ইয়েমেনে কলেরা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে তিনগুণ

কলেরা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ইয়েমেন। ছবি: এপি

ত জুনে ইয়েমেনের উপকূলীয় অঞ্চল হোদেইদা পুনর্দখলের জন্য সৌদি আরবসংযুক্ত আরব আমিরাতের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে সন্দেহ করা হচ্ছে কলেরা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, জুনে এ অঞ্চলে কলেরা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৯৭ জন। দু’মাসে মাসে এই সংখ্যা ১৭০% বৃদ্ধি পায়। আগস্ট মাসে রোগীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৪২ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা অনুসারে আক্রান্ত রোগীর ৩০ শতাংশ পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু

মরিয়ম আলদোগানি, সেভ দ্যা চিল্ড্রেন এর একজন কর্মী, বলেন, চলমান সংঘর্ষের কারণে হোদেইদার পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এখানে একের পর এক শিশু কলেরায় আক্রান্ত হচ্ছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ ওই এলাকায় বিশুদ্ধ পানীয়জলের অভাব

জুলাই মাসের শেষের দিকে কিছু বিমান হামলায় হোদেইদার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও বিশুদ্ধ পানির আধারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা যায়, শহরের ৫৬ ভাগ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সেভ দ্যা চিলড্রে-এর আধিকারিক বলেন, ইয়েমেনে শিশুরা এতোটা কঠিন পরিস্থিতি পার করছে যা কোন শিশুর পক্ষেই সহনীয় নয়, বোমা হামলা, বুলেটে থেকে শুরু করে তীব্র ক্ষুধা আর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছে তারা।

কলেরা আক্রান্ত শিশুরা চিকিৎসা এ অঞ্চলেই সম্ভব। হাসপাতালগুলোয় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও পর্যাপ্ত। তবে চার বছর যাবৎ চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি হোদেইদার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রায় ধ্বসিয়ে দিয়েছে। হোদেইদা ত্রাণসামগ্রী ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানীর প্রধান বন্দর। জুন মাসের ১৩ তারিখ এই সমুদ্রবন্দর দখলের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব হামলা চালালে, হোদেইদাকে ঘিরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।


সূত্র: আলজাজিরা