ভূমিকম্প ও সুনামিতে ইন্দোনেশিয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়াসি দ্বীপের পালু শহরে শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৪ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির দুর্যোগ সংস্থা শনিবার একথা জানিয়েছে।

স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার একটু আগে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে দ্বীপটিতে। এরপর ১৮ ফুট উঁচু ঢেউ পালু শহরকে ভাসিয়ে নেয়।

সংস্থাটি আরো জানায়, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। আহত হয়েছে আরো অন্তত ৫৪০ জন। নগরীটিতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোকের বাস।

উপকূলে যখন সুনামির ঢেউ আঘাত হানে তখন ‘বিচ ফেস্টিভ্যাল’ উপলক্ষ্যে অনেকেই সৈকতে জড় হয়েছিলেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সমুদ্র তট থেকে অনেকগুলো মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুলাওয়াসি দ্বীপটিতে শনিবারও শক্তিশালী পারঘাত অব্যাহত রয়েছে। নগরীটিতে হাসপাতাল, হোটেল ও শপিং সেন্টারসহ হাজার হাজার বাড়ি ধসে পড়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পালুর প্রধান সড়ক ভূমিধসের কারণে বন্ধ রয়েছে এবং প্রধান সেতুও ভেঙে পড়েছে।

ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে পালু শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে, ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার অভিযান।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র সুতোপো পুরৌ নুগরোহো বলেন, সুনামির পর সমুদ্র তটে এখনো অনেকে মৃতদেহ পড়ে রয়েছে, এই সংখ্যা এখনো অজানা।

তিনি বলেন, গতকাল ভূমিকম্পের পর যখন সুনামি সতর্কতা জারি করা হয় তখনও লোকজন সৈকতে তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাই প্রকাণ্ড ঢেউ যখন উপকূলে আছড়ে পড়ে তখন তারা আর দৌড়ে নিজেদের রক্ষা করতে পারেননি। বেঁচে থাকা কিছু মানুষ জানিয়েছেন, তারা বিশাল এই ঢেউ থেকে বাঁচতে ১৮ ফুট উচু গাছে উঠেছিলেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সুলাবেসি দ্বীপের পালু শহরের ৭৮ কিলোমিটার উত্তরে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে এক ঘণ্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়।

পালু শহরের সৈকতে শত শত মানুষ শহরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘বিচ ফেস্টিভ্যালের’ প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। শুক্রবার রাতে ওই ফেস্টিভ্যাল শুরু হওয়ার কথা ছিল।

 

সূত্র: বিবিসি।