আমরা আসলে ঠিক যাচ্ছি কোথায়?

এই যে টানা ধর্ষণ, বালাৎকার, পুড়িয়ে মারা ঘটছে, এসব কিন্তু ঘটারই কথা। সমাজকে আপনারা সবাই মিলে কোথায় টেনে নামাইছেন, সেইটা এখন এইসব ভয়াবহ অমানবিক ঘটনার ভেতর দিয়া নিজেরাই প্রত্যক্ষ করতেছেন।

মনে রাখতে হবে, যে সমাজে হিপোক্রেসি একটা ব্যাধি, অথচ হিপোক্রেসি ছাড়া সমাজে সফলতাও নাই, সেই সমাজে, রাষ্ট্রে মূলত সব মানুষই কোন না কোন ভাবে সাফারার। কোথাও কোন আদর্শ কি আছে?

প্রতিটা প্রতিষ্ঠানকে কি চমৎকারভাবেই না আপনারা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন! আদর্শ নাই বলে দূর্বলতার আরেক নাম ভালোমানুষি!

এই যে খাদ্যে ভেজাল, সারাদিন খাচ্ছি বিষ, গোটা দেশে জনগণের কোন আন্দোলন আছে?

সফলতার নামে আপনারা তো পারলে নিজের ধর্মকেও বেচে দিতে চান?

জুলুমকে ধরে নিয়েছেন নিয়তি। জালিম শাসকের পা চাটতে চাটতে জিহ্বাসহ খসে পড়ার অবস্থা। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়–আপনার অবদানটা কী বলেন?

পারলে তো সারা রাস্তাটা নোংরা করে রাখতে চান! চান ঠেলেঠুলে সবার আগে লাইনে যেতে। না মানতে চান ডিসিপ্লিন, না কোন নর্মস!

ফলে, আপনাদের সমাজ, অধিপতি, বুদ্ধিজীবি, আলেমহ সবাই আজ মোস্টলি করাপ্টেড। একটা গোটা পচে যাওয়া ব্যবস্থার বাই প্রোডাক্ট আমরা। ফলে, ভয়, ভীতি, অসহায়ত্ব এবং নীরবতার জয়গান গাইতে গাইতে আমরা কবরে চলে যাবো। এমনকি আমরা বেঁচে থাকবো কতগুলো আস্ত ফাতরা লোকজনের শাসন-শোষণের ভেতর। যাদের চেয়ার টানার কথা, তাদেরকেই আজ আমরা আঞ্চলিকতা, দলীয় এবং বাচবিচারহীন রাজনীতির প্রেমিক হয়ে বসিয়ে দিয়েছি চেয়ারে। ফলে, এদের বেলাগাম বুলি হয়ে ওঠেছে আমাদের রাজনৈতিক অর্গাজম।

সমাজের আর সব স্তরের অবস্থাও সেইসব কুকৃতিরই ফল। দায়িত্ব নিয়ে কথা বলার মত কোন অথরিটি আমাদের নেই। কোথাও কোন আদর্শের সুষমতা নেই।সর্বত্র কেবল ক্ষমতার তাঁবেদারি আর গোলামি। নরকেও নাকি পাপীরা সুখ খুঁজে নিতে তৎপর হবে। সেটাই তো প্রতিদিন দেখি।

আমরা আসলে ঠিক যাচ্ছি কোথায়?