ফেন্টানিল সংকট: চায়না-ই কি তবে অবৈধ মাদকের প্রধান সোর্স!

ট্রাম্প এক টুইট বার্তায় শক্তিশালী ব্যথানাশক ওপিওইডস চীনে তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে। ছবি: BBC News

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, শক্তিশালী ব্যথানাশক ওপিওইডস যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্রমাগত ক্ষতি ক’রে চলেছে তা চীনে প্রস্তুত হয় এবং সেখান থেকেই বাজারজাত করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফেন্টানিল, যা মরফিন অপেক্ষা ৫০ থেকে ১০০ গুণ শক্তিশালী। যা যুক্তরাষ্ট্র ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগী অসহ্য ব্যথা উপশমের জন্য ব্যবহার করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযোগের বিপরীতে একজন সিনিয়র চাইনিজ সরকারি কর্মকর্তা, ইউ হেইবিন অব দ্য ন্যাশনাল নারকটিক্স কন্ট্রোল কমিশন, বলেন- এই অভিযোগের কোন প্রমাণ নেই। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে অপ্রত্যাশিতদায়িত্বহীন বলে মনে করেন।

তবে এটা সত্য যে চায়নায় এই কেমিকেল তৈরি হয় তবে কী পরিমাণ, সেটা বলা অসম্ভব। তাই চায়না যতই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যকে হাওয়ায় উড়িয়ে দিক, এই সমস্যা নিরসনের জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র এই কেমিকেলের ব্যবহার নিয়ে এতটাই চিন্তাগ্রস্ত যে ফেন্টানিল থেকে তৈরি সমস্ত পণ্য নিষিদ্ধ মাদকের আওতায় নিয়ে এসেছে।

২০১৭ সালে মাদক সেবনে মৃত্যুর ৪০ শতাংশের কারণ সিন্থেটিক ওপিওইড। ছবি:vox.com

২০১৭ সালে, ৭২০০০ সংখ্যক মাত্রারিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যুর ৪০ শতাংশের কারণ সিন্থেটিক ওপিওইড, যেমন- ফেন্টানিল। কানাডার স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওপিওইড গ্রহণের ফলে সংঘটিত মৃত্যুর ৭২ শতাংশের কারণ ফেন্টানিল বা রিলেটেড সাবস্টেন্সেস। যা ২০১৬ সালে ছিল ৫৫ শতাংশ।

ইউরোপের ড্রাগ মনিটরিং এজেন্সি, দ্য ইএমসিডিডিএ, এ’বছর একটা রিপোর্টে প্রকাশ করে, সিন্থেটিক ওপিওইডস ব্যবহারের পরিমাণ ২০০৯ সালের পর থেকে ইউরোপে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্র সরকার সন্দেহাতীতভাবে নিশ্চিত চায়না-ই ফেন্টানাইল এবং এই ধরণের ড্রাগের প্রধান উৎস। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দু’জন চাইনিজ ব্যক্তিকে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানাইল এবং অন্যান্য ওপিওইডস কেনাবেচায় অভিযুক্ত করে।

চাহিদার প্রয়োজনে, যোগান তার পথ খুঁজে নেয়- চায়না মনে করে যুক্তরাষ্ট্রকে তার এই মাদকের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিৎ, শুধুমাত্র বেইজিংকে দোষারোপ না ক’রে।

 

সূত্র: বিবিসি