রাস্তাজুড়ে উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি, গণমানুষের দুর্ভোগ চরমে!

বর্ষার আগেই পোর্ট কানেকটিং (পিসি) রোডের সম্প্রসারণ কাজ শেষ করার কথা থাকলেও কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রতিদিন আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী শত শত ভারী যানবাহন সড়কে আটকা পড়ছে। আশপাশের সড়কগুলোতে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। বাড়ছ গণমানুষের দুর্ভোগ।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম ওয়াসা তাদের পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য যত্রতত্রই রাস্তা কাটাকাটি অব্যাহত রেখেছে। ফলে আসন্ন বর্ষায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে উঠার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পিসি রোডের সম্প্রসারণ কাজ চলছে। কথা ছিল বর্ষার আগেই কাজ শেষ করা হবে। তবে এখনও পর্যন্ত যেই গতিতে কাজ চলছে তা শেষ হতে আরও বছর পার হয়ে যেতে পারে।

সড়কের বড়পুল থেকে বন্দর মোহাম্মদিয়া মাদরাসা পর্যন্ত একাংশে পিচ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। বাকি সড়কে এখনও চলছে সম্প্রসারণ কাজ। চট্টগ্রাম বন্দর সংলগ্ন নিমতলা থেকে অলঙ্কার পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার এ সড়কের উপর ইট, বালি আর কাদা মাটির স্তুপ।

পুরো সড়কের বিশাল অংশজুড়ে রাখা হয়েছে অকেজো ট্রাক, লরি, বাসসহ হরেক যানবাহন। নির্মাণ সামগ্রী রেখেও অনেক এলাকায় সড়ক দখল করা হয়েছে। সড়কের কোথাও বড় বড় গর্ত আবার কোথাও উঁচু মাটি-পাথরের ঢিবি। এর উপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে চলছে ভারী যানবাহন। রোদ হলে ধুলায় ধূসর পুরো এলাকা। আর বৃষ্টি হলে কাদা পানিতে সয়লাব সড়ক এবং আশপাশের দোকানপাট, বাসাবাড়ি। দীর্ঘ যন্ত্রণার পর ঈদের আগে আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের একাংশ খুলে দেয়া হয়।

জুনের মধ্যে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে বলে জানান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী কাজি হাসান বিন শামস।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সড়কের প্রায় আট কিলোমিটার অংশে পিচ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ শেষ করতে বর্ষার মধ্যেও কাজ করতে হবে। পুরো কাজ শেষ হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় লাগবে তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নগরীর ব্যস্ততম বহদ্দারহাট থেকে সিঅ্যান্ডবি হয়ে মোহরা কালুরঘাট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা এখনও বেহাল। তিন বছরের বেশি সময় ধরে সড়কের একপাশ বন্ধ রেখে পাইপ লাইন স্থাপনের জন্য খোঁড়াখুুঁড়ি করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

সিটি কর্পোরেশনের প্রকৌশলীরা জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে। তবে কাজ শুরু হতে চলতি বর্ষা শেষ হয়ে যাবে। ফলে এ বর্ষায়ও ওই এলাকার বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে। নগরীর অক্সিজেন, বায়েজিদ, সিমেন্ট ক্রসিং থেকে প্লোটিলা জেটি পর্যন্ত সড়কসহ বেশ কয়েকটি সড়কে সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন কাজ চলছে। সড়ক বিভাগের বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত সড়কের সংস্কার কাজও এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ঈদের আগে সড়কটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলেও এখনও উন্নয়ন কাজ চলছে।