অপরাধ স্বীকার করেছে মিন্নি- পুলিশ সুপার

বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন জানিয়েছেন  রিফাত হ`ত্যা মামলার সাথে নি`হতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রে‌`ফতারের আগে জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই হ`ত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার(১৮ জুলাই) সাড়ে ১১টার দিকে বরগুনার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, মিন্নি শুরু থেকে হত্যাকারীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। সে এই অপরাধেরপরিকল্পনার অংশ ছিলো। এই অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পূর্বে সেই এই হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পনার জন্য যা যা দরকার সবকিছুই তিনি করেছেন। এমনকী সে পরিকল্পনার মিটিংও করেছেন হ`ত্যাকারীদের সাথে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মিন্নি এই হ`ত্যাকাণ্ডে সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, হ্যাঁ মিন্নি আমাদের কাছে এই হ`ত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। আমাদের কাছেও প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে মিন্নি এই হ`ত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।

মিন্নি স্বীকার করেছে বলেই আমরা এই বিষয়গুলো আদালতের কাছে তুলে ধরে সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করেছি আদালতও ৫দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

রিফাতের বাবার সংবাদ সম্মেলনের পরই মিন্নিকে গ্রে`ফতার করা হলো এর সাথে পুলিশের কোনও যোগসাজোশ আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, “যোগসূত্র থাকা বা না থাকার বিষয়টি আসলে আইনের কাছে গুরুত্ব নেই। প্রেসকনফারেন্স বা মানববন্ধন যেগুলো তদন্তের সাথে সংঘর্ষিক সেবিষয়গুলোকে বাদ দিয়ে আমরা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ওপর কোন রাজনৈতিক চাপ নেই বা অন্য কোন মহলের চাপ নেই।

রিফাত হ`ত্যা মামলায় এপর্যন্ত মিন্নিসহ ১৫ জনকে গ্রে`ফতার করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হ`ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রাম`দা দিয়ে কু`পিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। গুরুতর আ`হত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মা`রা যান।

এঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসা`মি করে বরগুনা থানায় একটি হ`ত্যা মামলা দায়ের করেন।