হুমায়ূন আহমেদঃ বাংলা সিনেমার মায়েস্ত্রো, একজন শঙ্খনীল কারাগার

‘হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের আনন্দময় ফাঁদ’। কবি ও গদ্যকার রাসেল রায়হানের এই লাইনটা আমি বহু চেষ্টা অপচেষ্টার পরেও মাথা থেকে বাহির করতে পারি না।  উপরন্তু আমার মাথার ভিতর হুমায়ূনসংক্রান্ত অন্যান্য চিন্তার সাথে তার এই লাইনটার প্রায়ই ধাক্কা লাগে। দৃশ্যত হুমায়ূন আহমেদ আদতে প্যারালাল দুটো ইমেজ নিয়ে বাঙালি সাহিত্যমনস্কদের মধ্যে অবস্থান করছেন। একজন হুমায়ূন আহমেদকে দাঁড় করিয়ে তাবৎ বাঙলা সাহিত্যের পাঠককে মোটা দাগে দু’ভাগে ভাগ করা যায়। এক, যারা হুমায়ূন আহমেদ পড়েছেন এবং দুই, যারা কেবল হুমায়ূন আহমেদই পড়েছেন। 

হুমায়ূন আহমেদ

বাঙলা সাহিত্যে পাঠকের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্মেষ মূলত হুমায়ূন আহমেদের পর থেকে শুরু হয়, এহেন এক ছোটলোকি চিন্তা সাহিত্যপাড়ার চারপাশে মাছির মতো ভনভন করে। ছোটলোকি বলায় কিছু মানুষের রোশানলে পড়াটা স্বাভাবিক। আর ছোটলোকি বলার ব্যাখ্যাও এই লেখায় অন্তত দাবি রাখে না। কারণ পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বাঙালি মধ্যবিত্তের ঘুমের মধ্যে হানা দেওয়া সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদকে নয় বরং নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ এখানে প্রতিপাদ্য।

যদিও একজন চলচ্চিত্রনির্মাতা নয় বরং ঔপন্যাসিক হিসেবে চলচ্চিত্রাঙ্গনে  হুমায়ূন আহমেদের শুরুয়াৎ হয়েছিল। ১৯৯২ সালে চলচ্চিত্র পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান হুমায়ূন আহমেদের ‘শঙ্খনীল কারাগার‘ উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন করেন। হুমায়ূন আহমেদের প্রথম উপন্যাস এটি। যদিও ১৯৭২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ‘নন্দিত নরকে’। এর মাস ছয় পর ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত হয় ‘শঙ্খনীল কারাগার’।

শঙ্খনীল কারাগার

মধ্যবিত্ত সমাজের গল্প নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ডলি জহুর, আসাদুজ্জামান নূর, সুবর্ণা মুস্তাফা, চম্পা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে মোট চারটি ক্যাটাগরীতে পুরষ্কার পায় ‘শঙ্খনীল কারাগার’। যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র-ক্যাটাগরীও অন্তর্ভূক্ত। আর চলচ্চিত্র নির্মানের আগেই হুমায়ূন আহমেদ শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে বিজয়ী হন। যদিও ‘শঙ্খনীল কারাগার’ নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বলেছিলেন, “কেউ কেউ সেটা দেখে ‘সিনেমা ভাষা ব্যবহার হয় নি’ ‘২ ঘন্টার নাটক লেগেছে’ এরকম অভিযাগ করে।”

‘আগুনের পরশমণি’

১৯৯৪ সালে হুমায়ূন আহমেদ চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। নাটক নির্মানের অভিজ্ঞতা থাকলেও চলচ্চিত্র নির্মান যে খুব সহজ ছিল না তা তিনি তার ‘ছবি বানানোর গল্প’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। হুমায়ূন আহমেদ নিজে আটটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। ‘আগুনের পরশমণি’ তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র, যেটা সরকারি অনুদানে তৈরি। সে সময় সরকারি অনুদানে সিনেমা তৈরির রীতি খুব একটা প্রচলিত ছিল না।  একটা সিনেমা করতে যেখানে ৪০ লাখ টাকা প্রয়োজন, হুমায়ূন আহমেদের কাছে বই লিখে টিখে জমানো সর্বসাকুল্যে ২ লাখ টাকা ছিল। তো এক সকালে অভিনেতা অাসাদ্দুজামান নূরকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন তার পরিচিত ধনবানদের কাছে। কিন্তু ফিরলেন বিফল মনোরথে। অবশেষে তিনি তথ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করলেন এবং উনাকে বুঝানোর চেষ্টা করলেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বানানো একটা মুভিতে সরকারের সাহায্য করা উচিত। তথ্যমন্ত্রী আগুনের পরশমনি মূল বইয়ের একটা কপি পাঠিয়ে দিতে বলে উনাকে বিদায় দিলেন। তারপর কয়েকদিন পরের গল্প। সকালে পেপার হাতে হুমায়ূন আহমেদ আবিষ্কার করলেন সিনেমা নির্মাণে সরকার ২৫ লাখ টাকা করে অনুদান প্রথা আবার চালু করেছে এবং এবারের নির্বাচিত ৩টি সিনেমার মাঝে প্রথমেই ‘আগুনের পরশমণি’ এর নাম!

আগুনের পরশমণি

‘আগুনের পরশমণি’-তে বদি চরিত্রে অভিনয় করেন আসাদ্দুজামান নূর। যদিও বদি চরিত্রে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দে ছিলেন দেশের নামডাকা প্রচ্ছদ শিল্পী ধ্রুব এষ এবং তিনি ধ্রুব এষকে এই চরিত্রে অভিনয় করানোর জন্য অনেক চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু ধ্রুব এষ অভিনয়ের জন্য একদমই রাজি ছিলেন না।

সেই সময়টাই এমন ছিল যে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করাটাও ছিলো বিপদজনক একটা কাজ। আর সেখানে সিনেমাতে বঙ্গবন্ধু জুড়ে দেয়া হলে সিনেমাটি সেন্সরেই আটকে যেতো। এদিকে সিনেমার শুটিংও শেষ। সবদিক ভেবে একটা বুদ্ধি বের করলেন। সিনেমার শুরুটা ছিলো মতিন সাহেব বারান্দায় বসে বসে রেডিওতে বিবিসি শুনছেন। সেই দৃশ্যে বিবিসি এর বদলে একাত্তরে প্রচারিত বঙ্গবন্ধুর ‘বজ্রকন্ঠ’ এর ৭ মার্চের অংশ জুড়ে দেয়া হয়। সেন্সর ঠিকই ধরে ফেলে। সেখান থেকে তাদেরকে যুক্তির খেলায় হারিয়ে দিয়ে শেষমেষ বঙ্গবন্ধুর ভাষণসহ ঠিকই মুক্তি পায় ‘আগুনের পরশমণি’। আর এই প্রথম চলচ্চিত্রেই বাজিমাত করেন হুমায়ূন আহমেদ। মোট আটটি ক্যাটাগরীতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে আগুনের পরশমনি।

‘শ্রাবণ মেঘের দিন’

হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ২০০০ সালে মুক্তি পায়। আগুনের পরশমণি থেকে সম্পূর্ন ভিন্ন ঘরানার রোমান্টিক এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন জাহিদ হাসান, মাহফুজ আহমেদ এবং শাওন। শ্রাবণ মেঘের দিন ছবিটিতে ফোক গানের যে অসামান্য ব্যবহার লক্ষ্য কিরা যায়, তা বাংলা চলচ্চিত্রে খুব কমই দেখা গেছে। উকিল মুন্সীর হারিয়ে যাওয়া গানুগলো ফিরে আসে এ ছবিতে। লোকে জানতে পারে বাংলা গানের অমূল্য এক ভান্ডারের কথা। পুবালী বাতাসে, আমার গায়ে যত দুঃখ সয়, শুয়া চান পাখি আমি ডাকিতাছি তুমি ঘুমাইছো নাকি উকিল মুন্সীর কালজয়ী এ গানগুলো দরদ ভরা কন্ঠে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন বারী সিদ্দিকী।

শ্রাবণ মেঘের দিন

এ ছবিতেই গীতিকার হিসেবে হুমায়ূন আহমেদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘একটা ছিলো সোনার কন্যা’ গানটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম সেরা গানের স্বীকৃতি পেয়েছে। সুবীর নন্দী গানটি গেয়ে শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার জিতে নেন। এর পাশাপাশি আমার উড়ালপঙ্খী, বরষার প্রথম দিন, আমার ভাঙা ঘরের ভাঙা চালা, চান্নি পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয়, যদি ডেকে বলি, এসো হাত ধরো, কে পরাইল আমার চোখে কলঙ্ক কাজল – এমন তুমুল জনপ্রিয় কিছু গান তিনি লিখেছেন। সাহিত্যের মতো চলচ্চিত্রের ভাষায়ও তিনি ছিলেন একমেবাদ্বিতীয়ম এবং অপ্রতিদ্বন্দ্বী।‘ শ্রাবণ মেঘের দিন’-এ চলচ্চিত্রের এই ভাষা হয়ে ওঠে সার্থক। এই চলচ্চিত্রটিও ছয়টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করে।

হুমায়ূন প্রসঙ্গে প্রখ্যাত চলচ্চিত্র মোস্তফা সরওয়ার ফারুকীর বলেছেন, ‘আমি সব সময় বিশ্বাস করি, একজন মহান শিল্পীর হাতে সবচেয়ে খারাপ চরিত্রটিও পরম নিরাপদ বোধ করে। শিল্পী যখন খারাপ মানুষকেও আঁকবেন, তখন একটা ‘মানুষ’ই আঁকবেন, সিনেমার ভিলেন নয়। হুমায়ূন আহমেদের মতো এত আশ্চর্য সংবেদনশীলতায় খারাপ মানুষকে বা ভালো মানুষের খারাপিকে আর কে আঁকতে পেরেছে? এখানে পাঠককে অনুরোধ করব, তাঁরা যেন না ভাবেন, হুমায়ূন আহমেদ কেবল খারাপ মানুষই ভালোভাবে এঁকেছেন। খারাপ মানুষের উদাহরণ দিলাম। কারণ, খারাপ মানুষ ভালোভাবে আঁকা সবচেয়ে কঠিন কাজ। ‘খারাপ মানুষ’ আর ‘ভালো মানুষ’—এই কথাগুলো প্রচলিত সামাজিক অর্থে ব্যবহার করলাম।’

‘দুই দুয়ারী’

তৃতীয় চলচ্চিত্র ‘দুই দুয়ারী’ মুক্তি পায় ২০০১ সালে। এই চলচ্চিত্রটি হুমায়ূনের অন্য দুই চলচ্চিত্রের থেকে ভিন্নধর্মী। এর কাহিনী আবর্তিত হয় একটি পরিবারে একজন রহস্য মানবের আগমন ও প্রভাবে বিভিন্নরকম কর্মকান্ড নিয়ে ছবিটি নির্মিত।

দুই দুয়ারী

মরণব্যাধি এইডসকে উপলক্ষ্য বানিয়ে সম্পূর্ণ পারিবারিক এই ছবিটিতে হুমায়ূন আহমেদ তুলে ধরেছেন একজন ‘রহস্য মানবে’র মন ভালো করার কিছু রহস্যের ঘটনা। এর আগের দুটো চলচ্চিত্রে প্রধাণত টিভি অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় করলেও এই ছবিতে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক ধারার অন্যতম নায়ক রিয়াজ অভিনয় করেন। অন্য প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন শাওন ও মাহফুজ আহমেদ। দুই দুয়ারী ছবির সংগীত রচনা করছেন ছবির পরিচালক হুমায়ুন আহমেদ, এবং সংগীত পরিচালনা করেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

‘চন্দ্রকথা’

২০০৩ সালে মুক্তি পায় ‘চন্দ্রকথা’। আসাদুজ্জামান নূর, আহমেদ রুবেল ও শাওন অভিনীত এ চলচ্চিত্রটিও ব্যবসা সফল হয় এবং সমালোচকদের প্রশংসা পায়। এটি তাঁর নিজের লেখা উপন্যাস অবলম্বনে নিজ চলচ্চিত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নুহাশ চলচ্চিত্র-এর ব্যানারে নির্মাণ করেন।

চন্দ্রকথা

চলচ্চিত্রটি ২০০৩ সালের ২২ আগস্ট বাংলাদেশে মুক্তি পায়। আহমদ রুবেল এবং শাওন ৬ষ্ঠ মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারে সমালোচনা পুরস্কার শাখায় যথাক্রমে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা ও শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেত্রী বিভাগে পুরস্কার লাভ করেন। এ চলচ্চিত্রের ‘উড়াল পংখী রে’ এবং ‘চাঁদনি পসর রাতে’ গান দুটি দারুণ জনপ্রিয়তা পায়।

‘শ্যামল ছায়া’

‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদ আবারও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে ফিরে যান। ২০০৪ সালে এটি নির্মিত হয়।

শ্যামল ছায়া

এই ছবিতে বাড়তি আকর্ষন হিসেবে যুক্ত হয় হুমায়ূন ফরিদীর অভিনয়। ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাগল প্রায় মানুষ গুলো যখন দিশা হারিয়ে ফেলেছিলো, রাত্রি তার স্বামী-সন্তান হারিয়ে নিঃস্ব বেচে থাকা শ্বশুড়ই তাঁর একমাত্র সম্বল। তিনি একটা নৌকা ভাড়া করেন বাচার জন্য, নিরাপদ একটি আশ্রয়ের জন্য আর এই নৌকায় যুক্ত হয় আরো গোটাকয়েক মানুষ যারা সবাই ছিলো অসহায়। এমনই একদল আশ্রয় সন্ধানীর পলায়নের কাহিনী নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়। বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কার অস্কারে বিদেশী ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগের প্রতিযোগিতায় সে বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে হুমায়ূন আহমেদের শ্যামল ছায়া।

‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’

‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিস্প্রভ এবং বাণিজ্যিক। পুরো চলচ্চিত্রটি চিত্রায়িত হয়েছে নুহাশ পল্লীতে।

নয় নম্বর বিপদ সংকেত

একজন ধনাঢ্য বয়স্ক ব্যক্তি হঠাৎ করে তার আপনজনদের কাছে পেতে চান। তাদের এক করা তার জন্য হয়ে উঠে কঠিন। সবাইকে তার মৃত্যুসংবাদ দিয়ে একত্রিত করা হয়। এরপর ঘটতে থাকে একের পর এক মজার মজার ঘটনা। সম্পূর্ণ বিনোদনধর্মী এছবিতে অভিনয় করেন  রহমত আলী, তানিয়া আহমেদ, রুপক, মিঠু, ডা. এজাজ আহমেদ, ফারুক আহমেদ প্রমুখ। এই ছবির মাধ্যমে হুমায়ূন আহমেদের নাম শিল্প নির্দেশক ও নৃত্যপরিচালকের খাতায় অন্তর্ভূক্ত হয়।

‘আমার আছে জল’

২০০৮ সালে হুমায়ূন আহমেদের পাঠক নন্দিত উপন্যাস ‘আমার আছে জল’ অবলম্বনে নির্মিত হয় সিনেমা। এ ছবির কাহিনী, সংলাপ, চিত্রনাট্য, গীতরচনা, শিল্পনির্দেশনা ও পরিচালনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ নিজেই।

আমার আছে জল

সিলেটের মনোরম লোকেশনে চিত্রায়িত এ ছবিতে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা অবকাশযাপন আর ত্রিভুজ প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়। ছবিটিতে অভিনয় করেন বিদ্যা সিনহা মিম, ফেরদৌস, জাহিদ হাসান, শাওন, পীযূষ বন্দোপাধ্যায়, সালেহ আহমেদ, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, মুনমুন আহমেদ, এজাজুল ইসলাম, মুনিরা মিঠু, মাজনুন মিজান, পুতুল, রুদ্র, ওয়াফা প্রমুখ। ২০০৮ সালে ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ছবি ‘আমার আছে জল’ দু’টি শাখায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে।

‘ঘেটুপুত্র কমলা’

১৯৯৬ সালে হুমায়ূন আহমেদের জলকন্যা ছোটগল্প গ্রন্থে ছাপা হয় ‘একজন শৌখিনদার মানুষ’। গল্পের মূল বিষয়বস্তু একজন একজন বিত্তবান মানুষের ঘেটু গানের বালকের প্রতি যৌন আকর্ষণ। একই বিষয় নিয়ে সালে হুমায়ূন আহমেদ নির্মাণ করেন তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা।’ ১৯৯৬ সালে ‘একজন শৌখিনদার মানুষ’ গল্পে হুমায়ূন আহমেদ যে বীজ ব্যপ্ত করেছিলেন ১৬ বছর পর সেই বীজই মহিরূহ হয়ে পত্রপল্লবে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ নামের চলচ্চিত্রের রূপ পেয়েছে। আগুনের পরশমনির মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রনির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ যে যাত্রা শুরু করেন তা শেষ হয় তার অষ্টম চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা-র মধ্য দিয়ে।

ঘেটুপুত্র কমলা

এ চলচ্চিত্রটি তিনি নির্মান করেছিলেন, কিন্তু মুক্তি দিয়ে যেতে পারেন নি। তার মৃত্যুর পরে ২০১২ সালে ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ মুক্তি পায়। মুক্তির আগেই হুমায়ূন আহমেদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আশঙ্কা-সমালোচনা শুরু হয়। কিন্তু ছবি মুক্তির পরে স্পষ্ট হয়, প্রয়োজনবোধেই একটি বক্তব্যসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র নির্মান শেষে দায়িত্ববোধ থেকে তিনি শিশুদেরকে সাথে নিয়ে চলচ্চিত্রটি দেখতে যেতে নিষেধ করেছিলেন। আমেরিকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ দিনের জন্য বাংলাদেশে এসে বন্ধুদের নিয়ে ছবিটি দেখেন হুমায়ূন আহমেদ। ছবিটির মহরতে হুমায়ূন আহমেদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, এটি হবে তার শেষ ছবি। তাৎক্ষণিকভাবে অনেকে তাকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হুমায়ূন আহমেদের ঘোষণাই সত্য হয়।

‘ঘেটুপুত্র কমলা’ প্রসঙ্গে মাজহারুল ইসলামকে হুমায়ূন আহমেদ বলেন, “তুমি সাগরকে (চ্যানেল আইয়ের ফরিদুর রেজা সাগর) ফোন করে বলো ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ ছবিটি যেন টেলিভিশন প্রিমিয়ার না দেয়া হয়, এটা যেন সরাসরি সিনেমা হলে মুক্তি দেয়া হয়। এটা সারা বাংলাদেশে একসাথে হলে রিলিজ হবে।”