ইরানের অভিযোগ উড়িয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র- কোন দিকে ঝুঁকে পড়ছে বিশ্ব রাজনীতি

ছবি: ইন্টারনেট

[su_dropcap size=”5″]সা[/su_dropcap]ম্প্রতিক সময়ে ইরানের আহভাজে এক সামরিক কুচকাওয়াজে সন্ত্রাসী হামলার পেছনের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

[su_heading size=”15″]জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি’র মন্তব্য[/su_heading]

[su_dropcap size=”5″]ই[/su_dropcap]রানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের জনগণকে নিষ্ঠুর শাসনে দমিয়ে রেখেছেন। সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা সেই দমনের একটা ফল। রুহানি পরোক্ষভাবে তাঁর জনগণকে বিক্ষুব্ধ হওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছেন। তিনি ইরানের সব টাকা-পয়সা সামরিক বাহিনীর পেছনে ঢালছেন। তাই এই হামলার কারণ অনুসন্ধানে তাদের সবার আগে অভিযোগ তুলতে হবে নিজেদের বিরুদ্ধে।

[su_heading size=”15″]ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি’র অভিযোগ[/su_heading]

[su_dropcap size=”5″]যু[/su_dropcap]ক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি আরব দেশ এ হামলায় সহযোগিতা করেছে। কয়েকটি আরব দেশ হামলাকারীদের অর্থ, অস্ত্র ও রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে। আর এসব আরব দেশকে উসকানি ও সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রুহানির এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেন, রুহানির অভিযোগ ভিত্তিহীন।

[su_heading size=”15″]যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি[/su_heading]

[su_dropcap size=”5″]ই[/su_dropcap]রানের সাথে যুক্তিরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কে পরমাণু চুক্তি বানচাল হবার পর থেকে মন্দভাব বিরাজ করতে থাকে।  চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার পর ওয়াশিংটন ইরানের উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। যেখানে ওই চুক্তিতে সই করা অন্যান্য দেশ যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন এবং রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিপক্ষে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ‘ইরান সরকার যতোটা না সরকার তারচেয়ে বেশি মাফিয়া।’ তিনি আরো বলেন, কেউ যাতে ইরানের কাছ থেকে তেল না কেনে সেজন্যে তিনি বিভিন্ন দেশকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন। তিনি বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যে ইরান থেকে তেল আমদানী বন্ধ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করছেন। মার্কিন নীতির কারণে ইরানের মুদ্রার বড় আকারে দরপতন হয়েছে।

[su_heading size=”15″]ট্রাম্প ও রুহানি’র বৈঠক প্রসঙ্গে[/su_heading]

[su_dropcap size=”5″]বৈ[/su_dropcap]ঠকে বসার ক্ষেত্রে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ‘পুনরায় আলোচনা শুরুর পূর্ব শর্ত হলো- পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে ট্রাম্প যে ক্ষতি করেছেন তা পূরণ করা। এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘যেটা নষ্ট হয়ে গেছে সেটা এখন পুনরায় মেরামত করা আবশ্যক।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেওয়া এক টুইটে হাসান রুহানির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা হয়তো ভবিষ্যতে কখনো হবে। আমি নিশ্চিত যে, তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন ভালো মানুষ।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অনুরোধ সত্ত্বেও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বৈঠক করার কোনো পরিকল্পনা নেই। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনে দুই নেতার বক্তব্যের আগ মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক টুইটে এ মন্তব্য করেন তিনি। বার্তসংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে।

দীর্ঘকাল ধ’রে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমস্যাগুলো চলে আসছে। আহভাজে হওয়া হামলার কারণে প্রতিশোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইরানের পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হবে, সেদিকে তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

 

সূত্র: বিবিসি/এনবিসি