সাঈদ শ’-এর গুচ্ছ কবিতা : বেজে উঠছে না গোপন হুইসেল

অ-মৃত

হেমলক এক প্রকার বিষ
যা পান কোরে
সক্রেটিস
অমর হয়ে গেলেন..


রিচুয়াল

ঢেউ হলো সমুদ্রের মুখ

সৈকতে হাঁটতে হাঁটতে নির্জন মানুষটির
বিলীন হয়ে যাওয়ার গল্প;

মূলত–
সমুদ্রের ক্ষুধাবৃত্তির উপকথা..


গাছ বিষয়ে

গাছেদের ভাষার কাছে
আমাদের ভাষা অর্থহীন

সেহেতু গাছ যে দাঁড়িয়ে থাকে
এই নিয়ে আলাপ নিষিদ্ধ হোক

হতে পারে গাছটি বসে আছে

কিংবা দৌড়াচ্ছে
ঘন্টায় একশো কিলোমিটার বেগে

ধরা যাক..


পিপাসা

জলেরও আছে গোপন পিপাসা
আছে আগুন খেয়ে ফেলার ভাষা


ইশারা


কোনো সাড়াশব্দ নেই, নীমিলীত কণ্ঠে
বেজে উঠছে না গোপন হুইসেল

তবু এদিক ওদিক
তাকিয়ে দেখি

পাতার ঝোপে
রৌদ্রের ইশারা

তার নিচে
তোমার ছায়া পড়ে আছে, কাঁপছে..


হাওয়াকে দেখা যায় না

তবু গায়ে মাখলে
নৈঋত না ঈষাণ

দিক ধারণা মনে আসে


অন্তর্ধান

জন্মের পর প্রথম শিশুটি কেঁদেছিলো-
মৃত্যু জন্মলাভের শোকস্বরূপ।


পাখিরা

আকাশগ্রন্থি জুড়ে লেখা
–‘পাখিরা স্বাধীনচেতা’

যেহেতু তারা বিশ্বাস করে
হৃদয়ের কোনো মানচিত্র নেই
এবং আমাদের ব্যক্তিগত কোনো
আকাশ নেই তাদের ডানার নিচে

যেন তারা আজ পেরিয়ে যায়
শাসকস্তম্ভের সীমানা; নিমেষেই
গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদের
বৈকল্যতা মান্য না করেই..


আশ্রয়

ঘর থেকে বেড়িয়ে
দূরে কোথাও
বিরাগ মুছে মুছে শিখছি উড়ান

হেমন্তের আকাশ ভেঙে পড়ে
তখন পালাচ্ছি যেন
আর ফিরতি পথসব
ভেঙে ভেঙে গেলে

ভোরের দরোজার মতন শান্ত
দাঁড়িয়ে থাকেন, মা

আমরা তাঁর ভেতর
স্কুলছুটি বালকের মতো
ঢুকে পড়ি হুড়মুড়িয়ে।