পঞ্চপাণ্ডবহীন বাংলাদেশ ক্রিকেট অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের চোখ

ছবি:ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”4″]বি[/su_dropcap]শ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ আজকে যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তা একদিনে সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বপ্রথম আত্মপ্রকাশ করে ১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে। ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জেতে এবং এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বিশ্বকাপে তারা পাকিস্তান এবং স্কটল্যান্ডকে পরাজিত করে। দশম টেস্ট খেলুড়ে দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ২০০০ সালে ঢাকায় প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ইতিহাসে সমস্ত অর্জনের পেছনে অনবরত বাজতে থাকে অসংখ্যবার হেরে যাওয়ার ধূন। তবু জেতার আকাঙ্ক্ষা কাঁধে ক’রে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে যারা, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো মাশরাফি বিন মর্তুজা, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসানমাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, দ্য পঞ্চপাণ্ডব। আজ বাংলাদেশ শক্তিশালী কোন টিমের বিরুদ্ধে জিতবে এমনটা বলা না গেলেও, জেতার সম্ভাবনা আছে এটা বলা যায় অনায়াসে।

[su_divider top=”no”]

মাশরাফি মর্তুজা। ছবি:ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”4″]মা[/su_dropcap]

শরাফি ববিন মর্তুজার ৮ নভেম্বর, ২০০১ এ বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। সেই ম্যাচে ম্যাশ ১০৬ রানে ৪টি উইকেট নেয়। গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার ছিলেন তার প্রথম শিকার। একই বছর ২৩শে নভেম্বর ওয়ানডে ক্রিকেটে মাশরাফির অভিষেক হয়। অভিষেক ম্যাচে মোহাম্মদ শরীফের সাথে বোলিং ওপেন করে তিনি ৮ ওভার ২ বলে ২৬ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি উইকেট। মাশরাফি তার গতির জন্য সমর্থকদের কাছে “নড়াইল এক্সপ্রেস” নামে পরিচিত।

২০০৬ ক্রিকেট পঞ্জিকাবর্ষে মাশরাফি ছিলেন একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় বিশ্বের সর্বাধিক উইকেট শিকারী। তিনি এসময় ৪৯টি উইকেট নিয়েছেন। ২০০৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় জয়ে মাশরাফি ৩৮ রানে ৪ উইকেট দখল করেন।

১৭ বছরের ক্যারিয়ারে ১১ বার চোটের কারণে দলের বাইরে যেতে হয়েছে মাশরাফিকে। দুই হাঁটুতে মোট সাতবার সার্জারি হয়েছে। সাপোর্ট ব্যাণ্ড পরে খেলতে হয় তাকে। তবু তিনি বাংলাদেশের সেরা পেস বলার। ক্যারিয়ারে তিনি মোট ১৯৪টি ওয়ান্ডে খেলেছেন। উইকেট পেয়েছেন ২৫০টি। যদিও এইসব পরিসংখ্যান বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের প্রতি তার যে অবদান, তাকে মহিমান্বিত করতে পারে না। শুধু ক্রিকেটের মাঠেই নয় ব্যক্তিজীবনেও ম্যাশ অনুকরণীয়।

[su_divider top=”no”]

তামিম ইকবাল। ছবি: ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”4″]তা[/su_dropcap]মিম ইকবাল বাংলাদেশের ২য় ক্রিকেটার হিসাবে টেস্টে দ্বি-শতক রান করেছেন৷ এছাড়াও বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ইনিংসে সর্বাধিক ২০৬ রানের অধিকারী তিনি। তাছাড়াও ২০১৬ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ১ম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে টি টোয়েন্টি তে শতক রান করেছেন এবং প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে টি টোয়েন্টি ইন্টারন্যাশনাল তে ১০০০ রান সংগ্রহ করেন।

২০১১ সালে তামিম উইজডেন ক্রিকেটার্স অ্যালমেনাক ম্যাগাজিন কর্তৃক বছরের সেরা পাঁচ ক্রিকেটারের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন। গ্রেম সোয়ান ও বীরেন্দ্র শেবাগকে পেছনে ফেলে তামিম এ খেতাব জিতে নেন।

তামিম টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৫৫টি। রান করেছেন ৪০০২। ওয়ানডে খেলেছেন ১৮১টি। রান করেছেন ৬৩০৫। টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ৬৯টি। রান করেছেন ১৪৯০। টেস্টে তার ৮টি শতক ও ২৫টি অর্ধশতক, ওয়ানডে ম্যাচে ১১টি শতক ও ৪৩টি অর্ধশতক, টি টুয়েন্টিতে ১টি শতক ও ৪টি অর্ধশতক রয়েছে।

[su_divider top=”no”]

সাকিব আল হাসান। ছবি: ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”4″]সা[/su_dropcap]

কিব আল হাসান ২০০৬ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। একদিনের আন্তর্জাতিক খেলায় সাকিবের অভিষেক হয় ৬ই আগস্ট। তার প্রথম শিকার হন এলটন চিগুম্বুরা। ৩৯-১, এই ছিল তাঁর সেদিনকার বোলিং ফিগার। ব্যাট হাতে তিনি ৩০ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন। ২০০৭ ক্রিকেট বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে সাকিব অর্ধশত রান করে।

২২ জানুয়ারী, ২০০৯ সাকিব আইসিসি’র ওডিআই অল-রাঊন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে ১ নম্বরে উঠে আসেন। জুন, ২০০৯ এর মাশরাফিকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেয়া হয়, সাকিবকে করা হয় সহ-অধিনায়ক। মাশরাফি হাঁটুর ইনজুরিতে আক্রান্ত হলে, তার জায়গায় অধিনায়কত্ব পান সাকিব।

সাকিব টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৫৩টি। রান করেছেন ৩৬৯২। উইকেট পেয়েছেন ১৯৬টি। ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ১৮৮টি। রান করেছেন ৫৪৩৩। উইকেট নিয়েছেন ২৩৭টি। টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ৬৯টি। রান করেছেন ১৩৬৮। উইকেট নিয়েছেন ৮০টি। টেস্টে ৫টি শতক ওও ২৩টি অর্ধশতক, ওয়ানডেতে ৭টি শতক ও ৩৯টি অর্ধশতক, টি-টুয়েন্টিতে ৭টি অর্ধশতক রয়েছে। টেস্ট এবং ওয়ানডে মিলিয়ে ১৯বার ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন।

[su_divider top=”no”]

মুশফিকুর রহিম। ছবি: ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”4″]মু[/su_dropcap]শফিকুর রহিম সেপ্টেম্বর ২০১১ থেকে জাতীয় দলের অধিনায়ক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক। মূলত তিনি উইকেট-রক্ষক ব্যাটসম্যান। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তথা সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হিসেবে কৃতিত্ব অর্জন করেন।

২০০৯ এর জিম্বাবুয়ে সফরে মুশফিক বাংলাদেশের সহ-অধিনায়ক নির্বাচিত হন। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে নিজেদের সেরা সাফল্যে রানার্সআপ হয়। ৯ মার্চ, ২০১৫ তারিখে অ্যাডিলেড ওভালে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ৫ম খেলায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ম উইকেটে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বকাপের যে-কোন উইকেটে ১৪১ রানের সর্বোচ্চ জুটি গড়েন। ৩২১টি বল মোকাবিলা করে ২২ চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ২০০ রান করেন। ২০১৩ শ্রীলঙ্কা সফরে তিনি এই রেকর্ডটি করেন।

তিনি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৫৮টি। রান করেছেন ৩৪৯০। ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ১৭৭টি। রান করেছেন ৪৫১০। টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ৬৫টি। রান করেছেন ১০০৩। টেস্টে তার ৫টি শতক ও ১৮টি অর্ধশতক, ওয়ানডেতে ৫টি শতক ও ২৫টি অর্ধশতক এবং টি-টুয়েন্টিতে ৪টি অর্ধশতক আছে। 

[su_divider top=”no”]

মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ছবি: ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”4″]মা[/su_dropcap]হমুদুল্লাহ রিয়াদ বাংলাদেশের পক্ষে ক্রিকেট বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরি (১০৩) করার গৌরব অর্জন করেন। এছাড়াও প্রথম বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করার গৌরব অর্জন করেন।

তিনি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন ৩৬টি। রান করেছেন ১৮০৯। ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ১৪১টি। রান করেছেন ৩১২০। টি-টুয়েন্টি খেলেছেন ৫৮টি। রান করেছেন ৮১০। টেস্টে তার ১টি শতক ও ১৪টি অর্ধশতক, ওয়ানডেতে ৩টি শতক ও ১৯টি অর্ধশতক এবং টি-টুয়েন্টিতে ৩টি অর্ধশতক আছে। 

[su_divider top=”no”]

[su_dropcap size=”4″]ই[/su_dropcap]দানিংকালে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতলে পঞ্চপাণ্ডবের ওপর ভর করেই জিতছে। এই জয়ের  পেছনে লুকানো আছে এক আতঙ্ক। বাংলাদেশের তরুণরা সেভাবে প্রভাব রাখতে পারছে না আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। এই সংকটটা বেশি দেখা যাচ্ছে তরুণ ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে।

লিটন দাস, এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান রুম্মন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মুমিনুল হক, আরিফুল হক ও নুরুল হাসান সোহান ব্যর্থ কিছু নাম।

দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোগত দুর্বলতা এর কারণ। সাকিব বাদে সিনিয়রদের অন্য কেউ ক্যারিয়ারের শুরুতে ভালো খেলেনি। এই ধারাবাহিকতা যদি চলতে থাকে তবে মধ্যগগনে সূর্য আসার আগেই ডুবে যাবে।

[su_quote]পঞ্চপাণ্ডবহীন বাংলাদেশ ক্রিকেট অন্ধ ধৃতরাষ্ট্রের চোখ![/su_quote] 

 

সূত্র: ক্রিকইনফো ডট কম, ক্রিকবাজ ডট কম, উইকিপিডিয়া।