উদ্ভিদ বিলুপ্তির হার স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি

বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০০ গুণ বেশি গতিতে উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন এবং স্টকহোম বিশ্ববিদ্যলয়ের একদল গবেষক জানান বিগত ২৫০ বছরে ৫৭১টি উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে। এই সময়ে পাখি, স্তন্যপায়ী আর উভচর মিলে বিলুপ্তির সংখ্যা ২১৭ প্রজাতি। ফলে উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তের হার দ্বিগুণেরও বেশি।

আর আগে চলতি বছর মে মাসে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিলো ১০ লাখ জীব প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. অ্যালিস হামফ্রেস বলেন, বিগত শতাব্দীতে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণী বা পাখির নাম অনেকেই বলতে পারবেন। আমাদের গবেষণায় আমরা তুলে ধরেছি যে কোন গাছগুলো ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং কত দ্রুত বিষয়টা ঘটেছে।

উপকূলীয় অঞ্চল ও  দ্বীপেই সবচেয়ে বেশি উদ্ভিদ প্রজাতি বিলু্‌প্ত হয়েছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। তবে গবেষকদের ধারণা উদ্ভিদ প্রজাতির বিলুপ্তির ভয়াবহতা এই সংখ্যার মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব না।

এর মাঝে আশার বাণীও শুনিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলেন, চিলিয়ন ক্রোকাসের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া উদ্ভিদ প্রজাতিকে আবার কোথাও কোথাও দেখা গেছে।

পৃথিবীর সমস্ত প্রাণিকূলই অক্সিজেন ও খাবারের জন্য উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদের বিলুপ্তিতে তার ওপর নির্ভরশীল প্রাণীও বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। যেমন কিছু কীট-পতঙ্গ যারা গাছের পাতার ওপর নির্ভরশীল।

রয়াল বোটানিক গার্ডেনের গবেষক ও বিজ্ঞানী ড. আইমার নিক ‍লুগাদা বলেন, উদ্ভিদের বিলুপ্তি সবার জন্যই খারাপ খবর। তিনি বলেন, মানুষসহ লাখ লাখ প্রাণী উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। তাই কোন উদ্ভিদের বিলুপ্ত হচ্ছে জেনে আমাদের বিকল্প প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হবে।

এই বিলুপ্তি ঠেকাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা। এরমধ্যে বিশ্বজুড়ে সবগুলো গাছের রেকর্ড রাখা, গাছের প্রজাতি সংরক্ষণ, আরও গবেষণা এবং শিশুদের গাছ চিনতে শেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।