মাছরাঙার পালকের মতো অতীত : বিপ্লব সাইফুল

সুরাইয়ার মুখ

মৃত্যু পাড়ি দিয়ে-
জীবন এঁকে রাখি আগুনের পৃষ্ঠায়;
দুঃখের নুনে মাখিয়ে খাই
মাছরাঙার পালকের মতো অতীত।
ঘৃণার দিগন্তে একটুকরো জ্যোৎস্না হয়ে
ঝুলে থাকে মক্তব ফেরত সুরাইয়ার মুখ।

সুরাইয়া কোনদিন জানবেন না
এই বিপন্ন- ঘৃণার্হ জীবন!
সুদূর কৈশোরে সুরাইয়া শুধু জেনেছিলো
মক্তবের পাশে দাঁড়ানো বালকের সম্মোহন।

সুরাইয়া এখন আঙুলে সেলাই করে সংসারের সুখ
আর আমি আগুনের পৃষ্ঠায় জীবন এঁকে এঁকে
বহুদূর
হঠাৎ খুঁটে খাই যেনো বা-
উড়ে আসা স্মৃতির ক্ষেতে ক্ষুধার্ত কবুতর
মটর দানার মতো খাই,
এখনো খুঁটে খাই সুরাইয়ার মুখ!


আমাদের প্রেম

জীবন জানে সবটাই সময়ের খেলা!

একদিন অমল ভোরে হারানো শৈশবের মতো
তোমাকেও পেছনে ফেলে চলে যাবো-
এক যাদুর শহরে।
যেখানে বিলুপ্ত অতীত নিয়ে
হরিৎ মদের মতো খাবো আরো এক যুবতী প্রেম।

মানুষ কী অতীতে বাঁচে?

আসলে বর্তমানকেই সত্যি জেনে
মানুষ কখনো কখনো ডুব দেয় মাছরাঙা স্মৃতিতে।
তারমানে অতীতে বাঁচা নয়
মামুলি স্মৃতি রোমন্থন, দীর্ঘশ্বাসের বড়শীতে-
তুলে এনে মামুলি দুঃখ খুঁটে খাওয়া।

এই সত্য জেনেও রোজ রাতে
দুঃখের শিল্পে তোমাকে গড়ে তুলি প্রেমের প্রতিমা।
তুমিও তখন বিরহ সেলাই করো দুঃখের সুইয়ে।

তুমি জানো- আমিও জানি
একদিন আমাদের এই দূরের প্রেম
আরো দূর… বহুদূর…
সময়ের স্রোতে ভাসতে ভাসতে-
পৃথিবীর মহাসমুদ্রে কোন অচেনা দ্বীপ হয়ে যাবে!


হিজরত

বুকের পাটাতনে-
প্রার্থনার জায়নামাজ বিছিয়ে বলছি
ভুলের দাসত্বখাটা আমি সেই দণ্ডিত প্রেমিক
মমতার নামে ডেকে ডেকে ভালোবাসা
পৃথিবীর তিনভাগ জলের মতো-
তোমাকে ধারণ করেছি নিজের ভেতর;
মসজিদ জেনেছি তোমাকেই,
জেনেছি খোদার আরশ।

যদি খুলে দাঁড়াই এই সত্যের দরজা
যদি বলি তোমাকেই ভালোবেসে
সবচেয়ে উঁচু দুঃখের পাহাড়-
সহস্রবার ঝুঁকে গেছি তোমার পায়ের কাছে;
তবুও জানি মিথ্যার আঁধারে ঢেকে যাবে-
সত্যের জাফরান রঙ।

মুহূর্তের ভুলের কাছে-
ছাই হয়ে যায় হৃদয়ের সুদীর্ঘ হিজরত!