নির্বাচনের পরদিন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ, বাড়িতে ঢুকে নারীদের শ্লীলতাহানি, গুলি

শুক্রবার ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পরদিন পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বিভিন্ন এলাকায় হামলা-পাল্টা হামলা ও বাড়িতে ঢুকে নারীদের শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে।

রাতে দুর্গাপুরের লাউদোহা এলাকার পাটশাওড়া গ্রামে তৃণমূল কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে রড দিয়ে মারধরের পাশাপাশি নারীদের শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ করেছে দলটি।

মারের হাত থেকে রেহাই পায়নি বাড়ি নারী সদস্যরাও। বিজেপির নেতাকর্মীরা তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারধর করে হাত ভেঙে দিয়েছে। ঘর থেকে টেনে বের করে নারীদের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করা হয়।

এই ঘটনায় দুর্গাপুর ফরিদপুর থানায় তৃণমূল অভিযোগ দায়ের করেছে। যদিও স্থানীয় বিজেপি দাবি, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার শালতোড়া এলাকায় তৃণমূল ও বিজেপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে বিদ্যুৎ দাস নামের স্থানীয় বিজেপি নেতার বাম কানে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শালতোড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে তৃণমূল নেতার বাড়ি।

বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ স্থানীয় তৃণমূল নেতা কালীপদ রায়ের নির্দেশে পুলিশের সামনেই গুলি চালিয়েছে শাসকদলের কর্মীরা। ঘটনার পর কালিপদ রায়কে গ্রেফতার ও শালতোড়া থানার ওসির বদলির দাবিতে থানা ঘেরাও করেন বিজেপি কর্মীরা।

তবে গুলি চালানোর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতা কালীপদ রায়। তার পাল্টা অভিযোগ, বিজেপির কর্মীরা অতর্কিত বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে।