প্রথম জাপানিজ হিসেবে টেনিস কোর্ট জয় করলেন নাওমি ওসাকা

ছবি: সংগৃহীত

[su_dropcap size=”5″]ক্যা[/su_dropcap]রিয়ারের প্রথম কোন মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনাল। প্রতিপক্ষ আমেরিকান টেনিসের জীবন্ত কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস। সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে ২৩টি গ্র্যান্ডস্লাম জিতেছেন সেরেনা। আর মাত্র একটি মেজর টুর্নামেন্ট জিতলেই কিংবদন্তি মার্গারেট কোর্টের সর্বোচ্চ ২৪ গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনি। অথচ শনিবার মৌসুমের শেষ গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টের ফাইনালে ৬-২ এবং ৬-৪ গেমে নিজের আইডল সেরেনা উইলিয়ামসকেই হারিয়ে জাপানের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র ২০ বছর বয়সী নাওমি ওসাকা ইউএস ওপেনের ৫০তম আসরে গ্র্যান্ডস্লাম জয়ের বিস্ময়কর কীর্তি গড়েন। যদিও ‘প্রথম জাপানিজ হিসেবে গ্র্যান্ডস্ল্যাম জয়’ পরিচয়ে বেশ বিরক্ত নাওমি। সাংবাদিকদের তিনি বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, শুধু জাপানিজ নয়, তিনি একজন জাপানিজ-হাইতিয়ান।

এর আগে গ্র্যান্ডস্লাম টুর্নামেন্টগুলোতে ওসাকার সেরা সাফল্য ছিল তৃতীয় রাউন্ড। ফ্রেঞ্চ ওপেন ও উইম্বলডনের তৃতীয় রাউন্ড পর্যন্ত গিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে, গত বছর ১ সেপ্টেম্বর কন্যাসন্তান অলিম্পিয়ার জন্মের পর প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে সেরেনা কোর্টে নেমেছিলেন।

ম্যাচ শেষে নাওমি বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে ঠিক সেভাবে কোনো কিছু অনুভব করতে পারছি না। হতে পারে কয়েক দিন পর আমি বুঝতে পারব কী অর্জন করেছি। যখন আমি দ্বিতীয় সেটে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম তখন কিছুটা বিচলিত হয়ে পড়ি। আমার মনে হয়েছে এবার আমাকে আরো একটি বেশি মনোযোগী হতে হবে। সেরেনা এমন একজন খেলোয়াড় যে কিনা যেকোনো সময় যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ফিরে আসতে পারে।’

বছরের চতুর্থ ও শেষ গ্র্যান্ডস্লাম ইউএস ওপেনের শিরোপা জয় করা জাপানের নাওমি ওসাকা ১২ ধাপ এগিয়ে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ দশে প্রবেশ করেছেন। ওসাকা এখন অবস্থান করছেন সপ্তম স্থানে। তার রেটিং পয়েন্ট ৪,১১৫। ইউএস ওপেন শুরুর আগে ওসাকা ছিলেন ১৯তম স্থানে।

১৯৯৭ সালের ১৬ অক্টোবর জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর  ওসাকা নগরীতে জন্ম। জন্মসূত্রে তিনি জাপানের নাগরিক, তবে নাওমির জাতিগত পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। নাওমির বাবা লিওনার্দ ফ্রাসোয়া একজন হাইতিয়ান আর মা তামাকি জাপানি। জাপানের দ্বীপ হোক্কাইডোতে ফ্রাসোয়ার পরিচয় হয় তামাকির সঙ্গে। পরিচয় থেকে ভালোবাসা। ডিও ফ্রাসোয়া কালো বর্ণের হওয়ায় তামাকির বর্ণবাদী বাবা ডিও, আপত্তি তুলেছিলেন।

ছবি: সংগৃহীত

মাত্র তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান নাওমি। যুক্তরাষ্ট্রতেই নাওমির টেনিস খেলার হাতেখড়ি তার বাবার কাছে। নাওমিরও টেনিসে হাতেখড়ি তাঁর বাবার কাছেই।

ব্লিচার রিপোর্টকে তিনি বলেন, ‘এই কাজটিই আমি পারি, এবং আমি এটিতেই সেরা।’

ফ্লোরিডা টেনিস এসবিটি একাডেমি ও প্রো-ওয়ার্ল্ড টেনিস একাডেমি থেকে টেনিসের শিক্ষা পেয়েছেন নাওমি। ২০১৩ সালে পেশাদার টেনিস শুরু করার আগে জাপানি টেনিস ফেডারেশনে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন নাওমি। তার বোন মারি ওসাকাও খেলছেন জাপানের হয়ে। নাওমি ও মারি আবার ডাবলসে জুটি বেঁধে খেলেন।

[su_quote]র‍্যাকেট ম্যাগাজিনে লুইসা থমাস লিখেছেন, ‘নাওমি একদম প্রকৃতিগত শক্তির অধিকারী। সার্ভ দিয়ে পয়েন্ট আদায় করতে জানে, বিধ্বংসী ফোরহ্যান্ড দিয়েও প্রচুর পয়েন্ট পায়। ওর র‍্যাকেট স্পিড অত্যন্ত বেশি। এমনকি মাত্র ১৬ বছর বয়সেই ঘণ্টায় ১০০ মাইলের বেশি গতিতে বল মারতেন তিনি।’[/su_quote]

তবে অর্ধ কৃষ্ণাঙ্গ ওসাকাকে শুরুতে জাপানিজরা খুব একটা আপন করে নিতে পারেনি। 

২০১৬ সালে এক সাক্ষাৎকারে ওসাকা বলেছিলেন, ‘যখন আমি জাপানে যাই, লোকেরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। আমার নাম দেখে তারা বোঝে আমি জাপানি, কিন্তু কোন জাপানিজের ক্ষেত্রে তারা সম্ভবত কালো গায়ের রঙ প্রত্যাশা করে না।’

এছাড়া কৃষ্ণাঙ্গদের নিয়ে একসময় টেনিসেই বৈষম্য ছিলো। ১৯৫৬ সালে অ্যালথিয়া গিবসন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছিলেন; ফ্রেঞ্চ ওপেন। অ্যালথিয়া গিবসন থেকে নাওমি ওসাকা, শরীরের রং নয়, যোগ্যতাটাই এখানে বড় ব্যাপার।

 

সূত্র: ইএসপিএন, বিবিসি