বাজেটে দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা

আতিকুর রহমান:: এবারের বাজেটে দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম পর্যন্ত সিংগেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার রেলওয়েকে একটি সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ খাতে উন্নয়নের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। রেলখাতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৬ থেকে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত ৩০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার আওতায় ২০৪৫ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়নের জন্য ২৩০টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কার, রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তরকরণ, নতুন ও বন্ধ রেল স্টেশন চালু করা, নতুন ট্রেন চালু ও ট্রেনের সার্ভিস বৃদ্ধি করা, ট্রেনের কোচ সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ অব্যাহত রয়েছে।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, আগামী অর্থবছরে ১১১০.৫০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ ডাবল রেল ট্র্যাক, ৫২ কিলোমিটার নতুন রেল ট্র্যাক নির্মাণ, ১০০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহ, ২টি আইসিডি নির্মাণ, ৩টি মেজর ব্রিজ নির্মাণ, ১ হাজার ১২০টি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ, ৩টি রেলওয়ে ওয়ার্কশপ আধুনকায়ন/নির্মাণ এবং সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই রেল লাইন প্রকল্পটি কক্সবাজারবাসীর বহুদিনের প্রাণের দাবি। এটি বাস্তবায়ন হলে কক্সবাজারের পর্যটন, মৎস্য ও লবণ ইত্যাদি খাতের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাবে। এই প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে আরাকান সড়কের উপর চাপ কমে যাবে অন্যদিকে চট্টগ্রাম-ঢাকার সাথে কক্সবাজারের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ ও স্বল্প সময়েস্বল্প সময়ে করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে এই প্রকল্পটির জমি অধিগ্রহণের কাজ ইতিমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাজেটে বিশাল এই বরাদ্দ প্রস্তাবিত হওয়ায় খুব শীঘ্রই এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।