কঙ্গনাকে ধর্ষণের অভিযোগ আদিত্যর বিরুদ্ধে

অভিনেতা-প্রযোজক আদিত্য পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রুজু করেছে মুম্বাইয়ের ভারসোভা পুলিশ স্টেশন। বৃহস্পতিবার এবিষয়ে পুলিশের কাছে জবানবন্দি দেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।

২০১৭ সালে কঙ্গনা রানাউত আদিত্যর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন।

পুলিশের কাছে এখন অভিযোগ দায়ের করা হলেও, ধর্ষণের ঘটনাটি আসলে ঘটেছিল ১০ বছর আগে। সেক্ষেত্রে ধর্ষণ হয়েছিল কিনা তা প্রমাণ করাটা প্রায় অনিশ্চিত পুলিশের কাছে।

আদিত্য যদিও প্রথম থেকেই এতে মিথ্যে ধর্ষণের মামলা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

ভারতের গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভি বলছে, থানায় করা ওই অভিযোগে ওই অভিনেত্রী দাবি করেন, বেশ কয়েক বছর আগে তাঁকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেছেন আদিত্য। এ বিষয়ে সম্প্রতি অভিযুক্ত অভিনেতার নামে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তিনি। অতীতেও এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন ওই অভিনেত্রী। তখন দাবি করেছিলেন, ১৭ বছর বয়সে প্রথম তাঁকে ধর্ষণ করেন আদিত্য। এই ঘটনার পর পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, আদিত্যকে শুধু হুঁশিয়ারি দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয়। ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের পরও তাঁর নামে কোনো এফআইআর দায়ের করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ জানিয়েছে, অভিনেত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা করা হয়েছে। তবে ১০ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রমাণ কীভাবে জোগাড় করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া না গেলে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ করা খুবই সমস্যার।

একই দিনে অর্থাৎ বুধবারই আদিত্য পাঞ্চোলির দায়ের করা মানহানির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কঙ্গনা রনৌত ও তাঁর বোনের নামে সমন পাঠিয়েছে আন্ধেরি আদালত। আগামী ২৬ জুলাই এই মামলার শুনানিতে তাঁদের হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে অনেকেই ধারণা করেছেন কঙ্গনা রনৌতই আদিত্য পাঞ্চোলির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। এমনিতে ‘ঠোঁটকাটা’ বা ‘স্পষ্টভাষী’ হিসেবেও বলিউডে তাঁর পরিচিতি আছে। বেফাঁস কথা বলে বিপাকেও পড়েছেন বহুবার। তাঁর সঙ্গে এখন পর্যন্ত আদিত্য পাঞ্চোলি, অজয় দেবগনসহ আরও কয়েকজনের প্রেমের খবর চাউর হয়েছে। একাধিক প্রেমের কথা অকপটে স্বীকারও করেছেন এ তারকা।

ঘটনার দুই বছর আগের। ২০১৭ সালে সংবাদমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার আদিত্য ও তাঁর স্ত্রী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন কঙ্গনা। তাঁর বোন রঙ্গোলিও এই দম্পতির নামে আপত্তিকর টুইট করেন বলে অভিযোগ। এরপরই তাঁদের নামে মানহানির মামলা করেন আদিত্য ও তাঁর স্ত্রী জারিনা ওয়াহাব। তার ভিত্তিতে মোট চারটি আলাদা মামলায় সমন জারি করেছেন আন্ধেরির আদালত।