জাকারিয়া প্রীণনের গুচ্ছ কবিতা : কুফুরি লাগা জোছনা

হুপো

আধ খাওয়া
আপেলের মতো যেন
নিজেরে ছেড়ে গেছে কেউ।
রেহালে ভাঙছে সকাল;
আমপাড়া জুড়ে তার
রক্তের ছাপ ঘন হয়ে আসে—
যেন
ঘাস ফড়িং,
কিংবা মেয়েটির
চোখে,
কুফুরি লাগা জোছনা
অথচ
চোখের ভেতর
কেবলি
ঘুমের
দূর্গন্ধ আসে;
ঘাসে ঘাসে লাগে তার
ঘ্রাণ
একি দূরত্ব;
জীবনের,
বেহেস্তের, দোযখের?
নাকী
তার
ছায়া
মোহনচূড়া-গায়ে
মরাপাতা
দৌঁড়ায়
উঠোনে
যেন
গানের ভেতর
খেলা করে
সুর-না-জানা বাউল।



কোয়েল

এই যে খোঁপা ভরতি অন্ধকার; গান করে সিথানের পাশে—
সূর্যের স্তন থেকে চুষে নিয়ে সমস্ত আয়ু; যেন ঘুরছে গৃহের প্রতিটা দরজায়,
যেন চোখের মতো অন্ধ-বিভোর পথে হারাচ্ছে ভ্রাম্যমাণ মানুষ।
.
যেনবা শস্য কাটা শেষে জীবনের কাছে পতঙ্গ আয়োজন—
হাসছে বেলা-ভূমে ঝিনুকের মতন; হৃদয়ের ব্যথা হৃদয়ে করে গোপন।
দুরে—
পাতা কুড়ানির দিনে— কাফকা মেলে আছে বিষন্ন ময়ূর…
যেন এক গেঁড়ুয়া জীবনে শিশিরে উম নিচ্ছে কোয়েলের ডানা—


স্তন

আরো একটি ধর্ষিতার মুখ আঁক— তোমার স্তীর প্রতি
স্তনের সৌন্দর্য আঁক— কিম্বা মায়ের মুখ।

অথবা আঁক একটি নগ্ন উরু— যার বুকে তোমার ধর্মের মাদুলি
— কিম্বা তোমার বোনের একটি দীর্ঘশ্বাস।

তুমি একটি ধর্ষিতার স্তন আঁকলে— তীরস্কার করলে—
প্রার্থনা করলে সন্তানের সৌন্দর ভবিষ্যত—

তারপর—
তোমার শিশ্ন আঁকলে হুরের মাতৃকায়— মানুষ জানলো
—তুমি সৎ-পরিক্রমশীল যাজক— যার চোখ পাখির মতো পরকিয়াবাজ।