তোমার দাম্পত্য দাও : পরিতোষ হালদার

আকাশ

মূর্ত পাহাড়ই ধরো, ভেতরে জেব্রানদী; গড়াতে গেলে কতো মাত্রা তার।
তুমি বিবাহিত রং বেছে নাও-
পাণ্ডুলিপির মতো ব্রহ্মাণ্ডে তোমার সংসার।

মনে করো একজোড়া ময়ূর সমস্ত পেখম জুড়ে আজো একা।

পিপাসায় মন্দ্র আঁকো, হর্ষছায়ার কাছে জমা রাখো অমিত অক্ষর।
ভুলে যাও যামিনী ছিলে-অন্ধকারে মধু ও মল্লার।

নগ্ন মৃত্তিকা তুমি, তাকিয়ে দেখো-
একটি প্রকৃতি গাছের দিকে হেলে আছে একখণ্ড পুরুষ আকাশ।



ঘাস

প্রতিটি অণুর মাঝে একেকটি জুঁই, লক্ষকোটি জুঁইফুল তোমার শরীর।
আরণ্যক আমি বর্ণে বর্ণে অহম খুঁজি, ব্রহ্মপুত্রে রেখে আসি জল।
রক্তচাঁদের পরে নির্বান-নির্বান বলে তথাগত ডাকে।

একটি মৃগয়াবাঘ আজও ওঁত পেতে থাকে, সমগ্র জঙ্গলে তার ডোরাকাটা দাগ।

তবু স্তুতি হয়…

ঋকমন্ত্রের মতো পাঁচটি ঘড়ি, মাঝরাত বেজে ওঠে কাঁটায় কাঁটায়।
দুজন অঞ্জলি তুলি-
আমাদের দুর্বাগুলি-প্রাগজন্মের লীলায়িত ঘাস।


দাম্পত্য

অপেক্ষায় বড় হও তুমি-ঈর্ষা কাছে যে তারা ফোটে তারও অমিত্রাক্ষর আছে।
ছলনায় কী পাঠ্য তোমার, ঘুঙুর না প্যারাডক্স ধ্বনি। হিম ও হর্ষরেখায় একবার ম্লান হয়ে ওঠো।

আমিও মৃগয়া জানি-বর্শাফলকে যেসব অপ্সরা আছে তারা আজও বালিকা।
মসলিনে শরীর ঢেকে কানামাছি খেলে।
শিশিরমঞ্চে নাচুক ভরতনাট্টম। তারপর চকলেট হাতে ফিরে যাক ইন্দ্রের বাড়ি।

তুমিই প্রথম, অথচ এপিক থেকে প্রতিদিন ঝরে পড়ি আমি।
আমারে দণ্ড দাও…তোমার দাম্পত্য দাও।


ফিচার্ড ইমেজ – শ্রী স্বেয়তী