মানুষের নিষ্ঠুরতার আরেক শিকার হাতি আজ বিলুপ্তির পথে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদিও নিজেদের পরিবেশ সংরক্ষণের পুরোধা ভাবে হাতির দাঁতের যে রমরমা ব্যবসা ইউরোপে জাকিয়ে বসেছে তার জন্য তারা কিছুই করছে না। ‘এনটিক আইভরি’র ব্যবসা এখনো আইনত নিষিদ্ধ হয়নি। এই আইনের ফোঁকড় দিয়ে টনে টনে হাতির কাঁটা দাঁত এশিয়া থেকে রপ্তানি হয়। শীঘ্রই এই বাণিজ্য সব হাতি মেরে ফেলবে যদি না ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই বাণিজ্য বন্ধ করে।

অনেক মানুষের ধারনা আফ্রিকা থেকে হাতি মেরে তাদের দাঁত এশিয়ায় পাঠানো হয়। এবং ইউরোপ এই দৃশ্যপট থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। আসল ঘটনা হলো ইউরোপ ই হলো এই আইনী, বেআইনী চক্রের মূলকেন্দ্র। 

আরও পড়ুন: তিমিরাও ভালো নেই!

হাতির দাঁতের বিক্রি, আমদানি, রফতানী, সংরক্ষণ সবকিছুই আইনসিদ্ধ ইউরোপে। এবং এটাই সংগঠিত অপরাধীদের বেআইনী ভাবে হাতি শিকার ও এর দাঁত সংগ্রহ ও পাচারে সাহায্য ও উৎসাহিত করে।

নিলাম, এন্টিক দোকানে কিংবা অনলাইনে উন্মুক্তভাবে হাতির দাঁতের কেনাবেঁচা হয় ইউরোপীয় বাজারে। কিছু কিছু ইউরোপীয় কোম্পানি রীতিমত এসব কেনা বেচায় বিশেষ ভাবে খ্যাত। সাত টনেরও বেশি এবং ১২,০০০ উপর খোদাই করা আইভরি হংকং এ রপ্তানি রয়েছে গত দুই বছরে। কেউ বলতে পারে না এর জন্য কত অবৈধ আইভরি ইউরোপে পাচার হয়েছে বা কত হাতিকে এর জন্য জীবন দিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু পরিবর্তন ও কীটনাশকের ব্যবহারে ইউরোপে মৌমাছি চাষ বিপর্যস্ত

সাম্প্রতিক দুইটি সম্মেলনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সকল দেশের সরকারকে তাদের আভ্যন্তরীণ আইভরি বাজার বন্ধ করার আবেদন জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর সাথে একমতে আসেনি এবং হাতি বাঁচানোর বিশ্বময় যুদ্ধকে পদদলিত করেই চলেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে আহবান করা হচ্ছে হাতির দাঁতের ব্যবসা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করার জন্য। এই বাণিজ্যের দ্বারা সকল হাতির মৃত্যুর আগে এই বাণিজ্যের মৃত্যু হউক।

তথ্য সূত্র : বিবিসি