একই দিনে ৮ বার বিস্ফোরণ শ্রীলঙ্কায়

প্রায় দুই ঘণ্টার ব্যবধানে ছয়টি স্থানে বোমা হামলা। সাত ঘণ্টার মাথায় আরও দুটি বিস্ফোরণ। এমন ভয়াবহতা আগে খুব কমই দেখেছেন শ্রীলঙ্কাবাসী। ধোঁয়াশার মধ্যে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীও। হামলায় কারা জড়িত? কিইবা উদ্দেশ্য, কিছুই এখনও স্পষ্ট নয়।

ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময় রাজধানী কলম্বোর সেন্ট আন্থোনি’স চার্চে স্থানীয় সময় সকাল আটটার কিছু পর প্রথম বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটে। হতাহত হন বহু মানুষ। এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই ৩০ কিলোমিটার দূরে নেগোম্বোর সেন্ট সেবাস্তিয়ান চার্চও শক্তিশালী বোমার আঘাতে কেপে ওঠে। একই সময়ে রাজধানী থেকে আড়াইশো’ কিলোমিটার দূরের ব্যাটিকালোয়ার জিওন চার্চেও বোমা হামলা চালানো হয়। শুধু এখানেই মারা যান ২৭ জন।

ইস্টার সানডের অনুষ্ঠান ছাড়াও বেড়ানোর উদ্দেশ্যে রাজধানী কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেলগুলোতে অবস্থান করছিলেন অসংখ্য বিদেশি পর্যটক। সকাল সাড়ে আটটার দিকে কলম্বোর শাংরি-লা হোটেলেও বোমা হামলা চালানো হয়। এতে মুহূর্তেই হোটেলের দরজা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যায়।

একইসময়ে প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের বাসভবনের কাছেই অবস্থিত বিলাসবহুল হোটেল সিনামন ও কিংসবেরি হোটেলেও বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দিক বিদিক ছুটতে থাকেন হোটেলে অবস্থানকারীরা। হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে জানা না গেলেও এদের অধিকাংশই পর্যটক।

বোমা হামলায় শ্রীলঙ্কান কর্তৃপক্ষের তৎপরতার সাত ঘণ্টার মাথায় দুপুরে রাজধানীতে অবস্থিত শ্রীলঙ্কার জাতীয় চিড়িয়াখানার পাশে সপ্তম দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরেই বোমার বিস্ফোরণ ঘটে কলম্বোর উত্তরাঞ্চলীয় অরুগোদাওয়াত্তাতে। হতাহতদের ঘটনাস্থলের আশপাশের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শেষ খবর অনুযায়ী এদিনের হামলায় ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২০৭ এবং আহতের সংখ্যা প্রায় ৪০০।