চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের বিভাগীয় প্রধান রেজাউল করিম

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ডাঃ মোঃ রেজাউল করিমকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। ১ জুলাই, সোমবার থেকে এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

তিনি ১ জানুয়ারী ২০১৭ চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজ, নোয়াখালী ও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য যে, তার কর্মকালীন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়।

তার প্রচেষ্টায় কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে শৃংখলা ফিরে আসে। ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি বাড়ে। বিএমডিসি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পর পর ২বার মে’ ২০১৬ ও মে’ ২০১৭ সালের ১ম প্রফেশনাল এমবিবিএস পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৪টি কলেজের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ পাশের হারে ১ম হয়।

তিনি নিম্নমান সম্পন্ন চিকিৎসক তৈরী বন্ধ করার চেষ্টা করেন। তিনি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কর্মচারীদের পদগুলি ভূতাপেক্ষাভবে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেন।

কলেজের ২টি গাড়ীর ৪ বছর পূর্বে মেয়াদ উত্তীর্ণ কাগজ পত্র হাল নাগাদ করেন। ১৩,৬০,৯৮৭ টাকার বকেয়া বিদ্যুত বিল পরিশোধ করার ব্যবস্থা করেন। পরিমিত বিদ্যুৎ ব্যবহার ও সুষ্ট তদারকির ফলে পুরাতন ক্যাম্পাসে কলেজের মাসিক ৮০ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল ১৫ হাজার নামিয়ে আনেন।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কোন ক্লাশ রুম ছিল না। শিশু ওয়ার্ডের পাশে সদর হাসপাতালের ৩ তলায় ১টি সুন্দর ক্লাশ রুমের ব্যবস্থা করেন। সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বিশেষ নব জাতক ইউনিট (স্ক্যানো) ইউনিট তিনি দেখাশুনা করার দায়িত্ব পালন করেন এবং নব জাতকের চিকিৎসা সেবার অনেক উন্নতি সাধন করেন।

স্ক্যানোতে প্রায় ১০০% ঔষধ বিনা মূল্যে পাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সারা দেশের ৪২টি (স্ক্যানো) স্কানোর মধ্যে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের (স্ক্যানো) মুল্যায়নে ২য় স্থান লাভ করে। হোষ্টেলের পুরানো আসবাব পত্র দিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ৩০ টি কেবিন চালু করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। এতে রুগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি বার্ষিক ৩০-৪০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ নির্মাণ পরিকল্পনায় সীমানা প্রাচীর ছিলনা। তিনি ৩১ একর এলাকা ব্যাপী বিশাল এলাকায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে বাদ পড়া ৩৪ শতক জায়গা অধিগ্রহনের ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তিনি নতুন বা স্থায়ী ক্যাম্পাসে বেদখল হয়ে যাওয়া জায়গা উদ্ধার করেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ নির্মাণ পরিকল্পনায় শহীদ মিনার ছিলনা। তিনি ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণ করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। কলেজ নির্মাণ পরিকল্পনায় আগমন পথে কোন গেইট ছিলনা । তিনি কলেজের আগমন পথে একটি গেইট নির্মান করে অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

তিনি ক্যাম্পাসে সাময়িক একটি মসজিদ নির্মাণ করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। গভীর নলকূপ স্থাপন করে কলেজের নতুন ভবনে পানির ব্যবস্থা গ্রহন করেন। জাতীয় গ্রীড লাইনের সাথে নতুন ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা গ্রহন করেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে নতুন ভবনে টেলিফোনের অপটিক ফাইবার ক্যাবল সংযোগ স্থাপন করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তাহার প্রচেষ্ঠায় ৫ জানুয়ারী ২০১৭ খ্রিঃ তারিখে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ নতুন ভবনে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়। তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের জন্য ভাড়া করা ৫টি হোষ্টেল নতুন ক্যাম্পাসে ২টি হোষ্টেলে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে আমি দীর্ঘ ৯ বছর পড়ে থাকা বাস গাড়ী প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেরামত করে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে নিয়ে আসার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। এই বাসে করেই ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজ থেকে হাপাতালে ক্লিনিক্যাল ক্লাসের জন্য ২ বেলা যাতায়াত করে থাকে।

তিনি ৬ই মে’ ২০১৭ ইং তারিখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে সুন্দর মান মানসম্পন্ন অধ্যক্ষের অফিস করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তিনি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে সুন্দর একটি লাইব্রেরী করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। তিনি যোগদানের পর কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু বিভাগের স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান এন্ড সার্জনস (বিসিপিএস) কতৃক স্বীকৃত হয়। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের জার্নাল বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) কতৃক স্বীকৃত হয়। তিনি একটি সুন্দর মান সম্পন্ন কলেজ ও মান সম্পন্ন চিকিৎসক তৈরীর চেষ্ঠা করেছিলেন। তাহার বিভিন্ন উদ্দ্যোগের ফলে গত ৩ বছরে সরকারের ৪ কোটি লক্ষ টাকার রাজস্ব সাশ্রয় হয়।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর একটি প্রতিশ্রুত প্রকল্প। যাহা করা হয়েছে তাহা প্রকল্পের গুরত্ব বিবেচনায় একটি পিছিয়ে পড়া মেডিকেল কলেজের উন্নয়নের অভিপ্রায়ে করা হয়েছে। কলেজের জন্য জিনিষ পত্র সংগ্রহের দরপত্র আহবান করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন। মালপত্র সব না আসায় তিনি ডিসেম্বর’ ২০১৬ মাসে ১৩ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা ফেরৎ দেন। তিনি দরপত্র নিয়ে আজগুবি অভিযোগের বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি ২ বছর পূর্বে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ থেকে অবসর গ্রহন করেন। তার অবসরের পরে কি যন্ত্রপাতি গ্রহন করা হয়েছে এবং কত বিল প্রদান করা হয়েছে তা তার জানা নাই বলে জানান। তিনি উর্ধতন কর্তপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কিছু করা হয়না বলে জানান।

মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতির প্রয়োজন নাই একথা যারা বলেন তারা কলেজের উন্নয়ন চায়না। তিনি দাবী করেন এমন কোন চিকিৎসা সরঞ্জাম নাই যা মেডিকেল কলেজে প্রয়োজন নাই। তিনি বলেন খুনের হুমকি ও মামলা মাথায় নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। একটি পক্ষ সুষ্ঠুভাবে কলেজের কাজ কর্ম চলুক, অগ্রগতি ও উন্নয়ন হোক তা চায়না। তারা নানা রকম ষড়যন্ত্র ও বাধা বিঘœ সৃষ্টি করে থাকে। বিচারাধীন বিষয়ে ভিত্তিহীন মন্তব্য না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এক্ট’ ২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস’ ২০০৮ অনুসরনের জন্য সকলকে অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১১ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় এবং মাত্র ৬ বছরের মধ্যে মে’ ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়। ২০১৩ সালে গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ স্থাপিত হয় এবং মাত্র ৪ বছরের মধ্যে এপ্রিল, ২০১৭ সালে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উদ্বোধন করা হয়। অথচ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ ২০০৮-২০০৯ সেসেনে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি শুরু হয়। ১১ বছরেও কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মানের কাজ শুরু হয়নি।

সেদিকে নজর দেয়ার জন্য তিনি এলাকার সুশীল সমাজ, পেশাজীবি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনুরোধ করেন। তিনি কলেজটির উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। অবিলম্বে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু এবং সংযোগ সড়কের দুদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবী জানান।