ক্ষমতা উপভোগের বিষয় নয়, বরং জাতিকে সেবা করার সুযোগ: প্রধানমন্ত্রী

দেশবাসীকে আবারও সেবা করার সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্নির্বাচিত করায় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ক্ষমতা তার কাছে উপভোগ করার বিষয় নয়, বরং জাতিকে সেবা করার একটি সুযোগ।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৩ জুন সরকার আগামী অর্থবছরের যে বাজেট উপস্থাপন করবে তার আকার হবে পাঁচ লাখ কোটি টাকার বেশি।

ফাইল ছবি।

গণভবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের জন্য দেওয়া এক ইফতার মাহফিলে শনিবার তিনি এ কথা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা যখন প্রথম সরকার গঠন করি তখন উন্নয়ন বাজেটের আকার ছিল ১৮/১৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরে আমরা দুই লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেট প্রণয়ন করেছি।”

দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “দেশের প্রতিটি মানুষ যাতে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ে একটি সুন্দর জীবন-যাপন করতে পারে আমরা তার জন্য সকল ব্যবস্থা করছি। এদেশের একটি মানুষও গৃহহারা থাকবে না, কেউ বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না। প্রত্যেকটা মানুষ তার মৌলিক অধিকার পাবে। সংবিধানের আলোকে আমরা উন্নয়ন করে যাচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় প্রতিটি মানুষ তার মৌলিক অধিকার নিয়ে বাঁচুক। একটি মানুষও গৃহহীন ও চিকিৎসাহীন না থাকুক এবং শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হোক।

তিনি বলেন, “এই আদর্শ অনুসরণ করে আমি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি এবং এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিটি মানুষকে একটি সুন্দর জীবন উপহার দেওয়া।”

দেশের ৯৩ শতাংশ লোক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা দারিদ্র্যের হার ৪১ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশে এবং চরম দারিদ্র্যের হার নামিয়ে এনেছি। চলতি অর্থবছরে আর কেউ চরম দরিদ্র থাকবে না, ইনশাল্লাহ।”

গণভবনের ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এখানে এসেছেন। সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আপনারা এসে এই গণভবনের এই মাটিকে ধন্য করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মূল মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, বেগম মতিয়া চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তথ্যসূত্র: পার্সটুডে।