পাখির ডাকে আমি জেগে উঠি । ৫ প্রজাতির পাখি

৫ প্রজাতির পাখি

মানুষের মনে একটি পাখির বসবাস। মানুষের সাথেই সে বেড়ে উঠে। মানুষের বয়স বাড়ে, বৃদ্ধ হয়। পাখি কখনো বৃদ্ধ হয় না। তাই নিজের আবেগ, অনুভূতি মানুষ পাখির সাথেই তুলনা করে। নিজের অনুভূতির কথাগুলো কবিতায় পাখি দিয়ে প্রকাশ করে। গানের সুরে পাখি  বলে গলা ছেড়ে গায়।

নগরের ব্যস্ততা ছেড়ে কিছু সময়ের জন্যে যখন গ্রামীণ সবুজ প্রকৃতির কাছে মানুষ ফিরে যায় তখন খুঁজে পায় পাখি নিয়ে শৈশবের স্মৃতি। সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গে গেলে নস্টালজিয়া জেগে বসে মনে।  মনের অজান্তেই গেয়ে উঠে ‘মন পাখি তুই আর কতকাল থাকবি খাঁচাতে‘ ।

বাংলাদেশের পাখির তালিকায় ৭৪৪টি পাখির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ৬২০ প্রজাতির পাখি বর্তমানে বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে। বাকি প্রজাতির পাখি বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যার মধ্যে ২৯ প্রজাতির পাখি পৃথিবীর অন্যদেশে দেখা গেছে। ৬২০ প্রজাতির মধ্যে ৩০১ টি বাংলাদেশের আবাসিক পাখি। বাকি পাখিরা বাংলাদেশে অনিয়মিত আবার কিছু আছে পরিযায়ী পাখি। আজকে জানবেন দেশীয় কিছু পাখির নাম ও পরিচিতি।

পাতি মাছরাঙা 

পাতি মাছরাঙা বা ছোট মাছরাঙা আলসেডিনিডি পরিবারের অন্তর্গত। পাতি মাছরাঙার বৈজ্ঞানিক নাম Alcedo atthis। মাছরাঙা বাংলাদেশের স্থানীয় পাখি। এদের দেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায় । এরা লম্বায় ১৬ সে.মি. হয়ে থাকে । পাখার বিস্তৃতি ২৫ সে.মি. এবং এদের ওজন ৩৪ থেকে ৪৬ গ্রাম হতে পারে। স্ত্রী পাখি দেখতে পুরুষ পাখির মতো; কিন্তু এদের নিচের চোয়াল কমলা লাল রঙের সাথে কালো দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পানির নিচে শিকার দেখার জন্য এরা বিশেষভাবে অভিযোজিত ।

বাংলা নীলকান্ত

বাংলা নীলকান্ত কোরাসিডি পরিবারের অন্তর্গত কোরাসিয়াস গণের এক প্রজাতির বিরল পাখি। ইংরেজি নাম  Indian Roller। বৈজ্ঞানিক নাম Coracias benghalensis। মাথার উপরের অংশে নীল এবং দেহের রঙ গাঢ় বেগুনি নীল এবং দেহের কিছু অংশ দেখতে মলিন নীল রঙের। লেজের পাখনার রঙ অনুজ্জ্বল সবুজ। বাংলা নীলকান্ত আকারে ২৬ থেকে ২৭ সে.মি. হয়ে থাকে।

লালমাথা কুচকুচি

লালমাথা কুচকুচি বা কুচকুচিয়া বা লাল ট্রোগন বা বাংলাদেশী ট্রোগন। বৈজ্ঞানিক নাম Harpactes erythrocephalus। ইংরেজি নাম Red-headed Trogon। হার্পাক্টিস গোত্রের অন্তর্গত দুর্লভ স্থানীয় পাখি। সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায়।লালমাথা কুচকুচি বিপন্ন পাখি বলে বিবেচিত হয়েছে। সমগ্র পৃথিবীতে আনুমানিক ১০ হাজারেরও কম পূর্ণবয়স্ক লালমাথা কুচকুচি রয়েছে।

পাতি হুদহুদ

পাতি হুদহুদ বা মোহনচূড়া। বৈজ্ঞানিক নাম Upupa epops  ইংরেজি নাম Eurasian Hoopoe। বাংলাদেশের স্থানীয় দুর্লভ প্রজাতির মাঝারি আকারের পাখি পাতি হুদহুদ। এদের দেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। পাখিটি নির্জন নদীর পাড়, আবাদি ও পতিত জমি, খোলা শুকনো মাঠ প্রভৃতি স্থানে একাকী বা জোড়ায় বিচরণ করে। ১০ থেকে ২০টি পাখি একত্রে বিচ্ছিন্ন একটি দল গঠন করে খাদ্যের সন্ধানে অথবা বাসা বানানোর জন্য স্থান বদল করে থাকে। হুদহুদ পাখির ডিমের রং নীল।

চাতক

চাতক পাখি পাকড়া পাপিয়া বা পাপিয়া নামেও পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম  Clamator jacobinus। ইংরেজি নাম Jacobin cuckoo। কুকুলিডি গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত। নিজেরা বাসা তৈরি করতে পারে না তাই অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। এক্ষেত্রে পুরুষ পাখিটি বাসার মালিককে অনবরত বিরক্ত করতে থাকে। স্ত্রী পাখি এই সুযোগে বাসার মধ্যে তার ডিমে তা দেয় এবং অন্যান্য ডিম নষ্ট করে ফেলে। এদের ডিমগুলো বড় এবং ফিরোজা নীল।