ইরানে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের মদদ

শনিবার ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে ইরাক যুদ্ধের (১৯৮০-৮৮) বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সামরিক কুচকাওয়াজে নৃশংস হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছে যার মধ্যে চার বছর বয়সী একটি মেয়ে ও হুইলচেয়ারে থাকা প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা রয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৭০ জন।

দ্য ইরানীয়ান এলিট ফোর্স রবিবারের এক বিবৃতিতে জানায়, যারা এই হামলার জন্য দায়ী, তাদের খুব শীঘ্রই ভয়াবহ এবং ক্ষমাহীন প্রতিশোধের মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানীয়ান সরকার থেকে এই হামলার জন্য দুই উপসাগরীয় দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। এছাড়া এই হামলার দায় স্বীকার করে নেওয়া আরবের বিদ্রোহী আল-আহভাজ এবং জঙ্গি সংগঠন আইএসকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও তোলেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বিদেশী অর্থায়নে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদকে এই হামলার জন্য দায়ী করেন। তিনি আরো বলেন, মার্কিন ঊর্ধ্বতনদের এই হামলার জন্য দায়ী। ইরানীয়ান সরকার উপসাগরীয় দেশ দু’টির নাম উল্লেখ করেননি। তবে তাদের ধারণা দেশগুলো হলো সৌদিআরব, ইসরাইল ও আরব আমিরাত। যদিও আরব আমিরাত এই হামলার সাথে যাদের যুক্ততার কথা অস্বীকার করেছে।

শনিবারের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরান সরকার, সরকারবিরোধী কিছু সংস্থাকে সাহায্যের অভিযোগে ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড এবং যুক্তরাজ্যের কূটনীতিকদের তলব করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি বলেন, এটা মেনে নেওয়া যায় না যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোকে তালিকাভুক্ত করেনি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ইউরোপের মাটিতে সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে।

আলজাজিরার সূত্রমতে, চারজন বন্দুকধারী সামরিক পোশাক প’রে কুচকাওয়াজরত সৈন্যদল, বেসামরিক দর্শনার্থী, সরকারী কর্মকতাদের উপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধ’রে গুলি চালায়।

 

সূত্র: আলজাজিরা