রাজু ভাস্কর্যে ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অবস্থান

ছাত্রলীগ কমিটির পদবঞ্চিতরা আবারো মারধরের অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা। বিতর্কিতদের বহিষ্কার করে পদবঞ্চিতদের মধ্য থেকে সেই শূন্য পদে দায়িত্ব না দেয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান করবেন বলে জানান।

শনিবার দিবাগত রাত তিনটা থেকে অবস্থান করছেন তারা।

এদিকে বিক্ষুব্ধ নেতাদের বোঝাতে এসে ব্যর্থ হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বঞ্চিত নেতারা জানান, ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, `ছাত্রলীগের কমিটিতে বিতর্কিত ১৭ জনের তালিকা তাদের হাতে এসেছে। তাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করা হবে।’ কিন্তু তারা তা করেননি। এছাড়াও মধুর ক্যান্টিনে আমাদের নেত্রীদের ওপর হামলায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। রিপোর্ট না দেওয়ার কারণে আমরা ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে দায়িত্বপ্রাপ্ত জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছি। তারাও আমাদের রিপোর্টের বিষয়ে সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার আমরা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।

তারা বলেন, যেই ১৭ জনের তালিকা গণভবন থেকে এসেছে এবং তার সঙ্গে যুক্ত করে আমরা প্রায় ১০০ জনের তালিকা দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ৪০ জনের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ আমরা দাখিলও করেছি তাদের কাছে। সেই ১৭ জনকে তারা বহিষ্কার তো করেননি, আমরা যে তালিকা দিয়েছিলাম তারও কোনো সদুত্তর পাইনি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পর জটিলতা নিরসনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে টিএসসিতে আলোচনায় বসেছিলাম আমরা। সেখানে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নতুন কমিটির উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিপি আক্তারকে আপত্তিকর কথা বললে তিনি প্রতিবাদ জানান। এর জের ধরে সেখানে গোলাম রাব্বানী লিপি আক্তারের গায়ে হাত তোলেন। এরপরই তার অনুসারীরা পদবঞ্চিত নেতাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে।

এ সময় তারা দাবি করেন, মারধরের শিকার হয়েছেন নতুন কমিটির উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক নিপু ইসলাম তন্বী, তিলোত্তমা শিকদার, বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদা পারভীন ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা, সাবেক কেন্দ্রীয় উপ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক এমদাদ হোসেন সোহাগ, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক আজমীর শেখ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন। এর মধ্যে মারধরের ফলে শেখ আব্দুল্লাহর ‘গলার বোন’ ভেঙে গেছে বলে তারা জানান।

রোববার দুপুরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের সামনে পদবঞ্চিত ২০ জনের মতো নেতা অবস্থান করছেন।