কিছু প্রজাপতি পোষ মানানোর : মনিরা সুলতানা

ধান শালিক

শালিকে’র খয়েরি ডানা’য় লেপা সুখ
গেরুয়া ঠোঁটে বয়ে চলে বৈরাগ্য
তিনতাল ঝাপটা’য় আনন্দ শিহরন তোলে
মটর কালাই ক্ষেত জুড়ে
রুপবতী ফুলে’র শখ চেপেছে বেহিসাবী।

নিজেতে আজ মেঘের গন্ধ লুকায়
ইচ্ছেতে শিশির নামায় বেশ ;
জানে নাকি !
অতখানি রুপ নিয়ে ফুল
রেখে যায় মৌসুমী বাদলের রেশ।

তিরতির কাঁপা বুকে ঝটপট চায়
ডুবো নাক ডুবে যাক কমনীয়তায়;
খুঁটে খুঁটে জমা তার আনন্দ ছুঁয়ে-
উদাস গেরুয়া ঠোঁটেই রাখলো সে
যেন এক না ফুরানো পথ তৃষ্ণা ।

জেনে গেছে আজ
তৃপ্ততা’র ধুপকাঠি ঝাঁজ ।



পাথুরে পাথরের গল্প
 
মিঠু মিঠু নরম আলোর শৈশবে রঙধনু ছটার তিতির ছিল
সর্বস্ব বাজী রাখা ন্যাওটা কুকুরটাও পায়ে পায়ে থাকত ;
এই কুল ওকুল আনন্দ ছাপানো তুমুল কৈশোরে সাদা বেড়ালটা পোষ মেনেছিল খুব –
শীতের রাত্তিরে কোলে গুঁজে রাখতাম।
আর কে না জানে বিড়াল গুলো আদরের হয়।

কৈশোরটা যাই যাই কালে কিছু প্রজাপতি পোষ মানানোর
উথাল পাতাল ইচ্ছে বুকের অলিন্দে জমিয়ে রেখেছিলাম।
জানো !
তারুণ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে পুরে ছিলাম বুকের খাঁচায়!
এরপর !
কখন একসময় নিজেই হয়ে গেলাম তার সুরে গাওয়া ময়না;
সেই সময় খুব ক্রীতদাস পোষার শখ ছিল।

আজাকাল আমি বেশ অগোছালো পাথুরে রঙ এর
এক টুকরো পাথর কে পোষ মানিয়েছি
নির্বিকার অবয়বে অথচ কি ভীষণ বাঙ্ময়!
মরুভূমির তপ্ত রোদ, দেশীয় বর্ষা বাদল সয়ে খুব কাছে রইল সে
নিজেকে পরশ পাথর করে ছুঁয়ে দিতে চাইলে-

অভিমানী দৃষ্টিতে প্রশ্ন রাখলোঃ

কুঁড়িয়ে আনা “একেবারেই ব্যক্তিগত একটা পাথর
কে পোষ মানানোর মত ভুলের মারাত্মক খেসারত দিতে হয় জানো ?
– আমি বললাম ভেবে দেখিনি
পাথরে প্রাণ দিতে পারলে, ঈশ্বর বলে তিরস্কার করা হবে তোমাকে সেকথাও মনে রেখো!
– তাকে জানালাম তাহলে আর কাজ নেই ওমন উদ্ভট শখ এর।

প্রশ্ন এলো
পাথরে পাথরে ঘষা দিয়ে আগুন জ্বালাবো, নাকি পাথর ঘষে
শাণিত করব কবি হৃদয় ?
এও বুঝিয়ে দিলো নির্বিকার পাথরে আকার দিতে গেলেই বিপদ
প্রশ্নবানে জর্জরিত হতে পারি।

কবি সত্ত্বাকে তুমুল ধিক্কারে বিদায় জানিয়ে ফিরলাম প্রতিদিনের গৃহকাজেঃ
নিত্যদিনের থালাবাসনের ঝনঝনানিতে।
অগোছালো কবি আজ-
ঝনঝন করা শব্দে নিমগ্ন হয়ে শুধু কবিতার ঝংকারই শুনতে পেলো !


পড়ুয়া’র পাঠ তালিকা

কোলাহল থেমে এলে-
প্রদীপের টিমেটিমে সলতে অথবা নিয়ন আলো;
টেবিল ল্যাম্পের একচোখা আলোর অভিলাষ থেকে ড্রয়িংরুমের উথাল জোছনা।
বইখানা চুপচাপ শান্ত পোষমানা বেড়াল হয়ে
মিহিসুরে কাছে ডাকে।

দুরন্ত ঝঞ্ঝার ছটফটে রাত-
বাহিরে তুমুল দূর্নিবার নিকষিত অন্ধকারের গান !
ঝিরিঝিরি মনখারাপের কান্না কিংবা অজস্র শ্রাবনঢল
পথের দিশা খুঁজে না পাওয়া আধাঁর দশদিকে।
সোনামুখ করে বসে থাকে সে বুকের খাচাঁয়; শতাব্দীর আলো লুকিয়ে
মলিনতা ফোটে না তবুও।

ভোরের নরম ঘাসের মুক্তসেচাঁ আলোতে-
হলদে মলাটে রাখে শত অবেলার বেদনার শব্দ!
মূলত
তুমি হচ্ছ বালুকণা জমেজমে পাথরে আঁকা স্ফিংস !
যেখানে শিল্পীকে কেউ খোঁজে না – উপভোগ করে তার সৌন্দর্য্য।

এ সময়ের ব্যস্ত যাতায়াতে –
ঘোরলাগা কোন সুরের তালে লুকিয়ে ক্লাশের বাধ্য ছাত্রীর মত চেয়ে রও ব্ল্যাকবোর্ড পানে।
বিলাসবহুল পাঁচতারকার বিলাসিতায় সাইড টেবিলের কোনে নিজস্ব আভা ছড়াও নধরকান্তি প্রিয়।

বসরায়ীত হবার মেহেকশিত সুখ –
বাথটাব জল গোলাপ ফেনীল নিজস্ব মুহূর্তটুকুতে
ডানহাতে শোভা হয়ে থাকতে চাও তুমি !
বর্ষার ভেঁজা হাওয়া- বসন্ত মাতাল সমীরণ;
দুপুর ঝাঁঝের তপ্ততায় একমুঠো প্রশান্তি ফুরায়, অপেক্ষায় অপেক্ষায়
খোলা জানালার লোহার শিকের আদরে পা তুলে দিয়ে তোমাতে নিবিষ্ট হবার সময় গুনেগুনে লেবুপাতা সন্ধ্যা কাটে।

শরৎ স্বর্নখচিত রোদ্দুর দিনের নীলচে আয়োজনে ও লাল গালিচা হয়ে আহ্বান কর তুমি প্রিয়তম !
পাঠকের মনন ও মজ্জায় –
সব খানেই সব ভাবেই তুমি তুমি সুখ আলগোছে ছুঁয়ে করে প্রতীক্ষা।

সত্যিকার অর্থে
পড়ুয়ার পাঠ তালিকায় থাকা বই এর চেয়ে
প্রতীক্ষাকে
আর কেই বা চিনেছে অমন করে কবে !