেন আগুন নিভে যাবে।

x
গ্যাস সিলিন্ডার সোজা করে সঠিকভাবে সমতল জায়গায় রাখা খুবই জরুরি। সিলিন্ডার কখনোই ফেলা বা ঘষা-টানা করা উচিত নয়। রান্নাঘরে বাতাস চলাচলের যথেষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে। গ্যাস ব্যবহার করার সময় জানালা খুলে রাখুন। গ্যাসের পাইপ সময় সময় পালটানো দরকার। সিলিন্ডার বদল করার সময় রেগুলেটরটি লাগানোর সময় ঠিক করে লাগানো হয়েছে কিনা দেখে নিন। নয়তো বিপদের আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। ভর্তি বাড়তি সিলিন্ডার কখনই ঘরের মধ্যে রাখা উচিত নয়। খোলামেলা জায়গায় রাখুন, যেখানে ছায়া আছে। গ্যাস সিলিন্ডার থেকে তাপ দূরে রাখাই ভালো।

সুত্র: ডিএমপি নিউজ