ইরানের সমর্থনে রাশিয়া

পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তির কিছু ধারা স্থগিত রাখার অধিকার ইরানের রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

সোমবার রাশিয়ার সোচিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে, যদি এ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী বাকি পক্ষগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয় তা হলে ইরান তার দেয়া কিছু প্রতিশ্রুতি স্থগিত রাখতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, চীন ও রাশিয়া মনে করে, যেকোনো মূল্যে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখতে হবে এবং ইরানের ওপর আমেরিকার পক্ষ থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

প্রসঙ্গত পরমাণু কর্মসূচি হ্রাস করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে- এই শর্তে ২০১৫ সালে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫ সদস্য ও জার্মানির সঙ্গে ইরান ‘জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ) নামের চুক্তিতে সই করে ইরান।

শুরু থেকেই চুক্তির প্রতিটি শর্তই মেনে আসছে তেহরান। এর পরও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর অভিযোগ এনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ওই সমঝোতা থেকে বেআইনি ও একতরফাভাবে আমেরিকাকে বের করে নেন।

সেই সঙ্গে ২০১৫ সালে তুলে নেয়া সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। পরিপ্রেক্ষিতে ইউরেনিয়াম ও ভারী পানি (হেভি ওয়াটার) বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়ার প্রথম বার্ষিকীতে ৮ মে দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এ ঘোষণা দেন।