ফেসবুক কেড়ে নিচ্ছে মানুষের পারিবারিক আনন্দ

কে জে ডেল’অনটোনিয়া::আমার সন্তানদের জন্য দেরীতে হলেও কিছু ভালো খবর ছিল। লেখাপড়ায় ভালো ফল, হকি খেলায় জয় ও কলেজে ভর্তির আনন্দ। তাদের জন্য কিছু কঠিন মুহূর্তও ছিল। এমনকি কিছু তিক্তমধুর বিষয়ও। তাদের সামনে ছিল শেষ খেলাগুলো, হতাশা ছিল, আর তাদের জন্য অনেক আধোয়া থালাবাসন পড়েছিল।

আপনি যদি বন্ধু হন, অথবা এমন কেউ যিনি আমার মাকে চেনেন ও মুদি দোকানে লাইনে দাঁড়িয়ে যে রকম হয় সে রকম ভাবে বন্ধুসুলভ কথাবার্তা বলেন। মনে রাখবেন এর যে কোনো বিষয় নিয়ে আপনার সাথে কথা বলতে আমার ভালোই লাগবে। আমি আপনাকে ছবিগুলোও দেখাতে পারি। কথা হচ্ছে, ফেসবুক আপনার পারিবারিক আনন্দ কেড়ে নিচ্ছে।

সবাই ব্যস্ত ফেসবুকে। ছবি-সংগৃহিত।

তবে সেসব আমি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করতে চাচ্ছি না। কারণ আমি কিছুক্ষণের জন্য এ চেষ্টা করেছিলাম। তারপর আমি আলিঙ্গন ও বাস্তব প্রশংসা পাওয়ার বদলে ইমোজির মাধ্যমে বন্ধুদের, পরিবার ও পরিচিতদের প্রতিক্রিয়া ও প্রশংসা পাওয়ার সহজ সিদ্ধান্তে পৌঁছি। এটা কোনো কৌতুক নয়, আর আমি তা আর করতেও চাই না।

সামাজিক মাধ্যম থেকে সরে আসতে চাওয়া আমি একমাত্র লোক নই। যখন প্রাপ্ত বয়স্ক আমেরিকানদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ফেসবুক ব্যবহার করে। আমাদের অনেকে যে পন্থায় তা ব্যবহার করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার পরিবর্তন ঘটেছে। প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যবহারকারী কয়েক সপ্তাহ বা তার বেশি সময় ফেসবুক ব্যবহার থেকে বিরত থাকেন বলে জানা গেছে। ২৬ শতাংশ ব্যবহারকারী গবেষকদের জানান যে গত বছরের কোনো এক সময়ে তারা তাদের ফোন থেকে এ অ্যাপ মুছে দিয়েছেন।
ইউজার ডাটা সংরক্ষণে ফেসবুকের ল্যাক্স রেকর্ডের কারণে কেউ কেউ তাদের ব্যবহরের পরিবর্তন করেছেন। প্রাপ্ত বয়স্কদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যবহারকারী গত বছর তাদের প্রাইভেসি সেটিং এডজাস্ট করেছেন। অন্যরা এ প্ল্যাটফরম তাদের কিভাবে কাজ ও উপলব্ধির জন্য তৈরি করে সে বিষয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। অন্য কথায়. সামাজিক মাধ্যম টেনে আনা মানে হচ্ছে আপনার পরিবারের গোপনীয়তা স্পর্শ করা।

জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশ্বিক ও সামাজিক স্বাস্থ্যের অতিরিক্ত অধ্যাপক ও প্রকাশিতব্য বই ‘স্ক্রিন-স্মার্ট শিশু গড়ে তোলা : ডিজিটাল যুগে ভালোকে আলিঙ্গন ও খারাপকে পরিহার’ এর লেখিকা জুলিয়ানা মাইনার বলেন, কম ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমি নিশ্চিত ভাবে পরিবর্তন দেখেছি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ভঙ্গ হওয়া নাকি এর ব্যাপারে মানুষের ক্লান্ত হয়ে পড়ার কারণে এ পরিবর্তন হচ্ছে, তা বলা কঠিন।

কে জে ডেল’অনটোনিয়া ” হ্যাপি টু হ্যাপিয়ার প্যারেন্ট” এবং আসন্ন উপন্যাস “দ্য চিকেন বোনস” এর লেখক।