৩৯ তম বিসিএসের পোস্টমর্টেম : ডা. আতিকুর রহমান (নন-ক্যাডার)

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের সকল সেক্টরে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় স্বাস্থ্য সেক্টরকেও যুগোপযোগী করে তুলতে স্বাস্থ্য সেক্টরের অপ্রতুল জনবল দেখে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের লিখিত নির্দেশনা প্রদান করেন। তবে সেটি কত দিনের মাঝে কিংবা কয়টি বিসিএসের মাঝে নেয়া হবে তা উল্লেখ ছিলোনা। পরবর্তীতে যখন ৪৭৫০ জনের সার্কুলার হলো সেখানে উল্লেখ ছিলো, প্রয়োজনে পদ সংখ্যা বাড়তে পারে। এরপর বিভিন্ন জায়গায় মন্ত্রীরা ৭ হাজার / ১০ হাজার ডাক্তার নিয়োগের বারংবার আশ্বাস দিতে থাকলে ৩৯ তম বিসিএসের সকল প্রার্থী তা বিশ্বাস করেন যৌক্তিকভাবে। এমনকি ফলাফল প্রকাশের মাত্র দুদিন আগেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কোটেশন দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৭ হাজার চিকিৎসক চুড়ান্ত হয়ে গেছে এবং তিনি এও বলেন সেখানে ৬০% মেয়ে সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু মাত্র দুদিনের মাথায় পুরো উলটো চিত্র দেখা যায়, যেখানে নিয়োগে ৪৭৫০ জনের জন্যই সুপারিশ করা হয় এবং ৬০% মেয়ে কথাটিও ভুল। আদতে মেয়ে ছিলো ৪০% এর কিছু বেশি। সকলে ৭ হাজার / ১০ হাজার নিয়োগের আশা নিয়ে বসে থাকা অনেক যোগ্য ক্যানিডেট হতভম্ব অবস্থায় ৪০ তম বিসিএসেও ঠিকমতো বসতে পারেনাই কারন রেজাল্ট আর পরীক্ষার মাঝে মাত্র ২ দিনের গ্যাপ রাখা হয়। পদসংখ্যা অপ্রতুল এবং জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদাপত্র না পাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে প্রায় ৮৫০০ জন ভাইভাসহ উত্তীর্ণ প্রার্থীকে নন ক্যাডার নামক অনিশ্চিত ভবিষ্যতে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এমতবস্থায় কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়-
১. পদ খালি না থাকলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ১০ হাজারের সিগ্নেচার কেনো আসলো?
২. বারংবার মাননীয় মন্ত্রীগণ ৭ হাজার / দশ হাজারের আশ্বাসই বা কেনো দিলেন?
৩. বাংলাদেশে বর্তমানে ২৬ হাজারের মত চিকিৎসক সরকারিভাবে কাজ করেন। কিন্তু জনসংখ্যা অনুপাতে WHO এর ক্রাইটেরিয়া পূরণ করতে আরো ৫২ হাজার চিকিৎসকের প্রয়োজন পড়ে
৪. উন্নয়ন, অগ্রগতির সোনার বাংলায় শুধু স্বাস্থ্য সেক্টর কেন অবহলিত থেকে যাচ্ছে চিরকাল? অসংখ্য হাসপাতালকে ৩১ বেড থেকে ৫০ বেড, ৫০ বেড থেকে ১০০ বেড, ১০০ বেড থেকে ২৫০ বেডে রুপান্তর করা হলেও কোনো পোস্ট ক্রিয়েট না করেই কলুর বলদের মত খাটানো হচ্ছে গুটিকয়েক জনবলকে। সাথে চাকরি এবং সেবা দান থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে হাজারো মেধাবীকে।

কয়েকশ সরকারি হাসপাতালে অসংখ্য বেড সংখ্যা বাড়ানো হলেও জনবল কাঠামো রাখা হয়েছে আগের মতোই। প্রয়োজনীয় জনবলের পোস্ট ক্রিয়েট ছাড়াই পুরাতন কাঠামো অনুযায়ী ২০১৮-১৯ সালে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরলাম-

ইউনিয়ন সাব-সেন্টার এবং কমিউনিটি ক্লিনিক বাদ রেখেই বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী জেলা ভিত্তিক চিকিৎসক সংখ্যার সর্বশেষ তথ্যঃ (বেড সংখ্যা বাড়ানোর অনুপাতে নতুন পদ সৃষ্টি ছাড়াই বর্তমান পরিস্থিতি)

১. রাজশাহীঃ (শূন্য পদ ১২০ টি)
জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী, চিকিৎসক সংকট জেলার নয় উপজেলার ৭৬ ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রেই। প্রত্যেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন করে সহকারী সার্জনের পদ রয়েছে। এর মধ্যে পবা উপজেলার নয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৪টিতে, মোহনপুরের ৬ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ৩টিতে, তানোরের ৮ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৮ টিতে, গোদাগাড়ীর ১১ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৯ টিতে, বাগমারার ১৭ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ১৭ টিতে, দুর্গাপুর সাত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৭টিতে, চারঘাটের ছয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৬ টিতে, পুঠিয়ায় ৭ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৭ টিতে এবং বাঘার ৫ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৩টিতেই চিকিৎসক নেই।
কেবল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসক সংকট। জেলার বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পদ রয়েছে সবমিলিয়ে ২২টি। এখানে নেই জরুরী মেডিকেল অফিসার ও মেডিকেল অফিসার। শূণ্য রয়েছে সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন, এনেস্থেশিয়া, চক্ষু, হৃদরোগ, চর্ম ও যৌন এবং অর্থপেডিক বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট পদও। জেলার পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রয়েছেন একমাত্র আবাসিক মেডিকেল অফিসার। এর বাইরে নয় উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এই পদে কোন চিকিৎসক নেই। নগরীর উপকণ্ঠ হওয়ায় পবা উপজেলার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোন চিকিৎসক পদ শূন্য নেই। কখনো খালিও থাকেনা।
তবে রোগী উপস্থিতি নেই বললেই চলে এখানকার সাস্থ্যকেন্দ্রে। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর মধ্যে পুঠিয়ায় ৬, চারঘাটে ৬, দুর্গাপুরে ৭, বাগমারায় ৪, তানোরে ৭, মোহনপুর ও গোদাগাড়ীতে একজন করে চিকিৎসকের পদ শূন্য। আর এ নিয়েই সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র। রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ গোদাগাড়ীতে রয়েছে ৩১ শয্যা হাসপাতাল। প্রতিদিনই এখানে ঘটছে ছোটবড় সড়ক দুর্ঘটনা। অথচ জরুরি অস্ত্রপচারের জন্য এই হাসপাতালে নেই সার্জিক্যাল বিশেষজ্ঞ। ৯ চিকিৎসক পদ থাকলেও এখানে আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ শূন্য আরো ৫ পদ।

২. চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ (শূন্যপদ ৪২ টি, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ছাড়াই)
চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি পাঁচটি হাসপাতালে অর্ধেকের বেশি চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন থেকে শূন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও চার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলিয়ে ৭৯ চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৭ জন। অর্ধেকের বেশি চিকিৎসক পদ শূন্য থাকায় কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি আধুনিক হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও এর জনবল কাঠামো এখনো রয়ে গেছে ৫০ শয্যায়। তারপরও ৫০ শয্যার অনুমোদিত জনবল কাঠামোর ২১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন। দীর্ঘদিন থেকে এখানে চোখের চিকিৎসক নেই, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও প্রাথমিক চিকিৎসাও এখানে মিলছে না। কারণ এ বিষয়েও কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই দীর্ঘদিন। এরই মধ্যে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হতে যাচ্ছে হাসপাতালটি। ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে, খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের বাইরে, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও একই রকম অবস্থা। এখানেও ২১ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন চিকিৎসক। গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন নয়জন চিকিৎসক। নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক আছেন চারজন। এখানে পদ সংখ্যা ১০টি। আর ভোলাহাটে নয় পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন চিকিৎসক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসাপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সামান্যতম চিকিৎসা সেবা মিলছে না উল্লেখ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব মুনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘জেলা সদরের একটা হাসপাতালে একজন হার্টের চিকিৎসক নেই। অর্ধেক পদই শূন্য। একটু কিছু হলেই রাজশাহীতে স্থানান্তর করে দেয়। এ প্রবণতা এখানে সবচেয়ে বেশি। মনে হয় কোনো রকমে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দিতে পারলেই হয়, এ রকম অবস্থা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এতে করে রোগীদের বাড়তি খরচ গুনতে হয়। অনেক সময় রাজশাহী যেতে যেতে রোগীর অবস্থার আরও অবনতি হয়। এমনকি অনেক সময় মারা যায় রোগী। এখনো সয়ংসম্পূর্ণ হতে পারল না আমাদের সরকারি হাসপাতালটি, এটা আমাদের কষ্ট বাড়ায়।’
চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন সায়ফুল ফেরদৌস মুহা. খাইরুল আতাতুর্ক জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হতে যাচ্ছে। অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শেষের পথে। ২৫০ শয্যার জন্য প্রযোজনীয় লোকবল কাঠামো প্রস্তুত করে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালটি উদ্বোধনের আগেই নতুন জনবল অনুমোদন পাওয়া যাবে। তখন চিকিৎসক সংকট অনেকাংশেই দূর করা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে বাড়বে সেবার মান। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট দূর করার কথাও জানান সিভিল সার্জন।

৩. নাটোরঃ (শূন্যপদ ৮৮ টি)
নাটোর সদর হাসপাতাল ও ৬টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসকদের পদ শূন্য ৮৮টি।

৪. নওগাঁঃ ( শুণ্যপদ ১৯০ টি)
নওগাঁর ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের ১৯০টিই শূন্য। এ কারণে জেলায় চিকিৎসা সেবার নাজুক হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র সাধারণ মানুষ। নওগাঁ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫জন অর্থাৎ জেলায় ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

৫. পাবনা ( ৩ উপজেলার তথ্য না পেয়েও শূণ্যপদ ৯৪ টি)
. আটঘরিয়া উপজেলায় ১০টি
. ঈশ্বরদী উপজেলায় ৮ টি
. চাটমোহর উপজেলায় ২৯ টি
. পাবনা সদর
. সাঁথিয়া উপজেলায় ২৪ টি
. সুজানগর উপজেলায় ২৩ টি
. ফরিদপুর উপজেলা
. বেড়া উপজেলায়

৬. বগুড়াঃ (শূন্য পদ অগণিত। গুনতে থাকেন)
১১০টি ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রে ১শ ১০ জন এমবিবিএস ডাক্তারের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ২৩ জন ডাক্তার। শূন্যপদ ৮৭ টি
. গাবতলী উপজেলায় ১৭ টি
. আদমদিঘী উপজেলায় ১০ টি
. শেরপুর উপজেলায় ১৩ টি
. সোনাতলা উপজেলায় ১৮ টি
. দুঁপচাঁচিয়ায় ১৫ টি
. বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই

৭. জয়পুরহাটঃ (শূন্য পদ ৮৫ টি)

৮. সিরাজগঞ্জঃ (গুনতে থাকেন)
. সদর হাসপাতালে ৩১ টি
. রায়গঞ্জে ৮ টি
. উল্লাপাড়ায় ১৮ টি

৯. কুষ্টিয়াঃ
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটে সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বারবার সরকারের উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কাজ হচ্ছে না। চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগান্তিতে আছে কুষ্টিয়াসহ পার্শ্ববর্তী চার জেলার মানুষ।
১৯৬৩ সালে স্থাপিত এ হাসপাতালের শুরুতে শয্যা সংখ্যা ছিল ১৫০। ২০০৫ সালে উদ্বোধন হলেও ২০১০ সালে হাসপাতালটিতে ২৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়।
২০১১ সালে কুষ্টিয়া মেডিকেল স্কুলে (ম্যাটস) কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ চালুর দুই বছর পর কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালকে অস্থায়ী ভিত্তিতে মেডিকেল কলেজ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে এখন শুধু কুষ্টিয়া নয় আশপাশের জেলা ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা ও রাজবাড়ী জেলার মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য আসে এ হাসপাতালে। কিন্তু সে অনুসারে বাড়েনি লোকবল এবং সেবার মান।
হাসপাতাল সূত্র বলছে, কুষ্টিয়া জেলায় একমাত্র হাসপাতাল হওয়ায় সমগ্র কুষ্টিয়াবাসীর একমাত্র ভরসা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল। ২০০৭ সালে ২৫০ শয্যায় উন্নতি করা হলেও বাড়ানো হয়নি চিকিৎসকের সংখ্যা। অল্প সংখ্যক চিকিৎসকদের নিরলস পরিশ্রম আর আন্তরিকতায় সেবা দেয়া হচ্ছে বিশাল সংখ্যক রোগীদের। বহির্বিভাগে রোগীর সংখ্যা এক থেকে দেড় হাজার জন ও ভর্তি রোগী সাড়ে ছয়শ জন। এত সংখ্যক রোগীর সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। এদিকে সেবা নিতে আসা রোগীরা বলছেন, অনেক সময় একজন ডাক্তার অনেক রোগী দেখেন। তাই সেখানে রোগীদের লম্বা সিরিয়াল থাকে সব সময়। যদি আরো ডাক্তার বাড়ানো হয় তাহলে সেবা পেতে আমাদের সুবিধা হয়। কারণ সকল বিভাগের সামনে সব সময় রোগীর লম্বা লাইন থাকে। কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসক সকল রোগীকে দেখতে পারেনা না বা জরুরী রোগীরা ডাক্তার দেখাতে পারেন না। তাই অতিদ্রুত চিকিৎসক সংকট দূর করার দাবী জানান তারা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, দক্ষতা, নিরলস পরিশ্রম আর সৃজনশীল প্রতিভার মাধ্যমে অল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি কিন্তু জনবল সংকটের কারণে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। তাই উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের এই বিষয়ে দক্ষ জনবল বাড়ানোর জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করেন এই চিকিৎসক।

১০. ঝিনাইদহঃ (শূণ্যপদ ১৩৩ টি)

১১. চুয়াডাঙ্গাঃ (শুধুমাত্র সদর হাসপাতালেই শূণ্যপদ ৩৯ টি)

১২. মেহেরপুরঃ (শূণ্যপদ ৬৯ টি)

১৩. সাতক্ষীরাঃ (শূণ্যপদ ১৫০ এর অধিক)

১৪. যশোরঃ (শূণ্য পদ ১২৯ টি)

১৫. খুলনাঃ (শূণ্যপদ ১২৬ টি)
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৭টি হাসপাতালে ৩০৮টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১২৬টিই শূন্য।

১৬. বাগেরহাট ( শূণ্যপদ ১০৬ টি)
জানা যায়, ১৯৭০ সালে ৫০ শয্যা নিয়ে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। পরে ১৯৯৭ সালে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও ৫০ শয্যার জনবলে চলছে হাসপাতালের কার্যক্রম। আর বর্তমানে সেই ৫০ শয্যার জনবলও অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে দিন দিন দুরাবস্থায় পড়ছে চিকিৎসা সেবা। ভয়াবহ এ চিকিৎসক সংকটের কথা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
৫০ শয্যার লোকবল অনুযায়ী হাসপাতালে ২৪ জন চিকিৎসকের ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে কনসালট্যান্টের ১২টি পদের মধ্যে ৭টি এবং মেডিকেল অফিসারদের ১২টি পদের ৪টি পদ শূন্য রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে।

১৭. মাগুরাঃ ( শূণ্য পদ ৬৬ টি)

১৮. নড়াইলঃ (শূণ্যপদ ৭৭ টি)

১৯. পিরোজপুরঃ (শূণ্যপদ ৯২ টি)

২০. ভোলাঃ (শূণ্যপদ ১০৫ টি)

২১. বরিশালঃ (শূণ্যপদ ৮৯ টি)

২২. পটুয়াখালীঃ (শূণ্যপদ ১৩৮ টি)

২৩. বরগুনাঃ (শূণ্যপদ ১১১ টি)

২৪. ঝালকাঠিঃ (শূণ্যপদ ৪২ টি)

২৫. দিনাজপুরঃ (শূণ্য পদ ১০০)

২৬. রংপুরঃ (শূণ্য পদ ৯২)

২৭. গাইবান্ধাঃ
. সদরে ৩১ টি
. গোবিন্দগঞ্জে ২৯ টি
. অন্যান্য হিসাবের বাহিরে

২৮. কুড়িগ্রামঃ
. সদরে ২৮ টি পদ শূণ্য
. অন্যান্য উপজেলায় ৭০ টি পদ শূণ্য

২৯. লালমনিরহাটঃ
. সদরে শূন্য পদ ২৩ টি
. আদিতমারী উপজেলায় ১৪ টি পদ শূণ্য
. অন্য তিনটি উপজেলায় কমপক্ষে ৩৫ টি পদ শূণ্য

৩০. ঠাকুরগাঁওঃ
. শুধুমাত্র সদর হস্পিটালেই ২০ এর অধিক পদ শূণ্য
. অন্যান্য উপজেলায় চিকিৎসক নেই বললেই চলে

৩১. নীলফামারীঃ
. সদর হস্পিটালে ১১ টি পদ শূণ্য
. অন্যান্য উপজেলায় চিকিৎসক নেই বললেই চলে

৩২. পঞ্চগড়ঃ
. সদরে ২৬ টি পদ শূণ্য
. তেঁতুলিয়া উপজেলায় ২৪ টি পদ শূণ্য

৩৩. ঢাকাঃ এখানে চিকিৎসক সংকট নেই বললেই চলে।
. ধামরাইয়ে শূণ্য পদ ৫ টি

৩৪. মুন্সিগঞ্জঃ
. সিরাজদিখানে শূণ্য পদ ১০ টি
. লৌহজং এ ১২ টি শূণ্য পদ
. সদরে শূণ্য পদ ১৬ টি

৩৫. মানিকগঞ্জঃ
. সদরে ৭ টি
. ঘিউর উপজেলায় ৫ টি পদ শূন্য

৩৬. রাজবাড়ীঃ
. সদরে ২৪ টি পদ শূণ্য
. গোয়ালন্দে ১৫ টি পদ শূণ্য

৩৭. শরীয়তপুরঃ (শূণ্যপদ ১২৮ টি)

৩৮. মাদারীপুরঃ
. সদরে শূন্যপদ ১০ টি
. কালকিনি উপজেলায় শূণ্যপদ ৮ টি
. শিবচর উপজেলায় শূণ্যপদ ২২ টি

৩৯. ফরিদপুরঃ
. জেনারেল হাসপাতালে শূণ্যপদ ১৯ টি
. বোয়ালমারী উপজেলায় শূণ্যপদ ১৭ টি
. ভাঙ্গা উপজেলায় শূণ্য পদ ২৩ টি
. নগরকান্দা উপজেলায় শূণ্য পদ ১৬ টি

৪০. গোপালগঞ্জঃ
. জেনারেল হাসপাতালে শূণ্যপদ ২৫ টি
. কোটলীপাড়া উপজেলায় শূণ্যপদ ১৩ টি

৪১. গাজীপুরঃ
. গাজীপুর মেডিকেল কলেজে ১০০ টি পদে জনবল প্রয়োজন
. শ্রীপুর উপজেলায় ১৫ টি পদ শূণ্য
. কাপাসিয়ায় ৪ টি পদ শূণ্য
. টঙ্গীতে ১০ টি পদ শূণ্য

৪২. টাঙ্গাইলঃ
. সখীপুর উপজেলায় ৮ টি পদ শূণ্য
. নাগরপুরে ১৬ টি পদ শূণ্য
. ভুঞাপুরে ২৫ টি পদ শূণ্য

৪৩. কিশোরগঞ্জঃ (১৫০ টি পদ শূণ্য)

৪৪. নারায়ণগঞ্জঃ
. খানপুর বিশেষায়িত হাসপাতালে শূন্য পদ ২৬ টি
. আড়াইহাজার উপজেলা কমপ্লেক্সে ৫ টি শূণ্য পদ

৪৫. নরসিংদীঃ
.বেলাব উপজেলায় ১৫ টি পদ শূণ্য রয়েছে
.পলাশ উপজেলায় শূণ্যপদ ৫ টি
. ভৈরব উপজেলায় শূণ্যপদ ১৪ টি

৪৬. ময়মনসিংহঃ শূন্যপদ ১২০ টি

৪৭. নেত্রকোনাঃ শূণ্যপদ ৬৩ টি

৪৮. শেরপুরঃ শূণ্যপদ ৩৭ টি

৪৯. জামালপুরঃ শূন্য পদ ৪৮ টি

৫০. সিলেটঃ শূণ্য পদ ৯১ টি

৫১. হবিগঞ্জঃ শূণ্য পদ ১১১ টি

৫২. সুনামগঞ্জঃ শূণ্যপদ ১৬২ টি

৫৩. মৌলভীবাজারঃ
. কুলাউড়া উপজেলায় শূণ্যপদ ২১ টি
. শ্রীমঙ্গলে শূণ্যপদ ১৩ টি
. রাজনগরে শূণ্যপদ ৫ টি
. ২৫০ শয্যা হস্পিটালে শূন্যপদ ২১ টি

৫৪. বি বাড়িয়াঃ
. সরাইল উপজেলায় শূন্যপদ ১৫ টি
. নাসিরনগরে শূণ্যপদ ১৬ টি

৫৫. কুমিল্লাঃ শূণ্যপদ ৫৭ টি

৫৬. নোয়াখালীঃ
. সেনবাগে শূণ্যপদ ১৭ টি
. কোম্পানিগঞ্জে শূণ্যপদ ২০ টি
. সূবর্ণচরে পদ শূণ্য ১৬ টি
. চাটখিলে শূণ্যপদ ১৯ টি

৫৭. ফেনীঃ
. সদর হাসপাতালে পদশূন্য ১৭ টি
. পশুরামপুরে শূণ্যপদ ১৫ টি
. সোনাগাজীতে শূণ্যপদ ১৮ টি
. উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে পদশূণ্য ১৭ টি

৫৮. চাঁদপুরঃ
. জেনারেল হাসপাতালে ১৯ টি শূণ্যপদ
. হাজীগঞ্জে শূণ্য রয়েছে ১৮ টি পদ
. মতলব উত্তর উপজেলা কমপ্লেক্সে ৪ টি পদ শূণ্য
. কচুয়ায় শূণ্যপদ ১০ টি

৫৯. লক্ষ্মীপুরঃ
. সদর হাসপাতালে শূণ্যপদ ৩ টি
. রায়পুরে ১৩ টি পদ শূণ্য
. উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২ টি পদ শূণ্য
. রামগঞ্জে ৫ টি পদ শূণ্য
. ইউনিয়ন সাব সেন্টারে ৯ টি পদ শূণ্য

৬০. চট্টগ্রামঃ শূণ্যপদ ১৫০ টি

৬১. রাঙ্গামাটিঃ শূণ্যপদ ৮১ টি

৬২. খাগড়াছড়িঃ শূণ্যপদ ৪৯ টি

৬৩. কক্সবাজারঃ শূণ্যপদ ৯০ টি

৬৪. বান্দরবনঃ উল্লেখযোগ্য কোনো ডাটা নাই।

মিডিয়ায় সারেজমিনে প্রাপ্ত এসব পদ সংখ্যার আংশিক হেরফের হতে পারে এক স্থান থেকে আরেকস্থানে বদলীর কারনে। কিন্তু গত দু বছরে ৩৯ তম বিসিএসসের আগে বড় কোনো নিয়োগ না হওয়ায় মোট সংখ্যার তেমন কোনো হেরফের হবেনা। এর বাইরে পড়ে রয়েছে ১৬ হাজার চিকিৎসকহীন কমিউনিটি ক্লিনিক, পড়ে রয়েছে আরো অসংখ্য ইউনিয়ন সাব সেন্টার, না জানা আরো অনেক উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স।

বেড সংখ্যা বাড়ানোর অনুপাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক পদ সংখ্যা বাড়ালে একদিকে যেমন রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পাবে, ঠিক তেমন সেবাদান, সরকারী চাকরি লাভ থেকে বঞ্চিত হবেনা কোনো মেধাবী চিকিৎসক। বিষয়গুলো দ্রুত সমাধানে বিশ্ব মানবতার রোল মডেল, সোনার বাংলার রুপকার জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।

লিখেছেন ডা. আতিকুর রহমান। এমবিবিএস, এসএমসি। নন-ক্যাডার (৩৯তম বিসিএস)।