অল্প মদ্যপানেরও রয়েছে ক্যান্সারের ঝুঁকি

গবেষকরা বলছেন, একজন নারী যদি সপ্তাহে ৭৫০ মিলিলিটারে এক বোতল ওয়াইন খান বা সপ্তাহে ১০টি সিগারেট খান – তাহলে তার ক্যান্সার হবার ঝুঁকি হবে একই সমান।

পুরুষের ক্ষেত্রে সপ্তাহে এক বোতল ওয়াইন বা সপ্তাহে পাঁচটি সিগারেটের ক্যান্সারের ঝুঁকি সমান সমান।

নারী ও পুরুষের জন্য এ্যালকোহল পানের উর্ধসীমা

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ্যালকোহলের চাইতে ধূমপানের ফলে ক্যান্সার হবার ঝুঁকি অনেক বেশি ।

তারা আরো বলছেন, এ ঝুঁকি কমানোর উপায় একটাই – সিগারেট খাওয়া সম্পূর্ন ছেড়ে দেয়া।

যুক্তরাজ্যে সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যগত ক্ষতির দিক থেবে বিবেচনা করলে মদ্যপানের কোন ‘নিরাপদ’ সীমা নেই।

তবে নারী ও পুরুষদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে যে তারা যেন সপ্তাহে ১৪ ইউনিটের বেশি মদ্যপান না করেন।

এর অর্থ হলো, সপ্তাহে ছয় পাইন্ট বিয়ার বা সাত গ্লাস ওয়াইন, বা ১৪ পেগ হুইস্কির বেশি নয়।

বিএমসি পাবলিক হেলথ নামের গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি তাদের জরিপে বলছে, এ্যালকোহল পানে মহিলাদের স্তন ক্যান্সার এবং পুরুষদের লিভার ও অন্ত্রের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

ব্রিটেনের ইনস্টিটিউট অব ক্যান্সার রিসার্চ-এর বিজ্ঞানী ড. মিনুক শুমেকার বলছেন, ক্যান্সার ঝুঁকির ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল। কাজেই এটা মনে রাখা দরকার যে এ জরিপে অনেক কিছুই অনুমান করে নিতে হয়েছে।

“এখানে ক্যান্সারের অনেক অনেক কারণকে বিবেচনায় নেয়া হয় নি। তা ছাড়া এ্যালকোহলের সমানুপাতিক সিগারেটের যে সংখ্যা বলা হয়েছে তা অনেক কম।”

“বাস্তবে মানুষ সপ্তাহে ৫-১০টির অনেক বেশি সিগারেট খায়।”

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টোব্যাকো এন্ড এ্যালকোহল স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক জন ব্রিটন বলছিলেন, এ জরিপে এটাও স্পষ্ট যে ধূমপান করা এ্যালকোহল পানের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর।

তবে ‘অল্প মদ্যপানেরও’ যে স্বাস্থ্য ঝুঁকি আছে – তা এই জরিপটি মানুষকে এটাও বোঝাতে সহায়ক হবে – একথাও বলছেন গবেষকরা।

সূত্র-বিবিসি