ডেঙ্গুর লক্ষণ এবার আলাদা, ঝুঁকিও বেশি

 বিবেশষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এবার ডেঙ্গুতে শকড সিনড্রম বেশি হচ্ছে। এর আগে ছিল হেমোরেজিক ডেঙ্গু। লক্ষণও ভিন্ন তাই ঝুকিও বেশি।

শকড সিনড্রম-এ শরীরে পানি কমে যায়, তাপ বেড়ে যায়, হার্ট বিট কমে যায়, ব্লাড প্রেসার কমে যায় এবং রোগী জ্ঞান হারাতে পারে। ফুসফুস এবং পেটে পানি জমে।

হেমোরেজিক ডেঙ্গুতে রক্তক্ষরণ হয়, শরীরে র‌্যাশ ওঠে, তাপমাত্রা ১০৪ থেকে ১০৫ হয়। এটার সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত। তাই সে বুঝতে পারে কি করতে হবে।

কিন্তু এবারের ডেঙ্গুতে তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি, র‌্যাশ দেখা যায়না, রক্তক্ষরণও হয়না। ফলে অনেকে বুঝতেই পারেন না যে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত। বা গুরুত্ব দেন না। জ্বর চলে যাওয়ার পরে প্লাটিলেট ভেঙ্গে ব্লাডপ্রেসার কমে কলাপস করে। ফলে এবার মৃত্যুর হার বেশি হচ্ছে।

চিকিৎসকরা  বলেছেন, ‘‘আগে আমরা বলতাম তিন দিন দেখার জন্য। কিন্তু এবার যে ধরনের ডেঙ্গু তাতে কারুর সামান্য জ্বর হলেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। দেরি করা যাবেনা। জ্বরের সাথে বমি ও লুজ মোশনও ডেঙ্গুর লক্ষণ।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘‘এবার ডেঙ্গু মোডিফায়েড ফর্মে এসেছে। লক্ষণ আগের মত নয়। তাপমাত্রাও বেশি থাকেনা , ১০১-১০২ ডিগ্রী। হেমোরেজিক নয়, শকড সিনড্রম । হাড়ে বা শরীরের সংযোগস্থলে ব্যথাও হয়না। ফলে অনেকেই বুঝতে পারেন না। তাই আমারো পরামর্শ অল্প বা বেশি যেকেনো মাত্রার জ্বর হলেও দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অপেক্ষা করা চলবে না।”

তিনি বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে হিসেব দিচ্ছে আর আমরা যে খোঁজ খবর পাচ্ছি তাতে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা একজন চিকিৎসকেরও মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কেউ যদি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার আক্রান্ত হন তাদের জন্য ঝুঁকি বেশি।”

আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘জ্বর হলেই প্রচুর পানি ও পানীয় খাবার খেতে হবে। যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎকের কাছে যেতে হবে। জ্বরের মাত্রা যাই হোক না কেন।”