পানিসংকটে তামিল সিনেমায় বন্ধ করা হয়েছে বৃষ্টির দৃশ্য

তীব্র পানি সংকটের ভুগছে ভারতের তামিলনাড়ু। ফলে সিনেমায় বৃষ্টির দৃশ্য না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানকার চলচ্চিত্র নির্মাতারা। তারা জানিয়েছেন,  এমন অবস্থায় পানির অপচয় অপরাধের সামিল।

তামিল ছবির পরিচালক এবং ‘ব্লু ওশান ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন একডেমী’র পরিচালক জি ধনঞ্জয় বলেন, “বৃষ্টির দৃশ্য আপাতত বাদ দেওয়া হচ্ছে। পানির এমন সংকটের মধ্যে সিনেমার কাজে পানির অপচয় অপরাধের সামিল। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষদের সচেতন করার একটা প্রয়াস চালানো হচ্ছে।”

তিনি বলেন,”এমনকি সিনেমার বিষয়বস্তুর প্রেক্ষিতে বৃষ্টির দৃশ্য যদি অপরিহার্যও হয় তাহলে শুধুমাত্র জানালার একটি দৃশ্যের মাধ্যমে বৃষ্টির আবহ তৈরি করা হবে। যেখানে এক বালতি পানিতেই কার্যসিদ্ধি হবে”।

চলচ্চিত্র পরিচালক এম ভরত কুমার বলেন, “চলমান সংকটের আগে থেকেই বৃষ্টির দৃশ্যের জন্য পর্যাপ্ত পানি তামিলনাড়ুতে কখনও পাওয়া যেতো না। পর্যাপ্ত পানি যোগাতে গিয়ে হিমশিম খান এখানকার প্রযোজকরা।”

তিনি আরো জানান, এসব কারণে বৃষ্টির দৃশ্য ধারণ করতে হায়দ্রাবাদে পাড়ি জমান চিত্র পরিচালকরা।

ভরত কুমার বলেন,”অজিত অভিনীত ‘বিশ্বসম’ এবং রজনীকান্তের ‘কালা’ ছবির বৃষ্টির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল যথাক্রমে হায়দ্রাবাদ এবং মুম্বাইয়ে”।

আরেক তামিল চলচ্চিত্র পরিচালক এমএস রাজ বলেন, “সিনেমার জন্য বৃষ্টির দৃশ্য অপরিহার্য হলেও এমন সংকটের সময়ে এমন দৃশ্যের চিত্রগ্রহণ বন্ধ রাখা উচিৎ। হয়তো অনেক টাকা ঢাললে পানি পাওয়া যাবে। একটি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির পক্ষে অতিরিক্ত টাকা ঢালাও কোনো সমস্যা নয়। তবে, এই পরিস্থিতিতে আমরা কখনই সেটি করবো না।”

এদিকে জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো `বিগ বস’র পরিচালক কমল হাসান শ্যুটিংয়ের সেট থেকে সুইমিংপুল সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি এর বদলে কৃত্রিম প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০৩০ সাল ভারতের ৪০ শতাংশ মানুষের কাছে খাওয়ার যোগ্য পানি থাকবে না। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন যে আগামী ১৫ মাসের মধ্যে দিল্লি, চেন্নাই, বেঙ্গালুরুসহ প্রধান প্রধান ২১টি  শহরে চরম পানির সংকট দেখা দেবে।