রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির দিনেই আত্মহত্যা করলেন হিমু

সাভারের আশুলিয়ার বিরুলিয়ায় শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন নওশাদ হাসান হিমু (২৭)। রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় উদ্ধার তৎপরতায় সাহসী ভূমিকা রেখেছিলেন হিমু। সেই রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ৬ বছর পূর্তির দিনই আত্মহননের পথ বেছে নিলেন হিমু।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) রাতে বিরুলিয়ার শ্যামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হিমু শ্যামপুরের আবদুল হক মোল্লার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। তিনি বরিশালের উজিরপুর থানার আবুল হোসেনের ছেলে।

আত্মহত্যার আগে তার ‘হিমালয় হিমু’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে বেশ কিছু পোস্ট দেয়া হয়।  বিকেল ৪টা ২৩ মিনিটে পোস্ট করা হয়, “#এমনিকরেইহয়যদিশেষহোকনা” । আবার সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটে পোস্ট আসে “#ছোটবেলাহইতেইআগুনআমারঅনেকপছন্দ”। ৭টা ২৮ মিনিটে একই পোস্ট আবারও করা হয়। এরপর রাত ৯টা ১১ মিনিটে পোস্ট আসে, “#আগুনসর্বগ্রাসিতাইভালোবাসি।” রাত ৯টা ২২ মিনিটে লেখা হয় “#কোনমৃত্যুরজন্যকেউদায়ীনয়”। রাত ৯টা ২৬ মিনিটে হিমুর আইডি থেকে “#জয়বাংলা#প্যারানাই।” পোস্ট করা হয়। আর ওটাই ছিল সর্বশেষ পোস্ট।

পরিবার সূত্র জানায়, হিমু সাভারের রানা প্লাজায় আহত শ্রমিকদের নিয়ে ব্যথিত ছিল। মাঝেমধ্যেই সে ওই ঘটনা নিয়ে আবেগ পরায়ণ হয়ে পড়ত। লাশের গন্ধ আসে ভেবে সে রানা প্লাজার ঘটনার পর কখনো শরীরে পারফিউম ব্যবহার করেনি।

স্থানীয়রা জানান, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনা হিমু অনেকটা কাছ থেকে দেখেছিল। সেখানকার উদ্ধার তৎপরতায় সে নিয়োজিত ছিল।

সাভার মডেল থানা পুলিশের এসআই আজগর আলী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। হিমু সর্বদা একা থাকত। এমনকি পরিবার থেকেও অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিল সে। প্রাথমিকভাবে সকল বিষয় দেখে মনে হচ্ছে এটি নিতান্তই একটি আত্মহত্যা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বেলা ৩টার দিকে হিমুকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা থেকে বরিশালে ওর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। ওখানে বাদ এশা জানাজা পড়িয়ে ওকে ওর বাবা’র কবরের পাশে সমাহিত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।