ইরানের পানিসীমায় নিজেদের জাহাজ চালাতে ভয় পাচ্ছে ব্রিটেন!

গত মঙ্গলবার উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পানিসীমায় নিজেদের জাহাজ চলাচলের উপর হুমকির মাত্রা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ করেছে যুক্তরাজ্য। 

বুধবার, ইরানের কয়েকটি নৌযান ব্রিটিশ একটি তেল ট্যাংকারকে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে ব্রিটিশ রয়্যাল নৌবাহিনীর জাহাজ তাদেরকে ‘তাড়িয়ে দেয়’। 

আরও পড়ুন: সমগ্র মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লড়াই: লিবারম্যান

নিজেদের একটি তেল ট্যাংকার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান। তবে, তারা জাহাজ দখলে নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। 

বিবিসির প্রতিরক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদক জনাথন বিয়াল বলেন, হুমকির মাত্রা বলতে বোঝায়, ব্রিটিশ জাহাজগুলোকে ইরানের পানিসীমায় প্রবেশ করতে বারণ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, এইচএমএস মনট্রোজ নামে ব্রিটিশ রণতরী যেটি কিনা বিপির মালিকানাধীন ট্যাঙ্কারকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল সেটিকে ইরানের তিনটি নৌযান ও একটি জাহাজের মাঝখান দিয়ে চলতে বাধ্য করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জানায়, এইচএমএস মনট্রোজের বন্দুকগুলো ইরানের নৌকাগুলোর দিকেই তাক করানো ছিলো। সেসময় তাদেরকে পিছু হঠতে বলা হয়। নৌকাগুলো এই নির্দেশনা মেনে নেয়ার কারণে কোন গোলাগুলি হয়নি।

আরও পড়ুন: ইরান বিষয়ে নিজেদের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিল রাশিয়া

প্রসঙ্গট, গত সপ্তাহে জিব্রাল্টারে সিরিয়ায় তেল দেয়ার চেষ্টারত একটি ইরানি ট্যাংকারকে আটক করতে সহায়তা করে ব্রিটিশ রয়্যাল মেরিন। 

রয়্যাল জিব্রাল্টার পুলিশের মুখপাত্র বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করা হচ্ছে এমন সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার ইরানের তেলের ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন এবং প্রধান কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছেন তারা। 

ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেনি মরডন্ট বলেন, সরকার এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন এবং উত্তেজনা কমিয়ে “পরিস্থিতি স্বাভাবিক” করতে ইরানের কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। 

ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট আরও বলেন, এই পরিস্থিতি “খুব সতর্কতা”র সাথে পর্যবেক্ষণ করবে তার দেশ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র ইরানের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন, এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে মিলে কাজ করা অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন: ‘হিজবুল্লাহর ওপর নিষেধাজ্ঞা পুরো লেবাননের ওপর আঘাত’

এদিকে, ইরানের সংবাদ সংস্থাগুলো বলছে, দেশটির রেভ্যলিউশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী ট্যাংকার আটক প্রচেষ্টার কথা অস্বীকার করছে। তারা দাবি করে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিদেশি কোন জাহাজের সাথে মুখোমুখি হয়নি তারা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ বলেন, “উত্তেজনা বাড়াতেই” এই দাবি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র। “এই দাবির কোন মূল্য নেই,” সংবাদ সংস্থা ফার নিউজকে বলেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।