চার যুবককে ইয়াবার মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসাল পুলিশ

শুক্রবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় করইবাড়ি গ্রামে প্রবাসীসহ চার যুবককে আটক করে সোয়া লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে থানার এক এএসআইয়ের বিরুদ্ধে।

আটককৃতরা হলেন ওই গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে ব্যবসায়ী রবিউল আলম, আবদুল হকের ছেলে জার্মান প্রবাসী জুয়েল রানা, মালেক মিয়ার ছেলে দুবাই প্রবাসী মোমেন মিয়া ও নাজিম উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী জিকরিয়া।

সূত্র মতে, শুক্রবার রাতে তারাবি নামাজ আদায়ের পর নবীনগর থানার এসআই মনিরুজ্জামান ও এএসআই আশরফুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই চার বন্ধুর কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে বলে দাবি করে। পরে মাটি থেকে একটি সিগারেট প্যাকেট কুড়িয়ে ৮টি ইয়াবা দিয়ে তাদেরকে ইয়াবা সেবনকারী হিসেবে আটক করে। তাদেরকে ছাড়াতে চার লাখ টাকা দাবি করে এএসআই আশরাফুল। এ সময় জুয়েল রানার ভাই নিজেকে বিজিবির সদস্য পরিচয় দিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দিতে বললে পুলিশ ক্ষেপে গিয়ে তাকেও ধরে থানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হয়। পুলিশের দাবিকৃত চার লাখ টাকা না দেয়ায় রাতেই তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ওই দির রাত ৩টার দিকে পুলিশের সঙ্গে তাদেরকে ছেড়ে দিতে এক লাখ ২০ হাজার টাকায় রফা হয় এবং এএসআই আশরাফুলকে ওই টাকা দেন উজ্জল মিয়া। পরের দিন চার যুবককে ইয়াবা সেবনকারী হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে তাদেরকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়।

বিষয়টি ওই রাতে থানার ওসিকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই এএসআইয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

মো. উজ্জল মিয়া বলেন, আমার ভাই জার্মানিতে থাকে, দেশে এসেছে ঈদ করতে তারা চার বন্ধু কোনো দিন সিগারেটই খায় না ইয়াবা সেবন করার তো প্রশ্নই উঠে না। আমি বিজিবির সদস্য পরিচয় দিলে আমাকেও থানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হয় পুলিশ।

তিনি বলেন, এএসআই আশরাফুল ইয়াবা দিয়ে আমার ভাইসহ অন্যদের ফাঁসিয়ে চার লাখ টাকা দাবি করে। দাবিকৃত টাকা না দেয়ায় তাদের থানায় নিয়ে যায়। রাত ৩টার দিকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা নেয় এএসআই আশরাফুল। পরে তাদেরকে মোবাইল কোর্টে নিয়ে আরও ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমরা তদন্তের মাধ্যমে এর বিচার চাই।

আরেক প্রবাসীর ভাই মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আমার ভাই ধুমপানই করে না। আর তাদের বন্ধুদের একজনের একটি কিডনি নেই। তাদেরকে ইয়াবা দিয়ে পুলিশ চার রাখ টাকা দাবি করেছিল। পরে আমরা এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঘটনার স্বীকার করে এএসআই আশরাফুল বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে। জীবনে আমি আর এমন কাজ করব না। আমাকে প্রথমবারের মতো মাফ করে দেন। ভাই কোনো নিউজ কইরেন না।