কেমন হতে পারে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর

গুঞ্জন ছিল মাশরাফি শ্রীলঙ্কা সফরে তার বর্ণাঢ্য ওডিআই ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। এদিকে প্রায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, শ্রীলঙ্কার বোলিং ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গা বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ শেষে একদিনের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়ে দিবেন। তামিম – মুশফিকদের সাবেক গুরু চন্ডিকা হাতুরুর অধীনের এটি শ্রীলঙ্কার শেষ সিরিজ।ইনজুরির কারণে শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারেননি অধিনায়ক মাশরাফি ও অলরাউন্ডার সাইফুদ্দিন। সাকিব ও লিটন ব্যাক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন আগেভাগে।

দেশসেরা ওপেনার তামিমের নেতৃত্বে অপূর্ণ বাংলাদেশ কেমন করবে তা দেখতে মুখিয়ে আছে; বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা। আজ বিকেলে শুরু হতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় যুদ্ধ! কেমন হতে পারে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর এই নিয়ে স্ববিস্তরে আলোচনা করেছেন আমাদের সহকর্মী জুনাইদ ফয়সাল:

একসময় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ মানেই শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের ব্যাক্তিগত রেকর্ড বৃদ্ধির সুযোগ মনে করা হতো। কেননা কুমার সাঙ্গাকারার একমাত্র ট্রিপল সেঞ্চুরি, চামিন্দা ভাসের একমাত্র হ্যাট্রিক আর মাহেলা জয়াবর্ধানের একটানা চারটি দেড়শ প্লাস ইনিংস একথার পক্ষে প্রমাণ দেয়। এখানকার শ্রীলঙ্কা দলে আগের মতো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো তেমন খেলোয়াড় নেই এবং বাংলাদেশও আগের মতো দূর্বল নেই। এখন টাইগারদের যেকোন দলেই সমীহা করে। সর্বশেষ নিদাহাস ট্রফিতে তো তাদের হারিয়েই বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে ফাইনাল খেলেছে। তাই আশা করা যায়, সিরিজ জয়ের জন্য দুদলেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবে।

ব্যাটিংঃ শ্রীলঙ্কা দলে সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধানে নেই তবে আভিষ্কা ফার্নান্ডো ও সানাকার মতো প্রতিভাবান এবং অ্যাঞ্জালো ম্যাথিউস ও থিসারা ফেরারার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান রয়েছে। আর বাংলাদেশের তামিম ও মুশফিকের অভিজ্ঞতার সাথে মিশেল হবে লিটন-সৌম্য-মোসাদ্দেকের মারকাটারি ব্যাটিং তাই বলা চলে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

বোলিংঃ যেদেশের মালিঙ্গার মতো ভয়ংকর বোলার থাকে সেখানে তেমন আর বিধ্বংসী বোলারের প্রয়োজন হয় না। এছাড়া শ্রীলঙ্কা দলে রয়েছে উদানা ও জসুরিয়ার মতো কার্যকরী বোলার। এক্ষেত্রে রুবেলের গতির সাথে তাসকিনের বাউন্সার আর মোস্তাফিজের স্লোয়ার নিয়ে গড়া বাংলাদেশের বোলিং বিভাগ খুব বেশী পিছিয়ে নেই। সুতরাং দুদলের বোলিং শক্তি প্রায়ই সমান।

ফিল্ডিংঃ কথায় আছে ক্যাচ মিস তো ম্যাচ মিস। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা বেশ কয়েকবার হয়েছে। অনেকেই মনে করেন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ মিসের কারণেই বাংলাদেশ সেমিফাইনাল খেলতে পারেনি। সেক্ষেত্রে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা অনেক ভালো ফিল্ডিং করেছে। এই বিভাগে বাংলাদেশের চেয়ে শ্রীলঙ্কায় এগিয়ে।

যত হিসাব নিকাশ কিংবা সমীকরণই দেওয়া হোক না কেন, ম্যাচে তিন বিভাগেই যেদল ভালো করবে সেদলই সফল হবে। এই সফলতার ধারাবাহিকতা সিরিজ জিতাবে।