বিশ্বকাপ নাকি বৃষ্টিকাপ! তবু রিজার্ভ ডে না রাখার পক্ষে সাফাই আইসিসি’র

বিশ্বকাপ নাকি বৃষ্টিকাপ! বিশ্বকাপের মত বড় আসরে বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় দর্শকদের প্রতিক্রিয়া তেমনই। ইংল্যান্ডে চলমান ক্রিকেট বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১৬টি ম্যাচের ৩টিই বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। এর আগে ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে দুটি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে সামনে আরও কিছু ম্যাচ! অথচ এত বড় আয়োজনে নেই কোনো রিজার্ভ ডে। তাই ম্যাচ একবার পরিত্যক্ত হলে পয়েন্ট ভাগাভাগি ছাড়া আর কোনো উপায় রাখেনি আইসিসি। শুধু সেমিফাইনাল আর ফাইনালের জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে। আর আইসিসির এমন উদাসীনতায় বেশ জোরেশোরেই প্রশ্ন উঠেছে।

গতকাল ব্রিস্টলে বৃষ্টির কারণে ভেসে গেছে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ। ‌এর আগের দিন বৃষ্টিবাধায় ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচও।

বৃষ্টিতে এভাবে ম্যাচ ভেসে যাওয়ায় ভীষণ হতাশ বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, ‘এটা সব দলের জন্যই হতাশার। মাঠে এসে খেলতে না পারাটা অবশ্যই হতাশার।’ বাংলাদেশ কোচ স্টিভ রোডস অট্টহাসি দিয়ে দারুণ এক খোঁচাই দিলেন আয়োজকদের, ‘আমরা চাঁদে লোক পাঠাতে পারি, কেন রিজার্ভ ডে রাখতে পারি না, যখন টুর্নামেন্টটা এত লম্বা।’

রিজার্ভ ডে না রাখা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে তখন নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাবে এবং এটা আয়োজন করা অনেক জটিল হয়ে যাবে। এর সাথে পিচ তৈরি, দলগুলোর তত্ত্বাবধান, ভেন্যু পাওয়া, টুর্নামেন্টের কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, ম্যাচ কর্মকর্তা, সম্প্রচার, সরবরাহকারী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকারী দর্শকদের ম্যাচে থাকার সাথে প্রভাব রয়েছে। রিজার্ভ ডেতে বৃষ্টি হবে না তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি ম্যাচে ১২০০ মানুষ যুক্ত থাকে। যারা ম্যাচের প্রতিটি ক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকেন। এই ১২০০ মানুষ নিয়েই আমাদের এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে যেতে হয়। সব কিছু মিলিয়ে জটিল একটা বিষয়কে আরও বড় করা সম্ভব ছিল না। সব কিছু বিবেচনা করেই আমরা নক আউট পর্বে রিজার্ভ ডে রেখেছি। যেখানে একটা ম্যাচ আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বর্তমানে একেবারেই অদ্ভুত আবহাওয়া চলছে। গত দুদিনে আমরা প্রায় গড়ে এক মাসের বৃষ্টি দেখে ফেলেছি। অথচ জুন ইংল্যান্ডের তৃতীয় শুষ্ক মাস হওয়ার কথা।’

চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে- ভারত-নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচসহ আরও কিছু খেলা পরিত্যক্ত হতে পারে।