সাঈদ শ’র গুচ্ছ কবিতা : শরীরে টেনেছি গ্রীষ্মের পাঁচিল

অনতিক্রম্য

ডানা মেলা নিষিদ্ধ আমার জন্য
তবু চোখ মেলি, তাকিয়েই থাকি
সারা দিনরাত্রি আকাশ দেখি আজকাল
আমি কি পাখি? আচমকা উড়ে যাবো সুদূরে..

আমি যেন ফিরে যাচ্ছি পাহাড়, সমুদ্র,
নদী, খাল-বিল, বিস্তৃত আকাশ পরিসরে
বুকের ভেতর খলবল খলবল
ডানা ঝাপ্টানো আওয়াজ- ভাবতে ভাবতে

ডানাযুক্ত পাখি মনে হয় নিজেকে, সফল..

সেই থেকে বসে থাকতে থাকতে অধীর..

পাখি হয়ে উড়বো বোলে উড়ুক্কু ডানায়
বেমালুম ভুলে আছি বাড়ির দরোজা খোলার কৌশল..


পা’য়ের নিচে পৃথিবী

তোমারই পায়ের নিচে পথ
যে পথ গ্যাছে স্বর্গের দিকে
নরকের দিকেও যায়
যেদিকে যেতে চাও; যাও। করোনি তো শপথ?

তোমার পায়ের নিচে ধ্বংস!
মাটি সরলেই সুগভীর খাদ; সাড়ে তিনহাত কবর
যেখানে দীর্ঘপাতাল ঘুম- স্পন্দনহীন
যেখানে একবার চলে গেলে মানুষ ভুলে যায় মানুষের মুখ।

তোমার পায়ের নিচে পৃথিবী
যেখানে গ্রাম, জনপদ, সমাজ, রাষ্ট্র
শীতকালীন নৈশ আগুনে নরোম ওম
তবু সে মাটির বুকেই পদদলিত আজন্ম মানুষ

জানে মানব ধর্ম হাত-
যে করে চিরকাল শান্তি ফিরাবার আঘাত।


সুমতি, এসো


প্রশান্তি বিছিয়ে রাখি-
স্নানবিদিত শয্যা কেমন ডাকে!
জানলা গলে নামে
মৃদ্যু আলোর নিবিড়তা।

যেন তুমি প্রবাহমান হাওয়া
অদৃশ্য রোমাঞ্চে উড়ে যাচ্ছো
জলের যৌনতা নাচে;
তোমারই দেহসুরভিত ঘ্রাণে..

আর আমি, যে আজন্ম তৃষ্ণার্ত;
নিদাঘের বিল-
তুমি এসো চোখের সৌন্দর্যপ্রতিম
এসো মুহূর্তদর্পণে
প্রাণের আলোড়নে মেশাবো বলে- এতোকাল
শরীরে টেনেছি গ্রীষ্মের পাঁচিল..