সাফা কতদূর অধরা-বিধূর

সাফাকে 



সাফা কতদূর       অধরা-বিধুর
         থাকে এক দেশে
হেঁটে ক্লাসে যায়    ভাবি, ভয় পায়
           আমি ছাড়া সে।
মুখ ধুয়ে নেয়      মাকে দুধ দেয়
          ঘুমোবার আগে
আমিহীন ঘরে      একা বই পড়ে
        সাফা রাত জাগে।
ভাবি, গান পায়    জড়ানো গলায়
          কাঁচা লিরিকের
যেনো চোখ মুদে   কোনো শিশু দুধে
            টান দেয় ফের।
সাফা ছাদে যাক    কাপড় গুছাক,
              এমন বিকাল;
ধোয়া উড়ানির      নিংড়ায় নীর
         যেনো কেউ লাল।

মনে পড়ে যাক      আজো সেই পার্ক;
               প্রার্থনাগার
আমি পাশে এক    তোমার আশেক
             তুমিও আমার।


সাফাকে

একদিন বলেছি। সাতবছর পর।
একদিন বলেছি। আমার ভেতর।
থেকো। একদিন বলেছি। সংসার।
একদিন বলেছি। বলা দরকার।
মাকে বলো। আমাদের সব।
একদিন বলেছি। তুমি আমি আর।
একদিন বলেছি। অসুস্থ ছিলে।
শৈশবে ঘাই মারতে গিয়েছিলে বিলে।
একদিন ডেকেছি। বাচ্চার মতো।
শুষে নিতে চেয়েছি জোঁকের ক্ষত।
এত্তটুকুন মেয়ে হবে। লজ্জা পেতে।
একদিন জলকেলিতে ডেকেছিলে সেধে।
ছোকড়া বয়স হবে। তুমিও হরিণী।
খুবই পিচ্চি ছিলে। কি ছোটো বেণী!
একদিন সূর্যগ্রহনে। পাড়ার মেলায়।
নাগরদোলা। লজেনচুস। সন্ধ্যা বেলায়।
বাড়ি ফিরতে দেরি হলো। মা কি বকা!
একদিন চুমু খেলে। খুবই আচমকা।


সবুজ রঙের ধূলি

পড়ে আছে মন তোমার ভেতর
তুমিও মনের দিকে
পাখিটি পালালো ঘুমের ঘোরে
পাতাকে নড়তে দেখে

উঠোনে তোমার চুল বেঁধে দেয়
প্রবাসী স্বামীর বউ
আমিও উদাস হেঁটে চলে গেছি
পাশের পাড়ার কেউ।

গুঁড়ি থেকে ধান খুঁজে মরছিলো
তোমার মোরগগুলি
চৈত্রমাসের পত্রে তখন
সবুজ রঙের ধূলি।

জরিদার রোদ বিগলিত হলো
ডুবে যেতে যেতে দেহ
সন্ধ্যা কি তবে সাফার মতোন
পরিচিত কোনো স্নেহ?

আমি যে এসেছি বুঝতে পারোনি
উঠোনে কাউকে দেখে?
ঋতু কাছে এলে ফলেরই স্বভাব
লাল হয়ে যাওয়া পেকে।