শিকাগোতে গর্ভাশয় কেটে সন্তান চুরি, ৩ জন গ্রেফতার

বিনামূল্যে শিশুদের পোশাক বিতরণের অফার দেখে নয় মাসের এক গর্ভবতী নারী শিকাগোর একটি বাড়িতে যান, যেখানে তাকে হত্যা করে তার গর্ভাশয় কেটে বাচ্চাটিকে বের করে নেয়া হয় বলে নিহতের পারিবারিক বন্ধু ও পুলিশ জানায়। নবজাতকটির অবস্থা অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং তার বেঁচে থাকার আশা খুবই কম।

পুলিশের মুখপাত্র এন্থনি গুগলিলমি বলেন, বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দায়ের করা হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

অন্তত ৩ সপ্তাহ নিখোঁজ থাকার পর বুধবার (১৫ মে) সকালে ১৯ বছর বয়সী মার্লেন ওচোয়া-লোপেজের মৃতদেহটি বাড়ির পেছনে পাওয়া যায়। গত ২৩শে এপ্রিল ৯ মাসের গর্ভবতী লোপেজকে তার স্কুল ত্যাগ করতে দেখা যায়, ঐ একই দিনে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত প্যারামেডিকরা এক দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের এক স্থানে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকা এক শিশুর চিকিৎসার জন্য ডাক পায়।

একে ‘অনুচ্চার্য এক সহিংস আচরণ’ আখ্যা দিয়ে গুগলিলমি বলেন, ‘আমাদের ধারণা যে, তাকে খুন করা হয়েছিল এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এই হত্যার পর শিশুটিকে জোরপূর্বক গর্ভ থেকে বের করা হয়েছিল।’

শিকাগো ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র ল্যারি মেরিটি বলেছেন, ৯১১ এ ফোন করে এক নারী জানায় যে, তার নবজাতক খুব কষ্টের মধ্যে আছে। যখন প্যারামেডিক এসেছে তখন আর ‘শিশুটি শ্বাস নিচ্ছিল না, শিশুটি নীল হয়ে গিয়েছিল’। প্যারামেডিকরা

হাসপাতালে যাওয়ার পথে শিশুটির জ্ঞান ফেরাতে চেষ্টা করে।
লোপেজের তিন বছর বয়সী আরও একটি ছেলে আছে, তার পরিবার বলছে, ফেসবুকে এক মহিলা তাকে (লোপেজকে) বিনামূল্যে শিশুদের পোশাক ও একটি স্ট্রলার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডাকে।

পরিবারটির একজন মুখপাত্র সেসেলিয়া গার্সিয়া বলেন, ‘তাকে কাপড় ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল যা দেখে তিনি ভেবেছিলেন যে তার মেয়েদের কাপড় দেওয়া হয়েছে কিন্তু সেসব ছিল ছেলে সন্তানের পোশাক।’

লোপেজের পরিবার তার নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনুসন্ধান দল সংগঠিত করে, সংবাদ সম্মেলন করে লোপেজের সন্ধান করে এবং তদন্তের জন্য পুলিশকে তাড়া দিতে থাকে।

লোপেজের পরিবারের অন্য মুখপাত্র সারা ওয়াকার বলেন, এই তদন্তে একটি ব্রেক এসেছিল যখন একজন বলেছিলেন যে, তিনি শিশুটির জন্ম দিয়েছেন এবং অনলাইন ফান্ডরাইজিং প্রচারাভিযান আয়োজন করে। ‘গোফান্ডমি’ প্রচারণা বলছিল শিশুটি মারা যাচ্ছে এবং তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া জন্য অর্থ প্রয়োজন ছিল।

পুলিশ তখন লোপেজ এবং তার স্বামী ইয়োভান্নি লোপেজের ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে তারাই প্রকৃতপক্ষে শিশুটির বাবা-মা ছিলেন। লোপেজ হাসপাতালে তার সন্তানকে দেখতে যান।
পুলিশ প্রাথমিকভাবে লোপেজের স্ত্রীকে মার্কেন ওচোয়া-উরিস্টেগুইয়ের নামে চিহ্নিত করেছিল, কিন্তু পরে তার পরিবার জানায় ওচোয়া তার স্বামীর নামের শেষ অংশ ব্যবহার করেছিল।