পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন মমতা : বিজেপি

আজ (মঙ্গলবার) সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ভাষণ দেয়ার সময় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সভাপতি ও মেদিনীপুরের এমপি দিলীপ ঘোষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে বলেছেন, মমতা পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, “দেখুন, আইন দেশে একটাই। কিন্তু আপনি বাংলায় যাবেন, বলা হচ্ছে বাংলা শিখে আসতে হবে। মাননীয় হেমা দিদি যদি গঙ্গা সাগরের স্নান করতে চান তাহলে প্রথমে তাকে বাংলা শিখতে হবে। মন্ত্রীরা যদি বাংলার কোলকাতায় যেতে চান তাহলে বাংলা শিখে যেতে হবে, অন্যথায় যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী, বিজেপির সভাপতি অথবা উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথজি বাংলায় যেতে চাইলে হেলিকপ্টার নামার অনুমতি নেই। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর খুব ইচ্ছা উনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। শুকরিয়া, কোনও বাংলাভাষী প্রধানমন্ত্রী হলে ভালো, আমরা বাংলায় কথা বলব। কিন্তু আসলে কী হয়, ৪২ আসন জিতে কেউ প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন না। এজন্য উনি কর্মসূচি নিয়েছেন বাংলাদেশের সঙ্গে বাংলাকে মিশিয়ে দিয়ে উভয় মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে উনি প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন। এজন্য দেখুন লোকসভা নির্বাচনের সময় ওদের কাছে কোনও জনপ্রিয় নেতা না থাকায় প্রচারের জন্য বাংলাদেশের অভিনেতাকে আনা হয়েছিল! উনি বাইরের লোক নন!”

দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের কোনও অনুপ্রবেশকারী এলে, রোহিঙ্গা এলে তারা বহিরাগত নয়! ইটালি থেকে কেউ এলে তিনিও বহিরাগত নন। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ যদি যান তাহলে বহিরাগত হবেন। বাংলায় আপনারা যেতে পারবেন না। আপনার জন্য অনুমতি নেই!

তিনি বলেন, আমরা খুশিতে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে থাকি। ভগবান রাম মর্যাদাপুরুষোত্তম ছিলেন। আদর্শ রাষ্ট্র কী তা তিনি দেখিয়েছেন। এজন্য আমরা যারা রাজনীতি করি তারা ‘জয় শ্রীরাম’ বলি। এটা কোনও ধর্মীয় শ্লোগান নয়। এর বিরুদ্ধে ‘জয় বাংলা’ বলা হচ্ছে। ‘জয় বাংলা’ বাংলায় কবে এল? এটা তো বাংলাদেশের শ্লোগান। এভাবে সবকিছু বাংলাদেশ থেকে আনছেন এবং বাংলাকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এর বিরোধিতা করছি।