ইসলামপুরে ছাত্র মৃত্যু,পশ্চিমবঙ্গে উত্তাল রাজনীতি

তৃণমূল বিধায়ক কানাইয়ালাল অগ্রবাল ও মন্ত্রী গোলাম রব্বানি দাড়িভিটে ক্ষুব্ধ: গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে। ছবি: anandabazar

শিক্ষক নিয়োগ কেন্দ্র ক’রে সৃষ্ট পরিস্থিতির জের ধ’রে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার  ইসলামপুরের দারিভিট স্কুলে বৃহস্পতিবার( ২০ সেপ্টেম্বর) পুলিশের গুলিতে তাপস ও রাকেশ নামে দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বর্তমানে ইটালিতে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জন্য তিনি দায় করছেন বিজেপি এবং আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ)-কে।

এ’ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুলিশ ইসলামপুরে গুলি চালায়নি। গুলি চালিয়েছে বিজেপি এবং আরএসএসের লোকজন। তাদের গুলিতেই ছাত্ররা মারা গেছে। পুলিশও আহত হয়েছে। বহিরাগতরা মুখে গামছা বেঁধে এসেছিল। এত বোমা-গুলি এল কোথা থেকে?”

বৃহস্পতিবার দাড়িভিট স্কুলে উর্দু শিক্ষক নিয়োগের জের ধ’রে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামলে তারা পুলিশের মুখোমুখি হয়। এ’সময় পুলিশদের উপর ইটবর্ষণ শুরু হলে পাল্টা লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেটও ছোঁড়া হয়৷ ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও ওঠে। যদিও উত্তর দিনাজপুর থানার এসপি সুমিত কুমার ছাত্রদের গুলি করার কথা অস্বীকার করেছেন। তবে অনেকক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠছে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে কেন উর্দু শিক্ষক? এ’প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় অনেক জায়গায় ১০ শতাংশের ওপর উর্দু ভাষাভাষী মানুষ আছেন। ইসলামপুরেও উর্দু অ্যাকাডেমি আছে। কারণ, সেখানে ১০ শতাংশের ওপর মুসলিম। সুতরাং স্কুল একজনের পড়াশোনার জন্যেও যদি উর্দুভাষার শিক্ষক চায়, তাহলে তাতে অন্যায় কিছু নেই। তার মতে, ইস্যুটাকে ধর্মীয়করণ করা হয়েছে। দাঙ্গা বাঁধানোর জন্য পরিকল্পনা করে সশস্ত্র গুণ্ডাদের আনা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, সংস্কৃত হলে ঢুকতে পারে। উর্দু হলে নয় কেন?‌

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার ১২ ঘন্টার বাংলা বন্‌ধ ডেকেছে বিজেপি। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলায় কোনও বন্‌ধ হবে না। দোষী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু ৩৬৫ দিনে ৩৬৫টা বন্‌ধ বাংলায় হবে না।”

সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল। সাধারণ মানুষ থেকে সোশাল মিডিয়া অব্দি এখন একমাত্র আলোচনার বিষয় ইসলামপুরে ছাত্রমৃত্যুর ঘটনা।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া