শবনমের পা ছুঁয়ে সম্মান জানালেন আতিফ আসলাম (ভিডিও)

বাংলাদেশের একসময়ের প্রখ্যাত নায়িকা ও অভিনেত্রী শবনম। ১৯৬০-এর দশক থেকে ১৯৮০’র দশক পর্যন্ত একাধারে সক্রিয় অভিনয় চর্চা করে গেছেন। ১৯৯০-এর দশক থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বা ঢালিউডে অভিনয় করে যাচ্ছেন। ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী শবনম ঐ সময়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ ও রোমান্টিক নায়িকা হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানের পূর্ব ও পশ্চিম – উভয় অংশেই সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা শবনমের প্রথম অধ্যায়টি ছিল পাকিস্তানে। বলা হয়, শবনম চলে আসার পর দেশটির ললিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ধস নেমেছিল। ১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘চান্দা’-র মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পান শবনম। এরপর ‘তালাশ’ দিয়ে পাকিস্তানিদের মন জয় করেন তিনি।

তাই পাকিস্তানের সিনেমামোদীর কাছে ‘শবনম’ নামটি এখন সম্মানের। তেমনটাই দেখা গেল গত ৭ জুলাই করাচি শহরের একটি অনুষ্ঠানে। আয়োজন করা হয়েছিল চলচ্চিত্র বিষয়ক পুরস্কার অনুষ্ঠান ‘স্টাইল অ্যাওয়ার্ডস’। সেখানে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয় এই বর্ষীয়ান শিল্পীকে।

ঘটনার শুরু আতিফ আসলামের মাধ্যমে। মঞ্চ থেকে নেমে এসে শবনমকে পা ছুঁয়ে সম্মান করেন এ গায়ক-অভিনেতা। এরপর হাত ধরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মঞ্চর ওপরে। এর সঙ্গে গান গেয়ে কখনও তার কাছে দোয়া চেয়েছেন, কখনও শ্রদ্ধার কথাটিও জানান আতিফ! গেয়েছেন, ‘তেরে বিনা মেরে জীবন কুছ নেহি’ গানটি।
আর তখন চারদিকে চলে হর্ষধ্বনি আর দু‘হাত উজাড় করে দেওয়া করতালি।

অনুষ্ঠানে শবনমকে উৎসর্গ করে একটি ভিডিও দেখানো হয়। ‘নিগাহ জি’ গানটি নাচের মাধ্যমে পরিবেশন করেন দেশটির চলচ্চিত্র শিল্পীরা। এ সময় স্টেজের পর্দায় দেখানো হয় শবনমের ভিডিও এবং ছবি।

জানা যায়, এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গত ৭ জুলাই পাকিস্তানে যান শবনম। সেদিন সন্ধ্যায় ছিল এ আয়োজন।
এদিকে, ৭৯ বছর বয়সী এই শিল্পী আবার কাজ শুরু করেছেন দেশটির একটি চলচ্চিত্রে। যার নাম ‘আয়না-২’। ১৯৭৭ সালে পাকিস্তানে মুক্তি পাওয়া ‘আয়না’ ছবির সিক্যুয়েল এটি! এছাড়া তিনি সেখানকার একটি কমেডি ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন।

শবনম ১৯৬০ থেকে ১৯৮০’র দশকে দেশটির চলচ্চিত্র শিল্প ললিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী।
এরপর নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প বা ঢালিউডে অভিনয় করেছেন। ১৯৬১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘হারানো দিন’র মাধ্যমে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ১৯৬২ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘চান্দা’র মাধ্যমে তার নাম-ডাক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছবির মাধ্যমে তৎকালীন সমগ্র পাকিস্তানে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পান তিনি। এ দু’টি ছবিই পাকিস্তান ও বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) মুক্তি পেয়েছিল। পরবর্তী বছরে ‘তালাশ’ মুক্তি পেলে ওই সময়ের সর্বাপেক্ষা ব্যবসাসফল ছবির স্বীকৃতি আসে। এরপর থেকে তিনি নিয়মিত পাকিস্তানে কাজ ও খুব ব্যস্ত সময় পার করেছেন। আর নব্বই দশকের শেষ দিকে বাংলাদেশের ‘আম্মাজান’ ছবিটি তার অন্যতম মাইলফলক। এখন পর্যন্ত তিনি কাজ করেছেন ১৭০টি চলচ্চিত্রে। এরমধ্যে ১৫২টি উর্দু, ১৪টি বাংলা ও ৪টি পাঞ্জাবি ছবিতে। চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার পর জন্মস্থান ঢাকাতেই নিভৃত জীবনযাপন করছেন এই মহাতারকা।

ভিডিও-