ধ`র্ষণকে ছেলেধরা বলে চালিয়ে দিতে গলাকে`টে হ`ত্যা মাদ্রাসা ছাত্রকে

বুধবার সকালে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের একটি আমবাগান থেকে এক ছাত্রের লা`শ উদ্ধার করা হয়। নিহ`তের নাম আবির হুসাইন (১১)। তাকে ধ`র্ষণের পর মাথা কে`টে হ`ত্যা করা হয়।

নিহত আবির কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। ঘটনার পর জেলা পুলিশের বেশ কয়েকটি টিম অনুসন্ধানে মাঠে নামে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ১৮ মাসের শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার

বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, মাদ্রাসাছাত্রের হ`ত্যার নেপথ্যে আমরা বেশ কিছু তথ্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গুজবের সঙ্গে এ হত্যার কোনো সর্ম্পক নেই। সুকৌশলে হ`ত্যার ঘটনাটি  ভিন্নখাতে দিতেই নি`হত ওই ছাত্রের মাথা কে`টে গু`ম করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, নিহ`ত ওই ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নি`র্যাতন চালানো হচ্ছিল। যৌন নি`র্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতেই পরিকল্পিতভাবে হ`ত্যা করা হয় তাকে। ময়`নাতদন্তে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

এ ঘটনার পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল মাদ্রাসার পাঁচ শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটকদের হাতের ছাপ সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।

মাদ্রাসাটির মুহতামিম মুফতি আবু হানিফ জানান, ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবির হুসাইন প্রায় এক বছর আগে এই মাদ্রাসায় ভর্তি হয়। তার মা কমেলা খাতুন তাকে ভর্তি করান। বর্তমানে আবির হুসাইন মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়াশুনা করত।

আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সি জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সকাল ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ নি`হতের ছাত্রের লা`শ উদ্ধার করে ম`র্গে পাঠাতে গেলে উত্তেজিত হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। তারা মাদ্রাসাছাত্র আবিরের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, দিনভর পুলিশের বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করার পর আমাদের হাতে কিছু তথ্য আসে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হয়। এরই মধ্যে হাসপাতাল থেকে তথ্য পাওয়া যায় নি`হত মাদ্রাসাছাত্র আবির হাসানের মলদ্বারে আ`ঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ তথ্যের পর হাসপাতালে ছুটে যান জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস, পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমানসহ তদন্তকারী দলগুলো।

আরও পড়ুন: বাসায় ঢুকে নৃ`শংসভাবে গলা কে`টে স্কুলছাত্র হ`ত্যা

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ময়নাতদন্তের বর্ণনা দিয়ে মো. কলিমুল্লা  গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ওই ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নি`র্যাতন চালানো হতো। নি`র্যাতনের ঘটনাটি ধামাচাপি দিতেই তাকে হ`ত্যা করা হয়েছে বলে আমরা ধারণা করছি।

মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নি`র্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শামীম কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে সে রকমই মনে হয়েছে। বিষয়টি আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা ডিএনএ টেস্ট ও নিহতের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকাতে পাঠিয়েছি।