জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নিয়ে আমরা কতটুকু জানি?

বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা দেওয়া হয় ৯৯৯ টোল ফ্রি নাম্বার থেকে। অথচ এই সহজ এবং হাতের মুঠোই থাকা সেবাটি সম্পর্কে বাংলাদেশের অনেক মানুষই জানে না। ফলে বিভিন্ন বিপদে সাহায্য নিতে পারে না কেউ। যেমন ধরুন, কোনো এলাকায় আগুন লেগেছে, হঠাৎ করে ঐ মুহূর্তে  ফায়ার সার্ভিসের নাম্বার মনে নাও আসতে পারে, ফলে ফায়ার সার্ভিস ডাকতে দেরি হয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু চাইলেই সহজে ফায়ার সার্ভিস ডাকা যায় ৯৯৯ এ কল দিয়ে। আপনি ৯৯৯ এ ফ্রিতে কল দিয়ে আগুন লাগা স্থানের ঠিকানা জানালেই জাতীয় জরুরির সেবা থেকে তৎক্ষণাৎ আপনার কলটি নিটকস্থ ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হবে এবং দ্রুতই ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগা স্থানে চলে আসবে।

শুধু আগুন নয়, ব্যক্তিগত এবং সামাজিক যেকোনো ধরনের বিপদে পড়লেই কল দিতে পারবেন ৯৯৯ তে। যারা ৯৯৯ সম্পর্কে যারা আগে জানতেন না, এখন জেনেছেন, এখন থেকে রাস্তায় কাউকে অপরাধের শিকার বা দুর্ঘটনায় ভুগতে দেখে মনঃকষ্ট নিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বাড়ি ফিরতে হবে না আপনাদের। ৯৯৯–এ ফোন করে আপনি আপনার দায়িত্বটুকু পালন করতে পারেন। অনেক মানুষই এ ধরনের ঘটনা দেখে এড়িয়ে যান পরবর্তী সময়ে ‘পুলিশি ঝামেলা’র কথা ভেবে। তবে ৯৯৯-এ এ ধরনের কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হয় না, যদি তথ্যটি হয় সত্য।  তবে কেউ কৌতুহলবশত কিংবা মজা করে কল দেবেন না এই নাম্বারে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নিয়ে 

২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা
নাগরিকদের জরুরি সেবা দিতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করে যাচ্ছে জাতীয় জরুরি সেবা হেল্প ডেস্ক ৯৯৯। দুর্বৃত্ত আক্রান্ত নারী কিংবা প্রভাবশালীদের কবলে পড়া পুরোনো গাছ উদ্ধারে ভূমিকা রেখেছে ৯৯৯। আশপাশ থেকে সচেতন নাগরিকদের ফোন পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করেছে। আবার উঁচু দালানের কার্নিশে আটকে পড়া বিড়াল। ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসের সাহায্য নিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাণীকেও। গত ১৫ মাসে ৯৯৯ সেবায় বলার মতো আরও অনেক গল্প তৈরি হয়েছে।

গত বছরের এপ্রিলে ৯৯৯-এ ফোন করে মাদারীপুরের একজন জানান, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি শহরের ডিসির ব্রিজ এলাকায় সড়ক ও জনপথের জায়গার একটি পুরোনো কড়ইগাছ কাটতে শুরু করেছেন। ৯৯৯ জাতীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে তাঁর কলটি মাদারীপুর সদর থানায় ট্রান্সফার করা হয়। তাঁর অভিযোগ শুনে সদর থানার পুলিশ গিয়ে গাছটি রক্ষা করে। যদিও ততক্ষণে গাছের দুটি বড় শাখা কেটে ফেলা হয়েছিল। মাদারীপুর সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখানে শ্রমিকদের সরকারি গাছ কাটা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

৯৯৯ কল সেন্টার খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা
                                                 ৯৯৯ কল সেন্টার খোলা থাকে ২৪ ঘণ্টা


সহায়তার জন্য প্রসারিত হাত
দুর্ঘটনায় সহায়তা, বাল্যবিবাহ রোধ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেপ্তার, গৃহকর্মী নির্যাতন রোধ, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ ইত্যাদিতে ৯৯৯-এ তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেন লাখো মানুষ। ৯৯৯-এ ফোন করে ঝামেলা এড়িয়ে সহজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেয়েছেন মানুষ।
..২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর এই সেবা চালু হয়। পুলিশের অধীনে পরিচালিত একটি জরুরি কল সেন্টার হলো ৯৯৯ জরুরি সেবা। এখান থেকে শুধু পুলিশ নয়, জরুরি প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যায়। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ এই সেবার জন্য ফোন করতে পারেন। সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রয়েছে এ সেবা। ৯৯৯–এ ফোন করতে কোনো খরচও নেই, এটি টোল ফ্রি।

জাতীয় জরুরি সেবা হেল্প ডেস্ক ৯৯৯–এর পুলিশ সুপার মো. তবারকউল্লাহ বলেন, শুরুতে এখানে প্রচুর কৌতূহলী মানুষের ফোন আসত। আর সে সময় মাত্র ৩৩টি ওয়ার্কস্টেশন ছিল। যার কারণে সেবাদাতাদের মধ্যে একধরনের অস্বস্তি কাজ করত। তবে এখন আর সেটি নেই। এখন ১০০টির মতো ওয়ার্কস্টেশন। আর কৌতূহলী মানুষের এ ধরনের ফোন কলের সংখ্যাও কমেছে। তাতে এখন আগের চেয়ে ভালোভাবে সেবা দেওয়া যাচ্ছে।

 

মহাসড়কে দুর্ঘটনাকবলিত কোনো ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করলে তাঁর অবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানা যায় কি না জানতে চাইলে তবারকউল্লাহ বলেন, এই জায়গায় তাঁদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে তাঁদের যে সিস্টেম সেটা এভাবেই ডিজাইন করা যে কোনো ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করলে তাঁর পরিচয় (মুঠোফোন নিবন্ধনের সময় দেওয়া তথ্য) ও অবস্থান সেবাদানকারীর কম্পিউটারের পর্দায় ভেসে উঠবে। উন্নত দেশগুলোর জরুরি সেবা এভাবেই চলছে। তবে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সব কটি মোবাইল ফোন অপারেটর ও রাষ্ট্রীয় সংস্থা জড়িত, তাদের সবাইকে এই বিষয়ে এখনো একত্র করা যায়নি। চেষ্টা চলছে।
আর ৯৯৯-এ ফোন করে কাউকে পরবর্তী সময়ে কোনো আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে না উল্লেখ করে তবারকউল্লাহ বলেন, এখানে তথ্যদাতার গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। তাঁর তথ্য প্রকাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্যদাতার পরিচয় প্রয়োজন হয়। সেটাও নিজস্ব চ্যানেলে মোকাবিলা করা হয়।

এই সেবা পেতে হলে বাড়তি কিছুই করতে হয় না। শুধু ৯৯৯-এ একটি কলই যথেষ্ট। বাকিটা হেল্প ডেস্ক থেকেও করা হয়ে থাকে।