‘প্রিয়া সাহার বক্তব্যকে “সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড” বিবেচনায় তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে’

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে প্রিয়া সাহার অভিযোগটি যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গুম বা অর্থে করে থাকেন তবে তা অসত্য বলে উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। এরপর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘প্রিয়া সাহা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ (৩৭ মিলিয়ন) হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোক ‘ডিজএপিয়ার’ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন। ‘ডিজএপিয়ার’ বলতে তিনি কি বোঝাতে চেয়েছেন তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এটি যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গুম বা নিখোঁজ অর্থে বলে থাকেন তবে তা অসত্য এবং আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’

এ সময় রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘গত ১৬ থেকে ১৮ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ‘সেকেন্ড মিনিস্ট্রিয়াল টু এডভান্স রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল যোগ দেয়। এই প্রতিনিধি দলে প্রিয়া সাহা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। প্রিয়া সাহা ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক, কিন্তু তিনি সাংগঠনিক কোন সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাত করেননি। তিনি যা করেছেন তা নিজের দায়িত্বে করেছেন। এর সঙ্গে সংগঠনের কোন সম্পর্ক নেই।’

তিনি বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রিডম হাউজের এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রিয়া সাহাকে সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেছে, আবার কোন কোন মার্কিন গণমাধ্যম আমাকে সভাপতি এবং তাকে সাধারণ সম্পাদক উল্লেখ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে সাংগঠনিক পরিচিতি নিয়ে সৃষ্ট এহেন বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে ‘সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ড’ বিবেচনায় গত ২৩ জুলাই প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় ফিরে আসলে তার বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর হিসাব ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারাকাতের গবেষণা গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হার উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান আমলে অব্যাহত বঞ্চনা-বৈষম্য-নিগৃহন-নিপীড়ন ছাড়াও ১৯৫০ ও ১৯৬৪ সালের একতরফা রাষ্ট্রীয় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কথা আমরা আজও ভুলি নাই। স্বাধীন বাংলাদেশেও ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তীতে পাকিস্তানি ধারায় ৭২-এর গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে ৫ম ও ৮ম সংশোধনী সংযোজিত হয়।’