জুন মাসের ডায়েরি থেকে এই মনোগ্যামি দুপুর বেলায়

৬১

পৃথিবীর দীর্ঘতম যুদ্ধটি ঠিক কত দীর্ঘ তা জানা যায়নি । তবে যতবার আকাশের দিকে মুখ উঁচিয়ে প্রার্থনা হয়েছে, আমি দেখেছি মানুষের চোখ সন্তুষ্টি লাভের আশায় কত তৃষিত ছিল । পৃথিবীতে এমন ঘটনা বারবার ঘটে গেছে । মানুষ তবু হাল ছাড়েনি। আকাশের দিকে মুখ উঁচিয়ে হোক আর প্রিয়মুখের দিকে চেয়ে থেকেই হোক, মানুষ বারবার প্রার্থনা করে গেছে ।

দীর্ঘতম যুদ্ধটি কত দীর্ঘ হলে পরে এমন নিঃসঙ্গতায় চোখের পাহাড় ধসে যায় ! মানুষ তা জানতে পারেনি কোনদিন । এই না জানা নিয়েই পৃথিবীতে যারা আসে, যুদ্ধে যুদ্ধে আয়ু খরচ করে যায় যারা, তাদের নিকটে যেতে ভয় লাগে মনে । তবু ভালোবাসা সকল গণিত ভুল প্রমাণ করে দেয় । ভয় অথবা সংশয় যাই থাকুক, মানুষ ঠিকই মানুষের নিকটে যায় । আর দীর্ঘতম যুদ্ধটিকে আরও দীর্ঘ করে যায় ।


জুন মাসের ডায়েরি – শুভ নীল | প্রকাশক – প্রিন্ট পোয়েট্রি | পেপারব্যাক | মূল্য – ২০০ টাকা

৬৮

যে নদী নরকের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে , সমুদ্র সে নদীকে গ্রহণ করে নেয়। যে নদী স্বর্গ ছুঁয়ে বয়ে চলে , শুনেছি সমুদ্র সে নদীকেও গ্রহণ করে নেয় । অথচ অন্তিম বিচারের ভার প্রবাহমান স্রোতের কাছেই সঁপে দিতে দেখেছি । তবু স্রোত ঘিরে মানুষে মানুষে বিভেদ হয় , সমুদ্র কালো হয়। মূলত ঘন কালো সমুদ্র দেখতে দেখতেই সেই পুরাতন যুদ্ধ শুরু হবে ।
ততদিনে ক্ষয়ে যাবে পেট্রা, ডুবে যাবে চন্দ্রবিন্দু দ্বীপ।


৭৪

যখন সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে পৃথিবী , তখন লক্ষাধিক শরণার্থী এক টন ত্রাণকে ঘিরে প্রদক্ষিণ করছে । এ প্রদক্ষিণ ভালোবেসে নয় , ভয় পেয়ে নয় , ঘৃণা বা ধিক্কার জানাতেও নয়, মূলত ক্ষুধা মিটাতেই এই ঘূর্ণন । এদিকে আমরা যারা প্রতিষ্ঠিত শরণার্থী বলে নিজেদের পরিচয় দিই, আমরাও প্রদক্ষিণ করছি অন্যকিছুকে ঘিরে । এই যেমন চালের গুদাম, খাদ্যশস্যের মজুদ, মদের দোকান, কফিসপ, তাজমহল, ক্যাসিনো, মন্দির, মসজিদ, প্যাগোডা, গির্জা ইত্যাদি ঘিরে আমরা ঘুরছি, প্রদক্ষিণ করছি- এই মনোগ্যামি দুপুর বেলায় । কেউ আবার বুক অব লাভ খতিয়ে দেখতে দেখতে গড়ে তুলছে সংসার, কেউ ভাঙছে, কেউ ভুলে যাচ্ছে । আর এসবই প্রদক্ষিণ; যা ভিন্ন ভিন্ন নামে আমরা দেখতে পাই । দেখতে পাই, যার যার আয়তক্ষেত্র বুঝে নিয়ে ঢুকে পড়ছি যেকোনো এক ঘোরের ভিতর । যার যার ইচ্ছেকে প্রদক্ষিণ করে এই যে ঘোর জমা হচ্ছে, তাই নিয়ে আমরা দুপুর দেখি, মনোগ্যামি দুপুর ।


৭৬

এক জোড়া অক্ষয় জুতা খুঁজছেন ! ঘর ছেড়ে আমৃত্যু ভ্রমণ করে যেতে চান ! তাহলে একবার হাতের তালুতেই চোখ রেখে দেখুন, সোজা একটা পথ চলে গেছে- নিত্য দাশ সু-মেকারের কাছে । যেমন করেই যেতে চান না কেনো , যেতে যেতে রাত হবে , তাই সঙ্গে কিছু অভিশাপ নিয়ে যাবেন । জনশ্রুতি আছে যে নিত্য দাশের কাছে এলে শরীর শীতল হয়, আপনার মনে হবে তাপমাত্রা শূন্য থেকেও বিয়োগের দিকে চলে গেছে । এক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়া অভিশাপ আপনাকে উষ্ণতা দেবে। আর একুরিয়াম ভেঙ্গে নিয়ে যাবেন সাতটি মান্দারিন ফিস , নিত্য দাশ সু-মেকার দক্ষিণা ছাড়া আপনার কাজ কেনো করবে বলুন ! খেয়াল করবেন , যেতে যেতে মাছগুলো মরে যেতে পারে । তাই মান্দারিন ফিসের চোখেও কয়েক চিমটি সুররিয়েলিজম মিশিয়ে নেবেন । শুনেছি চোখের ভিতরে একবার সুররিয়েলিজম মিশে গেলে যার যার ভূগোল বদলে যায় । এটা মাছেদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কিনা , তা নিত্য দাশই ভালো জানে ।

এবং এক জোড়া অক্ষয় জুতা আপনার পায়ের তালুতে যখন চিরতরে মিশে যাবে , আপনি বেশ বুঝতে পারবেন- নিত্য দাশ সু-মেকার কেবল জুতার কারিগরই নয় , তাবৎ পৃথিবী ভ্রমণেরও সূচনা করে দেয় তার অক্ষয় জুতা জোড়া ।