বনানীর সেই এফ আর টাওয়ারের মালিক লিয়াকত আলী খান মুকুল

বনানীতে আগুন লাগা এফ আর টাওয়ার বা ফারুক রুপায়ন টাউয়ার ভবন মালিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জমির মূল মালিকসহ এফ আর  টাওয়ারের ফ্লোর মালিক মোট ২৪ জন। তারা প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ফ্লোরের মালিক। মুল ভবনটির মালিক রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। আর রূপায়ন হাউজিং এস্টেট এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর লিয়াকত আলী খান মুকুল। তিনি রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান। ফারুক রুপায়ন টাওয়ারটিতে ফ্লোর আছে মোট ২৩টি।

ছবি-সংগৃহিত

ভবনের জমির মূল মালিক এস এম এইচ ফারুক। ভবনটির ডেভেলপার কোম্পানি হচ্ছে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট।  সেই হিসেবে যৌথভাবে ভবনের নাম রাখা হয় ফারুক- রূপায়ণ টাওয়ার (এফ আর টাওয়ার)।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৫ সালে ভবনটির নির্মাণ কাজ শুরু করে রূপায়ন হাউজিং এস্টেট। ২০০৭ সালে জমির মালিক এস এম এইচ ফারুক ভবনটি বুঝে পান। তিনি একজন প্রকৌশলী।

এফ আর  টাওয়ারের চতুর্থ তলা থেকে ওপরের দিকে ২৩ তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্লোরে চারটি করে ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটে জায়গার পরিমাণ ১৫০০ স্কয়ার ফুট। ডেভেলপার কোম্পানি রূপায়ন ওই ভবনে তাদের অংশ বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করে দেয়।

রূপায়ন হাউজিং এস্টেট এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর লিয়াকত আলী খান মুকুল কিভাবে ১৮ তলা ভবনের অনুমতি নিয়ে ২৩ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে রাজউকের ভুমিকা নিয়েও।

১৮ তলা ভবনের অনুমোদন নিয়ে ২৩ তলা করার কারণ হিসেবে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দিতে পারেনি ভবন কর্তৃপক্ষ। এজন্য ডেভলপার কোম্পানির গাফিলতিকে দায়ী করছেন মালিক পক্ষ।

পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। দুদকে হাজিরাও দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান আবদুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এফ আর টাওয়ারের ফাইল দেখেছি। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর এই ভবনটির নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়। তাতে ১৮ তলা ভবন হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন দেখছি ভবনটি ২৩ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনটি নির্মাণের সময় নকশার আরও অনেক বিচ্যুতি ঘটানো হয়েছে। এই নির্মাণকাজের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তাদের খোঁজা হচ্ছে।’

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি ছিল। এ বিষয়ে তাদেরকে একাধিকবার নোটিশ করা হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দেবাশিষ বর্ধন জানান, এর আগে আমরা এফআর টাওয়ারটি একাধিকবার পরিদর্শন করি। ভবনের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার বিভিন্ন ত্রুটিসহ সেগুলো সমাধানে কিছু সুপারিশও করা হয়। এ বিষয়ে তাদের দুবার নোটিশও করা হয়। কিন্তু ভবন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে রুপায়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ২৩-তলা বনানীর এফ আর টাওয়ারের ৯ তলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট আগুন নেভানো ও হতাহতদের উদ্ধারের কাজ করে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেড ক্রিসেন্টসহ ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষিত অনেক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে। প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত ৭টায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।